বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

ছবি প্রকাশের পরও নির্বিকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় যৌন হয়রানীর ঘটনায় পুলিশ গত ১৭ মে টিভি ফুটেজ দেখে নিপীড়কদের ৮ জনের ছবি প্রকাশ করেছে। তবে এই ইস্যুতে যেন কোন মাথা ব্যথা নেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও এখনো পর্যন্ত তাদের কোন দৃশ্যমান পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। এমনটাই অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বাম সংগঠনগুলোর।

251বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখে নারী নিপীড়নের ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নাসরিন আহমেদকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ১৭ মে এ কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু তদন্তে কোন রকম অগ্রগতি না হওয়ায় আরো বেশ কয়েকদিন সময় চেয়েছে এই কমিটি।
শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শুধু বিশ্ববিদ্যালয় কেন আমাদের দেশের তদন্ত কমিটিগুলোর অবস্থা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মত। যার শুরু আছে কিন্তু কোন শেষ নেই। তদন্তে বিলম্ব করার ফলে এধরনের বড় ইস্যুগুলো একসময় ধামাচাপা পড়ে যায়। তাই তদন্ত কমিটির কাজ দ্রুত শেষ করা দরকার বলে জানান তারা।

এদিকে অপরাধীদের সহজে গ্রেফতার করার লক্ষ্যে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিপীড়কদের ছবি সম্বলিত পোস্টার ছাপানোসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে তা ছড়িয়ে দেয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহবান জনিয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার মনোভাব তৈরি হবে বলেও জানান তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি সম্পর্কে ছাত্র ইউনিয়নের ঢাবি শাখা সভাপতি লিটন নন্দি বলেন, ওটা যে কিসের তদন্ত কমিটি তা নিয়ে আমাদের মনে প্রশ্ন জাগে। কারণ প্রতিবেদন জমা দেয়ার আগেই তদন্ত কমিটির পক্ষ থেকে বলা হল প্রক্টর তার দায়িত্বে কোন ধরনের অবহেলা করেনি। এধরনের কথা একদমই অযৌক্তিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমাদের পক্ষ থেকে চিহ্নিত নিপীড়কদের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। তবে প্রশাসনের এবিষেয়ে আরো বিস্তৃত প্রদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার।

এবিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ড. এম আমজাদ আলী বলেন, স্পষ্ট ছবি ও প্রমাণাদি না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয় এখনো তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি। তাই প্রতিবেদন জমা দেয়ার আগ পর্যন্ত কোন ধরনের কর্মসূচি হাতে নেয়া যাচ্ছে না। এছাড়া পোস্টার ছাপানো কিংবা সচেতনতামূলক যেকোন কর্মসূচি গ্রহণ করার দায়িত্ব পুলিশের তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরবর্তীতে এ ধরনের কর্মসূচি হাতে নিলে তা জানান হবে।

আরও পড়ুন