মঙ্গলবার ৩ নভেম্বর ২০২৬

হয় ৫ লাখ টাকা, না হয় জামায়াত বানিয়ে ক্রসফায়ার: এএসআইয়ের দম্ভোক্তি

‘পাঁচ লাখ টাকা দিতে হবে নইলে জামায়াত-শিবির বানিয়ে ক্রসফায়ার’ কথাটি ডিএমপির কাফরুল থানার একজন সহকারী উপপরিদর্শকের। গত ৫ মে পল্লবী এলাকা থেকে আমির আলী ফকির নামের এক ওলামা লীগ নেতাকে আটকের পর এভাবে টাকা দাবি করেন তিনি।

pratibadi_1274370900_2-1দারোগার দাবি অনুযায়ী প্রথমে নগদ ১ লাখ পরে ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। কিন্তু নাছোড়বান্দা ওই দারোগা প্রতিনিয়ত বাকি টাকার জন্য বিভিন্নভাবে মানসিক টর্চার করছেন ভুক্তভোগীকে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে এএসআই হাছান বলেছেন, ঘটনাটি সত্য নয়। কত মানুষকেই আটক করা হয়। কিন্তু আমির নামের কোনো লোককে তিনি আটক করেননি। থানায়ও কোনো রেজিস্টারে তার নাম নেই বলে জানান তিনি।

এদিকে, আমির আলী ফকির এ সংক্রান্ত ওই দারোগার হাত থেকে রেহাই পেতে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, আইজিপি, ডিএমপি কমিশনার ও সংশ্লিষ্ট জোনের উপকমিশনারের বরাবরে অভিযোগ দায়ের করেছেন। ওই অভিযোগে বলা হয়, গত ৫ মে ১৪ নম্বর ব্যাটালিয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে থেকে আমির আলী ফকিরকে কাফরুল থানার এসআই প্রেমদাস এএসআই হাছান অনেকটা জোর করে মাইক্রোবাসে তোলেন। পরে তার কাছে নগদ ৫ লাখ টাকা দাবি করেন। তার পকেট থেকে ওলামা লীগের পরিচয় জানার পর আরও ক্ষেপে ওঠেন ওই দারোগা। ফকিরকে জামায়াত-শিবির বানানোর হুমকি দেন। পরে তাকে নেওয়া হয় কাফরুল থানায়। কিন্তু লকাপে ঢোকানো হয়নি তাকে। থানার চারতলায় নিয়ে দেনদরবার চলে।

উপায়ন্তর না পেয়ে আমির আলী ফকির তার বাসায় স্ত্রীকে ফোন দিয়ে ধার করে নগদ ১ লাখ টাকা ওই দুই দারোগাকে দেন। কিন্তু এতে মুক্তি না দেওয়ায় আরও ২০ হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে দিলে মধ্যরাতে ছেড়ে দেওয়া হয় তাকে। এএসআই হাছান পরে গেঞ্জি কেনার কথা জানিয়ে আরও ৫ হাজার টাকা দাবি করেন। এতে অপরাগতা প্রকাশ করলে তাকে মামলায় জড়ানো হবে বলে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় ওই দারোগার হাত থেকে রেহাই পেতে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

নিউজওয়ার্ল্ডবিডি.কম

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *