ডিম্পল বরা, নয়াদিল্লি থেকে॥
মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে ২০১১ সালে যে কারণে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় ঢাকা সফর করেননি; এবারও অনেকটা একই ধরনের কারণে ঢাকা সফরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গী হচ্ছেন না তিনি। মমতার অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা সফর নির্ধারিত হলেও আগে থেকে তাকে জানানো হয়নি এবং পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে আলোচনা না করেই তিস্তা চুক্তি হবে বলে কেন্দ্রীয় সরকার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অভিযোগ তিস্তা নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং সোমবার ২৬ মে বক্তব্য দিলেও এখনো বিষয়টি নিয়ে রাজ্য সরকারের সঙ্গে কোনও আলোচনাই হয়নি।
এ কারণে নয়াদিল্লির তরফে প্রধানমন্ত্রীর যে সফরসূচি স্থির হয়েছে, তাতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের নাম নেই। এই তথ্য জানার পর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, ওই সময়ে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি থাকায় মুখ্যমন্ত্রী ঢাকা যেতে পারবেন না। তবে লন্ডন সফর সেরে ফিরে এসে তিনি ভুটান যেতে পারেন।
প্রধানমন্ত্রী মোদির সম্প্রতি কলকাতা ঘুরে যাওয়ার পরে মনে করা হচ্ছিল, মমতা তার সঙ্গে ঢাকা যেতে পারেন। বস্তুত মোদ নিজেও চেয়েছিলেন, বাংলাদেশে মমতা তার সফরসঙ্গী হোন। কিন্তু বুধবার কলকাতা থেকে দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সফর অনেক আগে স্থির হলেও নয়াদিল্লি সে বিষয়ে রাজ্য সরকারকে অবহিত করেনি। তাই ওই সময়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের বেশ কিছু সরকারি কর্মসূচি ঠিক করে ফেলা হয়েছে। সে সব বাতিল করে এখন তার পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হওয়া সম্ভব নয়।
তবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে এ ব্যাখ্যা দেওয়া হলেও অন্য সূত্রে ভিন্ন কারণ জানা গেছে। সূত্রটির মতে, গত মঙ্গলবার কলকাতায় এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ তিস্তা চুক্তি প্রসঙ্গে যে মন্তব্য করেছেন, মমতা তাতেই চটেছেন।
রাজনাথ সে দিন বলেন, ‘‘রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তিস্তা চুক্তির ব্যাপারে ইতিবাচক দিকেই এগোনো হচ্ছে।’’ পরে রাজনাথের বক্তব্য খণ্ডন করে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘তিস্তা সম্পর্কে কেন্দ্র একতরফা সিদ্ধান্ত নিতে চাইছে। রাজ্যের সঙ্গে কোনও আলোচনা হয়নি।’’
তৃণমূল সূত্রের ইঙ্গিত, তিস্তা প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্যই ঢাকা সফরের আগে পরিস্থিতি সটান বদলে দিয়েছে। মোদীর সঙ্গে ঢাকা যাওয়ার অভিপ্রায় ত্যাগ করেছেন মমতা। তবে জুলাইয়ে নির্ধারিত লন্ডন সফর সেরে আসার পরে তিনি ভুটান যেতে পারেন। গত ১৭ মে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং টোবগে তাকে আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর সূত্রের খবর, আমন্ত্রণ গ্রহণ করে মুখ্যমন্ত্রী এ দিনই মনস্থ করে ফেলেছেন যে, তিনি ভুটান যাবেন।
২০১১ সালেও একইভাবে তিস্তা চুক্তির জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ইতিবাচকভাবে এগিয়ে গেলেও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেনি অভিযোগে বিরোধীতা করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। সেই সফর হঠাৎ করেই বাতিল করায় বাংলাদেশের মানুষের বিরূপ সমালোচনার মুখে পড়েন মমতা। দীর্ঘ চেষ্টার ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মমতাকে ঢাকা সফরে আনা যায়। তবে এবারও সফরটি বাতিল করায় পুরনো পরিস্থিতিই ফিরে আসার ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে।
কলকাতা ব্যুরো
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।



Leave a Reply