মঙ্গলবার ৩ নভেম্বর ২০২৬

ছাত্রলীগে পদ পেতে তদবির: নেতৃত্বের বয়স বাড়ানোর দাবি

bcl-logo_139251ক্ষমতাশীল দলের সবচেয়ে প্রভাবশালী সহযোগী সংগঠনের কারণে নানা কারণে আলোচিত-সমালোচিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগ জাতীয় সম্মেলন আয়োজনের পাশাপাশি সংগঠনকে গোছানোর কার্যক্রম চালাচ্ছে। আগামী ২৫ ও ২৬ জুলাই ছাত্রলীগের ২৮তম জাতীয় সম্মেলন। এর আগে পর্যায়ক্রমে ঢাকা মহানগর (উত্তর ও দক্ষিণ) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সম্মেলন হবে। সবিমিলিয়ে ছাত্রলীগে এখন চলছে নতুন কমিটিগুলোতে পদ পেতে জোর তদবির। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে আগ্রহীরা জোর তদবির শুরু করেছেন। আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের বাসায় যাচ্ছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনেও তাদের সরব উপস্থিতি। সুযোগ পেলে অনেকে সচিবালয়ে মন্ত্রীদের সঙ্গে দেখাও করছেন। তবে এবার নেতৃত্বের নির্ধারিত সর্বোচ্চ বয়স ২৯ থেকে বাড়ানোরও দাবি করছেন নেতাকর্মীরা। কারণ, ‘কিছু বুঝে ওঠার আগেই’ নাকি তাদের বয়স পেরিয়ে যাচ্ছে!

দুই বছর মেয়াদের জাতীয় সম্মেলন চার বছর পর হলেও ওই দুষ্ট চক্রকে সংগঠন থেকে তাড়ানোর পাশাপাশি নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে সংগঠনের ত্যাগী নেতাকর্মীরা মনে করেন। এ কারণে প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। যোগ্য নেতারা নতুন দায়িত্ব পেতে উদগ্রীব। কেন্দ্রের পাশাপাশি ঢাকা মহানগর (উত্তর ও দক্ষিণ) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সম্মেলনকে কেন্দ্র করেও পদপ্রত্যাশীরা এখন ব্যস্ত লবিং-তদবিরে। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনেও এসব পদপ্রত্যাশীদের দেখা মিলছে।

২০১১ সালের ১০ ও ১১ জুলাই সম্মেলনের মধ্য দিয়ে এইচএম বদিউজ্জামান সোহাগ ও সিদ্দিকী নাজমুল আলমের নেতৃত্বাধীন বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির পথচলা শুরু। গঠনতন্ত্র অনুসারে এই কমিটির দুই বছর দায়িত্বে থাকার কথা। সেখানে কমিটির বয়স প্রায় চার বছর হতে চলেছে। অবশ্য এর আগের কমিটিগুলোর বেলায়ও একই অনিয়ম হয়েছে।

নেতাকর্মীদের মধ্যে কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা হওয়ার বয়সসীমা নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। গঠনতন্ত্রে ২৭ বছরের কথা বলা হলেও গত দুটি কমিটিতে নেতা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৯ বছরের বয়সসীমার মধ্যে। ওই দুই কমিটি নির্ধারিত সময়ে সম্মেলন করতে পারেনি। বলা হচ্ছে, ১০১টি জেলা শাখার কার্যক্রম বুঝে উঠতেই নতুন নেতাদের দুই বছর সময় শেষ হয়ে যায়। আবার তারা যখন সবকিছু বুঝে দক্ষ হয়ে ওঠে, তখন তাদের আরেক দফায় কেন্দ্রীয় নেতা হওয়ার বয়স ফুরিয়ে যায়। এ কারণে পরিপকস্ফ নেতৃত্ব বাছাইয়ের জন্য বয়সসীমা বাড়ানোর দাবি উঠেছে।

নেতাকর্মীদের প্রশ্ন, গত দুই বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও ২৯ বছরের বয়সসীমা ধরা হলে তার হিসাব কবে থেকে শুরু হবে- সম্মেলনের তারিখ ঘোষণার দিন পর্যন্ত নাকি গঠনতন্ত্রের দুই বছর মেয়াদ পর্যন্ত, না সম্মেলনের দিন পর্যন্ত? একাধিক নেতা বলেন, জেলা ও উপজেলা নেতারা কেন্দ্রের চেয়ে সিনিয়র হলে সেখানে কেন্দ্রের কমান্ড প্রতিষ্ঠা করা দুরূহ হয়। তাই তৃণমূলের চেয়ে অপেক্ষাকৃত কিছুটা সিনিয়র ও সাংগঠনিকভাবে দক্ষদের কেন্দ্রীয় নেতা করা উচিত। এ কারণে অনেকেই কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাদের বয়স ৩২ বছর করার দাবি তুলেছেন।

জেলা, মহানগর ও উপজেলা শাখার নেতা নির্বাচন হচ্ছে ২৯ বছর বয়সসীমা মেনে। ঢাকা উত্তর মহানগর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য ২৯ বছরের বয়সসীমা নির্ধারণ করে ফরম বিক্রি শুরু হয়েছে। নেতারা বলছেন, সাংগঠনিক জেলার নেতা বাছাইয়ের বেলায় ২৯ বছরের বয়সসীমা নির্ধারণ করা হলে কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা বাছাইয়ের বেলায় বয়সসীমা অন্তত এক বছর বাড়িয়ে দেওয়া উচিত। এতে বয়সের দিক থেকে বড় হওয়ায় জেলা নেতাদের স্বচ্ছন্দে সাংগঠনিক নির্দেশ দিতে পারবেন কেন্দ্রীয় নেতারা।

এসব হিসাব-নিকাশের কারণেই সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে আগ্রহী নেতারা অস্বস্তিতে ভুগছেন। কেন্দ্রীয় কমিটিতে পরিপক্ক নেতৃত্ব আনার চিন্তা রেখে বয়সসীমা বাড়ানো হলে নতুন নেতা হওয়ার দৌড়ে মাঠে নামবেন জয়দেব নন্দী, শামসুল কবির রাহাত, মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক, হাসানুজ্জামান তারেক, আবদুর রহমান জীবন, শারমিন সুলতানা লিলি, শেখ রাসেল, মেহেদী হাসান, ওমর শরীফ প্রমুখ। এই নেতাদের মধ্যে শামসুল কবির রাহাত আলোচনার পুরোভাগে রয়েছেন।

তা ছাড়া এখন পর্যন্ত ছাত্রলীগ পরিমণ্ডলে আলোচিত শীর্ষ দুই পদপ্রত্যাশী হলেন- আজিজুল হক রানা, কাজী এনায়েত, আসাদুজ্জামান নাদিম, আবিদ আল হাসান, বিপ্লব হাসান পলাশ, আরিফুজ্জামান লিমন, ইমতিয়াজ বাপ্পী, গোলাম রাব্বানী, মফিদুল ইসলাম মুহিত, এনামুল হক প্রিন্স, আরিফুজ্জামান রোহান, এইচএম আল আমিন আহমেদ, ওয়ালিউর রহমান বিপুল, রাশেদুল ইসলাম রাসেল প্রমুখ। তারা বয়সের সময়সীমা নির্ধারণের পর কোন পদে প্রার্থী হবেন, তা ঠিক করবেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: কেন্দ্রীয় সম্মেলনের আগে আগামী ১১ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সম্মেলন। এখানে প্রধান দুই পদ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের জন্য লড়বেন আদিত্য নন্দী, মোবারক হোসেন, রিফাত জামান, আল নাহিয়ান খান জয়, রুহুল আমিন রুহুল, ইয়াজ আল রিয়াদ, শহিদুজ্জামান মিরাজ, মসনদ আলী, রাসেল মাহমুদ, চৈতি রানী বিশ্বাস, হান্নান হোসেন তালুকদার, রাকিবুল আলম সৌরভ, আসাদুজ্জামান আসাদ, ইলিয়াস সানি, অসীম বৈদ্য, শেখ ফয়সল, মেহেদী হাসান রনি, দারুস সালাম শাকিল, নিজামুল হক দিদার, সায়েম হক, এস এইচ এম শাহ আলম সাদ্দাম, আপেল মাহমুদ সবুজ প্রমুখ।

ঢাকা মহানগর: ২৮ মে ঢাকা মহানগর উত্তর এবং ৩০ মে দক্ষিণ শাখার সম্মেলন নিয়ে ব্যাপক তোড়জোড় শুরু হয়েছে। এর মধ্যে গত শনিবার পর্যন্ত উত্তরের সভাপতি পদে ৩৩ জন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ২৬ জন ফরম সংগ্রহ করেছেন বলে জানান উত্তর শাখার সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক রানা। আগামীকাল সোমবার থেকে ঢাকা দক্ষিণ মহানগর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য ফরম বিক্রি শুরু হবে।

উত্তরে সভাপতি পদের জন্য লড়ছেন আবদুস সালাম, আরিফুল ইসলাম হৃদয়, রকিবুল ইসলাম, মাহবুবুর রহমান, ইকবাল হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান, শহিদুল ইসলাম শান্ত, তাজুল ইসলাম রুবেল, হানিফ মহসিন, মোহাম্মদ ইব্রাহিম, সৈয়দ মিজানুর রহমান, হান্নান হাওলাদার শাওন, মাসুদ করিম, সোহাগ উদ্দিন, আজিজুল হক, মাইনুল হাসান তুরান, আইসুল ইসলাম, মাঈনুদ্দিন হুসাইস মামুন, তাজুল ইসলাম, মাহমুদুন্নবি মামুন, মিনহাজুল আবেদীন, নুরুল ইসলাম আসিফ, আবিদুল ইসলাম, কামারুজ্জামান রাশেদ, ফুয়াদ ফয়সাল, রহমতউল্লাহ সরকার, পীযূষ কান্তি মজুমদার পার্থ, আসাদুজ্জামান সোহেল, মাহিন আহমেদ, ফজলুল হক ফজলু, সাইফুল আলম মোল্লা, আবদুল্লাহ রানা ও কাজী জাহিদুল ইসলাম রিয়াদ।

সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন রহমত উল্লাহ সরকার লিখন, ইমাম হাসান, সালমান খান প্রান্ত, নাসির উদ্দিন চৌধুরী অন্তু, শরীফুল ইসলাম শাওন, সাইফুল ইসলাম মুন্না, সৈয়দ মিজানুর রহমান, সোহেল হোসেন, ইসমাইল হোসেন তপু, মেহেদী হাসান ফারুক, হাসিম উদ্দিন রফি, রিয়াজ মাহমুদ, ইয়াকুব আলী, শাকিল ইসলাম রাবি্ব, হাসান মাহমুদ, তাজুল ইসলাম, আবদুল্লাহ সরকার মিঠু, হান্নান হাওলাদার শাওন, মিলন মুন্না, ফুয়াদ ফয়সাল, মহিউদ্দিন আহমেদ, নজরুল ইসলাম, মেসবাহ উদ্দিন রাজন, এনামুল হক ফয়সাল, আরিফুর রহমান ও আবদুল রানা।

নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *