উত্তর কোরীয় দূতাবাসের পর এবার ঢাকায় মিয়ানমার দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবৈধ মদ ব্যবসা চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা পাওয়া গেলেও পুলিশ দূতাবাসের ওই কর্মকর্তাদের কিছু বলছে না। আবার এর সঙ্গে জড়িতদের থেকে নিয়মিত মাসোহারা নেওয়ার কারণে পুলিশও আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ায় বিষয়টিকে থামাচ্ছে না। বিভিন্ন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
রাজধানী ঢাকার গুলশান, বনানী ও মহাখালী এলাকায় অবৈধ বিদেশী মদের ব্যবসার কথা এখন রাজধানীর সবার কাছেই জানা। কারও মদ প্রয়োজন হলেই এখন ওই এলাকাগুলোতে যোগাযোগ করেন। ওই এলাকায় প্রভাবশালী হয়ে উঠেছেন রিকশাচালক থেকে কোটিপতি বনে যাওয়া এক মদ ব্যবসার লাইনম্যান। সে এখন ওই এলাকার মদের ব্যবসার সিন্ডিকেটকে নিয়ন্ত্রণ করে। এই সিন্ডিকেটও অবশ্য পুলিশসহ ১১টি সংস্থাকে নিয়মিত মাসোহারা দেয়। ফলে কারই কিছু হয় না; চলছে অবৈধ মদের কারবার।
বনানী থানার একটি সূত্র জানায়, মদের বড় চালানসহ এই সিন্ডিকেটের লোকজনকে ধরা কঠিন। কারণ বড় চালান তারা মিয়ানমার দূতাবাসের গাড়িতে করে বহন করে। মদ পাচারের সঙ্গে জড়িত হিসেবে মিয়ানমার দূতাবাসের দুটি গাড়িকেও চিহ্নিত করা হয়েছে। এ দুটি গাড়ির নম্বর হল দ-৬৭-০২১ ও দ-৬৭-০১৯। এর একটি সবুজ লুসিডা ব্র্যান্ডের গাড়ি। অন্যটি সোনালি রংয়ের হানড্রেড কার।
বনানী থানার ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, দিনে অন্তত ১০ বার এ দুটি গাড়িতে মদ চোরাচালান হয়। কিন্তু দূতাবাসের গাড়ি হওয়ার কারণে পুলিশ এই দুটি গাড়িতে তল্লাশি চালাতে পারে না।
বনানী থানার আরেক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, শুধু গাড়ি নয় এই সিন্ডিকেটের মদ লুকিয়ে রাখার প্রধান জায়গা হচ্ছে বনানীতে অবস্থিত মিয়ানমার দূতাবাসের কর্মচারী আবাসিক এলাকা। বিশেষ করে ১, ৭ ও ৯ নম্বর রোডে বসবাসকারী অনেক মিয়ানমার নাগরিকের আবাসিক ফ্ল্যাটকে মদ রাখার গোডাউন হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
বিদেশী নাগরিকদের বাড়িতে অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে কিছু প্রতিবন্ধকতা থাকার সুযোগে এই কৌশলে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে এই সিন্ডিকেট।
সূত্র জানায়, ভোলা থেকে এসে প্রথমে রাজধানীতে রিকশা চালাতেন কবির। বনানী এলাকায় রিকশা চালানোর সময় তিনি এই মদ ব্যবসার সঙ্গে পরিচিত হন। একপর্যায়ে তিনি নিজেই এ এলাকায় মদ ব্যবসার সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। কবিরের এই মদ ব্যবসা চলছে অন্তত ১৫ বছর ধরে। এই অবৈধ মদ ব্যবসা করেই কবির এখন কোটিপতি। এখন ঢাকায় তিনি বিলাসবহুল একাধিক ফ্ল্যাটের মালিক। দামি ব্র্যান্ডের গাড়িতে তিনি চলাফেরা করেন। মদ ব্যবসার সুবাদে সমাজের বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলেও তার ওঠাবসা।
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম



Leave a Reply