বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

সানি-তামান্না আগুন ঝড়া অ্যাথলেট: রেকর্ডের ফুলঝুড়ি

Athletলাল-সবুজের পতাকা বিদেশের মাটিতে পত পত করে ওড়ানোর প্রত্যয় নিয়ে এগোতে চায় সাইফুল ইসমাইল সানি। জাতীয় জুনিয়র অ্যাথলেটিকসে জাতীয় রেকর্ড গড়ে দ্রুততম কিশোরের খেতাব জিতেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সানি। ১০.৫৩ সেকেন্ড সময় নিয়ে জাতীয় রেকর্ড গড়ে বিকেএসপির এই অ্যাথলেট। আগের রেকর্ড ছিল বিকেএসপির আরিফুল ইসলামের। ২০১২ সালে ১০.৮৫ সেকেন্ড সময় নিয়ে রেকর্ড গড়েছিল আরিফ। প্রতিযোগিতায় দ্রুততম কিশোরীর খেতাবও জিতেছে বিকেএসপি। টানা দু’বার খেতাব জিতল সুনামগঞ্জের তামান্না। শনিবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ১৩.৩৬ সেকেন্ড সময় নিয়ে ১০০ মিটার স্প্রিন্টে স্বর্ণ জেতে এই কিশোরী। গত বছর ১২.৮০ সেকেন্ড সময় নিয়ে দ্রুততম কিশোরী হয়েছিল তামান্না। হতে চেয়েছিল ফুটবলার। ট্রায়াল দিতে গিয়ে ফুটবল কোচদের নজরে পড়ে সানি। তাদের পরামর্শে ফুটবলার হওয়ার ইচ্ছা বাদ দিয়ে অ্যাথলেটিকসে নাম লেখায়। প্রথমদিকে ভালো লাগত না। ফুটবলই ছিল তার ধ্যানজ্ঞান। পরে ধীরে ধীরে দৌড় ভালো লাগতে শুরু করে। এখন দৌড় ছাড়া তার আর কোনো ধ্যানজ্ঞান নেই। ২০১১ সালে প্রথম প্রতিভা অন্বেষণের মাধ্যমে অ্যাথলেটিকসের প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে সুযোগ পায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের কালিচ্চরের এই ছেলে। ২০১২ সালে ২০০ ও ৪০০ মিটার স্প্রিন্টে স্বর্ণপদক জেতে সানি। পরের বছরও ওই দুটি স্বর্ণ তার হাতছাড়া হয়নি। মনে জেদ ছিল ১০০ মিটার স্প্রিন্টে স্বর্ণ জেতার। এবার তা পূরণ হয়েছে। উসাইন বোল্টকে আদর্শ ধরে এগিয়ে যেতে চায় সানি। এ মাসেই কাতারের দোহায় এশিয়ান ইয়ুথ চ্যাম্পিয়নশিপে ১১.৩০ সেকেন্ড নিয়ে ১৩তম হয়। সানির কথা, ‘আমার লক্ষ্য শুধু দেশ নয়, বিদেশের মাটিতেও সাফল্য পাওয়া। পর্যাপ্ত অনুশীলন ও সহযোগিতা পেলে আমি একসময় দেশের লাল-সবুজ পতাকা বিদেশের মাটিতে ওড়াতে সমর্থ হব।’

দ্রুততম কিশোরী তামান্না নিয়মিত হ্যান্ডবলও খেলে। আন্তঃস্কুলে সাফল্য পাওয়ার পর ২০০৯ সালে বিকেএসপিতে ভর্তি হয় তামান্না। এখন এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। সাবেক অ্যাথলেট কোচ কিতাব আলীর উৎসাহে তামান্না অ্যাথলেটিকসে এসেছে। সম্পর্কে কিতাব আলীর নাতনি সে। চলতি আসরে ১০০ মিটার স্প্রিন্ট ছাড়াও ২০০, ৪০০, লংজাম্প ও হাইজাম্পেও স্বর্ণ জিতেছে তামান্না। গত আসরেও ১০০ মিটারের পাশাপাশি ২০০ ও ৪০০ মিটারের স্বর্ণ ছিল তার দখলে। স্বর্ণ জয়ের পর আবেগঘন কণ্ঠে তামান্না বলে, ‘আমি সাউথ এশিয়ান গেমসে ২০০ মিটার স্প্রিন্টে স্বর্ণ জিততে চাই। এজন্য আমার প্রয়োজন নিবিড় অনুশীলন। আমি কৃতজ্ঞ বিকেএসপির কর্তৃপক্ষ ও কোচদের কাছে। শেলি অ্যান ফ্রেজার-প্রাইস আমার আইকন। বাংলাদেশের শিরিন আক্তারের স্প্রিন্ট এবং চুমকির রানিং ও টেকনিক ভালো লাগে। আমি অনেক দূর যেতে চাই। এজন্য দেশবাসীর দোয়া ও সমর্থন প্রয়োজন।’

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *