মঙ্গলবার ৩ নভেম্বর ২০২৬

আফ্রিকায় মারা গেলেন নীলকণ্ঠ, সুনামগঞ্জে মূর্ছা গেলেন সঞ্চিতা

Sunamganj--front20150527000806মাত্র আটদিন আগেই গৃহযুদ্ধ বিধ্বস্ত আফ্রিকার মালিতে গিয়েছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৈনিক নীলকণ্ঠ হাজং। মিশনে গিয়ে আর্থিক উন্নতির স্বপ্ন এখনো দেখা শুরুই করতে পারেনি তার পরিবার। কিন্তু এরই মধ্যে মানুষটি চলে গেল না ফেরার দেশে। জাতিসংঘ ও সেনাবাহিনী থেকে হয়তো আর্থিক সহযোগিতা ভালোই পাওয়া যাবে কিন্তু মানুষটি? সে তো আর ফিরবে না। কিন্তু এটাই তো সৈনিকের জীবন!

ঢাকার সেনা সদর দফতর থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে একটি ফোন পান সঞ্চিতা হাজং। সেই সঙ্গে চরম দুঃসংবাদটিও। পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালিতে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে থাকা স্বামী সেনা সদস্য নীলকন্ঠ হাজং বিদ্রোহীদের গুলিতে নিহত হয়েছেন। খবরটি শুনে টেলিফোন রাখতে না রাখতেই মূর্চ্ছা যান সঞ্চিতা। সেসময় তিনি ছিলেন বিশ্বম্ভরপুরে বাবার বাড়িতে।

খবর শোনার পর থেকেই বাকরুদ্ধ ছয়মাসের অন্তঃসত্ত্বা সঞ্চিতা হাজং (২৫)। নাওয়া-খাওয়া নেই। বিছানায় পড়ে আছেন। চোখ খুললেই স্বামীর জন্য আহাজারি করছেন। পরক্ষণেই আবার মূর্ছা যাচ্ছেন। সঞ্চিতার মা, ভাই-বোন, প্রতিবেশীরা যেন তাঁকে একটু স্বান্তনা দেওয়ার ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন। সবাই শোকে কাতর।

একই সঙ্গে খবর যায় নীলকণ্ঠ হাজংয়ের বাড়িতেও। কিন্তু তাঁর মাকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ছেলের মৃত্যু সংবাদ জানানো হয়নি। বলা হয়েছে ছেলে অসুস্থ। এই খবরেই বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন নীলকণ্ঠ হাজংয়ের মা অবন্তি হাজং। ছেলের জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠেছেন তিনি।

নীলকণ্ঠ হাজংয়ের বাড়ি সুনামগঞ্জের ধরমপাশা উপজেলার গিলাগরা গ্রামে। আর সঞ্চিতা দেবী হাজংয়ের বাবার বাড়ি জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার কাইতকোনা গ্রামে। তাঁদের বিয়ে হয় ২০১৩ সালে।

নীলকণ্ঠ হাজং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে যান গত ১৮ মে। এর তিনদিন আগে বাড়িতে এসে মা-বাবার আশীর্বাদ নিয়ে যান। সেখানে পৌঁছে আবার ফোন করেন বাড়িতে। বাবাকে জানান নিরাপদে পৌঁছার খবর। এরপর তাঁর ছোট ভাই সঞ্চিতাকে তাঁর বাবার বাড়ি বিশ্বম্ভরপুরের কাইতকোনা গ্রামে বেড়াতে নিয়ে আসেন। সঞ্চিতা হাজং সেখানে থাকা অবস্থায়ই মঙ্গলবার স্বামীর মৃত্যুর সংবাদ পান। পাঁচ ভাই দুই বোনের মধ্যে সঞ্চিতা চতুর্থ। বাবা স্বপন কুমার হাজং বেঁচে নেই।

নীল কণ্ঠ হাজংয়ের মামা ধরমপাশা উপজেলার ট্রাইবাল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আশুতোষ হাজং জানান, ২০০৩ সালে সেনাবাহিনিতে সৈনিক হিসাবে যোগ দেন নীলকণ্ঠ। তারা চার ভাই ও এক বোন। সকালে তাঁর বাবা রিজেন্দ্র হাজংকে ছেলের মৃত্যুর খবর জানানো হয়েছে।

কিন্তু মা অসুস্থ থাকায় তাঁকে বলা হয়েছে, নীলকণ্ঠ হঠাৎ সেখানে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এই খবরেই তিনি বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। বিকেলে তাকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়। রিজেন্দ্র হাজং জানান, চারদিন আগে ছেলের সঙ্গে কথা হয়েছে। আর কোনো কথা হয়নি।

নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *