জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশে ১৩০২ জন খুন হয়েছেন। এর মধ্যে রাজনৈতিক সহিংসতায় মারা গেছে প্রায় দেড়শ জন। বেশিরভাগ মারা গেছে যানবাহনে আগুন লাগানো ও বোমা বিস্ফোরণের তবে এর মধ্যে অনেকগুলো মৃত্যুর ঘটনাই পুলিশের ওই হিসাবে স্থান পায়নি। এগুলোর মধ্যে গুটিকয়েক ঘটনা ‘খুন’ হিসেবে স্থান পেয়েছে।
পুলিশের নথিপত্রে দেখা গেছে খুনের নেপথ্যে পারিবারিক দ্বন্দ্ব থেকে শুরু করে মাদক ব্যবসা, জমি দখল, অবৈধ সম্পদ, অস্ত্র ব্যবসা, টেন্ডার প্রতিযোগিতা, ডাকাতি, প্রভাব বিস্তার ও রাজনৈতিক কারণ ছিল। আর এসবের মধ্যে যে সব ঘটনায় থানায় অভিযোগ জানানো হয়েছে, কেবল সেগুলোই স্থান পেয়েছে এ হিসাবে।
পুলিশ সদরদফতরের দেওয়া তথ্যমতে, ২০১৫ সালের প্রথম চার মাসেই দেশে মোট ১৩০২ জন খুন হন। জানুয়ারিতে ৩২৯, ফেব্রুয়ারিতে ৩০৯, মার্চে ৩৩৭ ও এপ্রিলে ৩২৭ জন। আর এর মধ্যে ঢাকা রেঞ্জে খুন হয়েছে- জানুয়ারিতে ১০০, ফেব্রুয়ারিতে ৯৩, মার্চে ১১৪ ও এপ্রিলে ৯৮ জন।
রাজনৈতিক দ্বন্দ্বই হোক বা ব্যক্তিগত ক্রোধ; গত পাঁচ বছরে দেশে খুনের হার বেড়েছে আশঙ্কাজনক হারে। আর এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি খুনের ঘটনা ঘটেছে রাজধানী ঢাকায়।
ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি পুলিশ এসএম মাহফুজুল হক জানান, সাম্প্রতিক অনেকগুলো ঘটনার গতি করতে পেরেছে পুলিশ এবং এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সম্প্রতি আশুলিয়ায় ব্যাংক ডাকাতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এ ঘটনার কিনারা করতে তারা সফল হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের অফিসাররা সারাক্ষণই সতর্ক। ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ স্পটগুলোতে সবসময়ই পুলিশের প্রহরা রয়েছে। তবে কিছু কিছু ঘটনা আমাদের চোখ এড়িয়ে যায়, কারণ আমাদের জনবলের ঘাটতি রয়েছে।’
র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালন কর্নেল জিয়াউল আহসানও দাবি করেছেন, এ সময়ে তারা বেশকটি মামলার কিনারা করেছেন এবং স্থানীয় ও ভিনদেশি অনেক অপরাধী গ্রেফতার হয়েছে।
তবে বিচারবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা মহানগরীতে গত সাড়ে তিন-চার বছরের মধ্যে কোনও ঘটনাই চূড়ান্ত শান্তি পর্যন্ত গড়ায়নি। ওই সূত্র আরও জানায়, এই সময়ের মধ্যে মাত্র ১০০-১৫০টি খুনের ঘটনার চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে। খুনের শিকার হওয়া পরিবারগুলোও জানিয়েছে, খুনিরা জামিন নিয়ে বের হয়ে তাদের হুমকি ধামকি দিয়ে যাচ্ছে।
২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জের নজরুল ইসলাম বাবু হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত আসামি জামিনে ছাড়া পেয়ে মামলার বাদী ও নিহতের বাবা জালালউদ্দিনকে অপহরণ করে খুন করে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান জিয়া রহমান জানান, ‘আমাদের বিচার ব্যবস্থা আধুনিক নয়। পুলিশ ও অপরাধী বিচার ব্যবস্থা সম্পর্কযুক্ত। অপরাধীরা যতই শাস্তি এড়িয়ে যেতে পারবে, অপরাধ ততই বাড়বে।’
এমন অবস্থায় গোটা ব্যবস্থাটাকে বদলে দিতে না পারলে পরিস্থিতি লাগামছাড়া হয়ে যেতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী এলিনা খান বলেন, ‘আমরা এখন দেখছি সন্ত্রাসীরা মানুষের শোবার ঘরে ঢুকে পরিবারের লোকদের সামনেই খুন করে আসছে। দেশের আইন শৃঙ্খলার অবস্থা কেমন তা এসব ঘটনা দেখলেই বোঝা যায়।’
সাগর-রুনি ও ফারুকি হত্যাকাণ্ডের পর অভিজিৎ, ওয়াশিকুর ও অনন্ত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনের মানবাধিকার কর্মীরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
যোগাযোগ করা হলে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) একেএম শহীদুল হক জানান, ব্লগারদের হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে।
সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ অনুযায়ী পুলিশে নতুন করে ৫০ হাজার পদ তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যার অংশ হিসেবে প্রথম ধাপে ১০ হাজার পুলিশ সদস্য নিয়োগে প্রয়োজনীয় অনুমোদনও পাওয়া গেছে।
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি.কম



Leave a Reply