বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

স্থলসীমান্ত চুক্তিতে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিকতা শেষ

ভারতের সাথে স্বাক্ষরিত স্থলসীমান্ত চুক্তি সমর্থনের প্রস্তাবে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সম্মেলনকক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সংক্রান্ত প্রোটোকলের অনুমোদন দেওয়া হয়। এছাড়া  ছিটমহলে বসবাসকারীদের নাগরিকত্ব নির্ধারণে নাগরিকদের ইচ্ছাকেই প্রাধান্য দেওয়া হবে বলে আগের সিদ্ধান্তকেও অনুমোদন দেওয়া হয়।

২০১১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের সময় দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে এ সংক্রান্ত প্রটোকল সই হয়। ভারতের লোকসভায় স্থল সীমান্ত চুক্তি অনুমোদন না হওয়ায় প্রটোকলটি এত দিন কার্যকর হয়নি। সম্প্রতি ভারতের লোকসভায় চুক্তিটি অনুমোদন হওয়ায়  সোমবার বাংলাদেশের মন্ত্রিসভায় প্রটোকলটি অনুমোদন হয়েছে।

ঢাকায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইয়া সাংবাদিকদের বলেন, মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি নামে খ্যাত চুক্তিটি ১৯৭৪ সালে স্বাক্ষরিত হয়। ওই সময় ছিটমহল ও অমীমাংসিত ভূমি বিনিময়ে জাতীয় সংসদে চুক্তিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। কিন্তু তখনকার ভারতীয় সংসদ চুক্তিটির চূড়ান্ত অনুমোদন না দেওয়ায় চুক্তিটি তখন বাস্তবায়িত হয়নি। সেই থেকে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ভূমি বিরোধ থেকেই যায়।

সর্বশেষ ২০১১ সালে ইন্দিরা চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনা ও মনমোহন সিং একটি প্রটোকল সই করেন। এরপর সম্প্রতি ভারতীয় পার্লামেন্ট চুক্তিটি বাস্তবায়নের জন্য অনুমোদন দিয়েছে। ফলে চুক্তিটি বাস্তবায়নের পথ খুলে যায়।

মন্ত্রিপরিষদসচিব বলেন, আজ এই প্রোটোকলে বাংলাদেশের মন্ত্রিসভার অনুমোদনের ফলে এই চুক্তি বাস্তবায়নের সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলো। এবার শুরু হবে জমি হস্তান্তর প্রক্রিয়া। এই চুক্তি বাস্তবায়ন সম্পন্ন হওয়ার পর বাংলাদেশের ভেতরে থাকা ভারতের ১১১টি ছিটমহলের মালিক হবে বাংলাদেশ। এর আয়তন ১৭ হাজার ১৬০ একর। আর ছিটমহলের বাসিন্দা ৩৭ হাজার ২৮৬ জন।

অপরদিকে ভারতের ভেতরে থাকা বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহলের মালিক হবে ভারত। যার আয়তন সাত হাজার ১১০ একর। আর এর জনসংখ্যা ১৪ হাজার ৯০ জন।

সচিব আরো জানান, এর বাইরেও দুই দেশের মধ্যে অপদখলীয় ভূমির ব্যাপারটিও চূড়ান্ত করা হয়। এর আওতায় বাংলাদেশের দখলে থাকা প্রায় দুই হাজার ৭৭৭ একর জমি ভারতকে ফেরত দেওয়া হবে। আর ভারতের কাছ থেকে বাংলাদেশ ফেরত পাবে দুই হাজার ২৬৭ একর জমি।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের ছিটমহল যে দেশে অবস্থিত, বসবাসকারী নাগরিকেরা সেই দেশের নাগরিক হওয়ার সুযোগ পাবেন। প্রাথমিকভাবে ধরে নেওয়া হচ্ছে, ছিটমহলটি যে দেশে অবস্থিত, বসবাসকারীরা সেই দেশেরই নাগরিক হতে চাইবেন। তবে, কেউ চাইলে তাঁদের পূর্ববর্তী দেশের নাগরিক হওয়ারও সুযোগ থাকবে।

ছিটমহলে বসবাসরতদের নাগরিকত্বের ব্যাপারে নাগরিক অভিপ্রায় প্রাধান্য পাবে—এমনটা জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বাংলাদেশের ভেতরে ভারতের ১১১টি ছিটমহলে মোট জমির পরিমাণ ১৭ হাজার ১৬০ দশমিক ৬৩ একর। জনসংখ্যা ৩৭ হাজার ৩৮৬ জন। অন্যদিকে, ভারতের ভেতরে থাকা বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহলের আয়তন সাত হাজার ১১০ দশমিক ২ একর। জনসংখ্যা ১৪ হাজার ৯০ জন। অর্থাৎ, বাংলাদেশ ছিটমহলের ১০ হাজার ৫০ দশমিক ৬১ একর জমি বেশি পাবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের বেশির ভাগ জায়গা চিহ্নিত থাকলেও ৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার এলাকা চিহ্নিত করা ছিল না। পঞ্চগড়, মৌলভীবাজার ও ফেনীর কিছু এলাকায় এই সীমানা এত দিন চিহ্নিত ছিল না। এ ছাড়া তিন বিঘা করিডোর ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে বলেও জানান তিনি।

দুই দেশের অবৈধ দখলে থাকা জমি প্রসঙ্গে সচিব বলেন, ভারতের দখলে ছিল বাংলাদেশের ২ হাজার ২৬৭ দশমিক ৮৮ একর জমি। আর ভারতের জমি বাংলাদেশের দখলে ছিল ২ হাজার ৭৭৭ দশমিক ১৪ একর জমি। অর্থাৎ ৫০৯ দশমিক ২৬ একর বেশি জমি বাংলাদেশের দখলে ছিল। তিনি আরও বলেন, দুই দেশের অনুমোদন চূড়ান্ত হয়েছে, এখন বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু হবে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আসন্ন বাংলাদেশ সফরের সময় এ বিষয়টির অগ্রগতি হবে বলে জানান তিনি।

নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *