ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকালে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ছক তৈরি করছে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নিরাপত্তা দিতে ১ জুন ঢাকায় আসছে ব্লাক ক্যাট কমান্ডো এবং এসপিজির অগ্রবর্তী দল (অ্যাডভান্সড টিম)।
এদিকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা তদারকি করতে এসএসএফ, এনএসআই, নবগঠিত এসপিবিএন, এসবি, এপিবিএন, র্যাব, ডিবি ও ডিএমপির চৌকশ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গড়ে তোলা হচ্ছে বিশেষ টিম। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর জন্য রাজধানী ঢাকাজুড়ে নেয়া হবে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা।
এর আগে গত সপ্তাহে ব্লাক ক্যাট কমান্ডোর আরেকটি টিম ঢাকায় এসে আইনশৃংখলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেছেন। একই সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সম্ভাব্য বৈঠকস্থল এবং রাত যাপনের স্থান পরিদর্শন করেছে।
সূত্র বলেছে, অগ্রবর্তী দলের সঙ্গে ঢাকায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নিজস্ব বাবুর্চি। নিরামিষভোজী মোদির জন্য নির্ধারিত বাবুর্চিরাই রান্না করবেন। তবে তার সফর সঙ্গীদের জন্য হোটেল সোনারগাঁওয়ে রান্না করা হবে।
সূত্রগুলো বলেছে, ৩ জুন থেকে ধাপে ধাপে সোনারগাঁও হোটেলের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবে এসপিজি এবং ব্লাক ক্যাট কমান্ডোর শতাধিক সদস্য। ওই সময় থেকে ৭ জুন পর্যন্ত আর কোনো অতিথি গ্রহণ করবে না হোটেল সোনারগাঁও কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ও ইন্ডিয়া হাউজ-এ অবস্থান নেবে ওই দুই সংস্থার সদস্যরা। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে ৩ জুন থেকেই মূলত শুরু হবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
নরেন্দ্র মোদির গাড়ি বহরে থাকবেন ভারতের এসপিজি, ব্লাক ক্যাট কমান্ডোজ এবং বাংলাদেশের এসএসএফ সদস্যরা।
যদিও ঢাকায় অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মূল নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে সে দেশের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা স্পেশাল প্রটেকশন গ্রুপ (এসপিজি) ও কমান্ডো ফোর্স ব্লাক ক্যাটের সদস্যরা। এর বাইরে বাংলাদেশের স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) ও স্পেশাল সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রটেকশন ব্যাটালিয়ন (এসপিবিএন) সদস্যরা ঘিরে থাকবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। আগামী ৬ জুন নির্ধারিত ৩৬ ঘণ্টার সফরে ঢাকায় আসছেন নরেন্দ্র মোদি।
আইনশৃংখলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা জানান, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা সফরের আগের দিন রাত থেকে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে যেখানে তিনি অবস্থান করবেন সেখানে, গণভবনসহ সংশ্লিষ্ট সব পথ নিরাপত্তার চাদরে ডেকে ফেলা হবে। একই সঙ্গে রাজধানীজুড়ে গ্রহণ করা হবে নিরাপত্তা।
এক্ষেত্রে এসএসএফ ও এসবির বিশেষ কর্মকর্তা ছাড়াও ডিএমপির যুগ্ম-কমিশনার প্রটোকল, যুগ্ম-কমিশনার ক্রাইম অ্যান্ড অবস, ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি জোনের উপপুলিশ কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা সার্বিক নিরাপত্তা ছক আঁকছেন।
সূত্রগুলো বলছে, ঢাকায় অবস্থানকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্য তিনটি স্থান ঠিক করে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে হোটেল সোনারগাঁও ছাড়া প্রস্তুত রাখা হচ্ছে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা। এর বাইরে ভারতীয় হাইকমিশনারের বাসভবন ইন্ডিয়া হাউজ প্রস্তুত থাকছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্য। তবে ঢাকায় অবস্থানকালে তিনি কোথায় উঠবেন তা ঠিক করবেন তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তায় নিয়োজিত ব্ল্যাক ক্যাট কমান্ডোরা।
বিশেষ প্রতিনিধি
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম



Leave a Reply