বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

ইরাক-সিরিয়ায় যুদ্ধে গিয়ে তুরস্ক থেকে ফিরল বাংলাদেশি তরুণী

Syria-Mairuna-Bangladeshiঢাকার ধানমণ্ডি আবাসিক এলাকার চিকিৎসক বাবার মেয়ে মাইরুনা ফারহিন ইসলামি জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের হয়ে ইরাক ও সিরিয়ায় যুদ্ধ করতে বাংলাদেশ ছেড়ে তুরস্ক অবধি চলে গিয়েছিলেন। তবে বাড়ি থেকে যাওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও তুরস্কে বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করায় তাকে ইস্তাম্বুলের কামাল আতাতুর্ক বিমানবন্দর থেকেই আবার ফিরতি ফ্লাইটে ঢাকা ফিরতে হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি চেপে যেতে চাইলেও বাংলাদেশিদের এ ভয়ঙ্কর খেলায় জড়ানো ঠেকাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বিষয়টি জানা গেছে।

মাইরুনা ফারহিন। ১৯ বছর বয়সী বাংলাদেশী তরুণী। বাবা ডা. শামসুদ্দিন মোহাম্মদ ইসহাক ও মা তিনা ফারজানার সঙ্গে বাস করে রাজধানীর ধানমন্ডিতে। গত ৪ঠা মে বাবা-মাকে না জানিয়ে হঠাৎ করেই তুরস্কের উদ্দেশে টার্কিশ এয়ারলাইনস যোগে ঢাকা ত্যাগ করে এ তরুণী। তুরস্কের পার্শ্ববর্তী দেশ সিরিয়া বা ইরাকে ইসলামিক স্টেটে (আইএস) যোগ দিতেই তুরস্ক যায় সে।

ইসলামিক স্টেটের প্রতি আকর্ষণ সম্পর্কে আগে থেকেই ধারণা ছিল বাবা-মায়ের। তাই ওই তরুণী নিখোঁজ হওয়ার পরপরই তুরস্কের বাংলাদেশ দূতাবাসের সাহায্য চান তারা। এরপর বাংলাদেশ দূতাবাস অতি জরুরি ভিত্তিতে বিষয়টি তুরস্ক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানায়। সঙ্গে ওই তরুণীর পাসপোর্টের কপি ও ছবির কারণে ইস্তাম্বুলের কামাল আতাতুর্ক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন বিভাগ তাকে শণাক্ত করতে পারে। বিমানবন্দর থেকেই ৫ই মে’র ফিরতি ফ্লাইটে তাকে ফেরত পাঠানো হয় ঢাকায়।

মূলত, ব্রিটেন থেকে তরুণ-তরুণীদের সিরিয়া ও ইরাকে যুদ্ধ করতে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ার পর থেকেই তুরস্ক কর্তৃপক্ষ এ ধরনের বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা শুরু করায় বাংলাদেশি এ তরুণীকে হতাশ হয়েই ঢাকায় ফিরতে হলো।

তুরস্কের ইস্তাম্বুলে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মনজুরুল করিম খান চৌধুরী এ বিষয়ে টেলিফোনে নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কমকে জানান, ওই তরুণী হয়তো কোন চরমপন্থি গ্রুপে যোগ দিতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছিল তুরস্ক কর্তৃপক্ষ। এ কারণে তাকে পরবর্তী ফ্লাইটে ফেরত পাঠিয়েছেন তারা। পরিবারকে না জানিয়ে তুরস্কে আসার কারণেই তার বিষয়ে চিঠি দেয়া হয়।

বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে তুরস্ক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, কনস্যুলার শাখার মহাপরিচালক, সাউথ এশিয়া বিভাগের উপ-মহাপরিচালক ও আতাতুর্ক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন বরাবরে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, ‘এটা খুবই আতঙ্কের বিষয় যে, ওই তরুণী তুরস্কের প্রতিবেশী কোন দেশের চরমপন্থি সংগঠনের সঙ্গে যোগ দিতে সেখানে গিয়েছে।’ এতে বলা হয়, বাংলাদেশী টিএনএজার তরুণী মাইরুনা ফারহিন (বাংলাদেশী পাসপোর্ট নং- এএফ ৮৮০০০৩৬০) ৪ঠা মে টার্কিশ এয়ারলাইন্সযোগে ঢাকা থেকে তুরস্কের পথে রওনা দিয়েছে। সে তার পরিবারকে কিছু না জানিয়েই তুরস্কের উদ্দেশে রওনা দেয়। তার পাসপোর্টের কপি ও একটি রঙিন ছবি এর সঙ্গে যোগ করে দেয়া হলো। যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এয়ারপোর্ট থেকে ওই তরুণীকে আটকের পর পরবর্তী ফ্লাইটে তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করলে ভাল হয়। এ বিষয়ে ইস্তাম্বুলে কনসাল জেনারেলের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য তার নাম ও ফোন নম্বর উল্লেখ করে দেয়া হয়।

পাসপোর্ট অনুযায়ী মাইরুনার জন্ম ১৯৯৬ সালের ১৩ই ফেব্রুয়ারি। ২০১৩ সালের ২৯শে জুলাই আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিস থেকে সে পাসপোর্ট তৈরি করে। এই ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে মেয়েটির পরিবার থেকে কোনো ধরনের বক্তব্য প্রকাশের অনুরোধ জানানো হয়।

বিশেষ প্রতিনিধি
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *