এখন আর চাকরি নয়, পড়াশোনা করতে চান চলন্ত মাইক্রোবাসে ধর্ষণের শিকার গারো জাতিগোষ্ঠীর তরুণী। পড়াশোনা শেষ করে তবেই ভালো চাকরি খুঁজে নিতে চান তিনি। মানসিক অবস্থা একটু ভালো হলেই চলে যাবেন ঢাকা ছেড়ে। আদিবাসী ফোরামের নেতাদের এমনটি জানিয়েছেন তিনি। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার দুই ধর্ষকের ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এরা হল- আশরাফ ওরফে তুষার ও লাভলু।
সেই তরুণী ময়মনসিংহের গ্রাম থেকে ঢাকায় এসেছিলেন পড়াশোনার খরচ জোগাতেই। কিন্তু এমন ভাগ্য বিড়ম্বনায় তিনি পড়বেন তা ভাবতেও পারেননি। তিনি যুগান্তরকে বলেন, আমার পাশে রাষ্ট্র থাকলে আমি মাথা উঁচু করে দাঁড়াব।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে আনার পর ওই তরুণীকে কাউন্সিলিং করানো হচ্ছে। পুলিশ, মহিলা আইনজীবী সমিতি, মহিলা পরিষদ, আইন ও সালিশ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন সংগঠনের মানবাধিকার কর্মী ও নেত্রীরা তার সঙ্গে কথা বলছেন। তাকে দেয়া হয়েছে নতুন পোশাক।
আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জিব দ্রং বলেন, যারা ওই তরুণীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন তারা তাকে পুরনো কথা ভুলে যেতে বলছেন। সবকিছু নতুন করে শুরু করতে ও হাসিখুশি থাকতে পরামর্শ দিচ্ছেন। তিনি বলেন, আমাদের একটি দল বুধবার রাতে তার সঙ্গে কথা বলেছে। তখন তরুণী বলেন, নতুন পোশাক পরে ভালো লেগেছে। পুলিশ সদস্যরা এ পোশাক দিয়েছে। সঞ্জিব দ্রং বলেন, সাক্ষাতের সময় তরুণী তাকে জানিয়েছেন, এখন পড়াশোনা করে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হতে চান তিনি। যদি রাষ্ট্র তার পাশে দাঁড়ায় তাহলে এখন তাকে চাকরি করতে হবে না। পড়াশোনা শেষ করে ভালো কোথাও যোগদান করবেন। এতে তার দুঃখী বাবা-মায়ের অভাবের সংসারে হাসি ফুটবে।
তরুণীর পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বাবা চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী, মা গৃহিণী। গ্রামে তাদের আবাদের জন্য এক টুকরো জমিও নেই। তার বড় দুই বোন এইচএসসি পাস করে সংসারের কিছুটা হাল ধরেছে। আরেক বোন পড়ছেন কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে, সবার ছোট বোন স্থানীয় এক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী। তিনি পরিবারের চতুর্থ। ২০১১ সালে হাতিলেইট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, ২০১৩ সালে ময়মনসিংহ আবুল মনসুর মিন্টু কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে ফুলবাড়ীয়া মহিলা কলেজে ডিগ্রিতে ভর্তি হন। কিন্তু অর্থ জোগাতে ছুটে আসেন ঢাকায়, চাকরি নেন বিক্রয়কর্মী হিসেবে।
তরুণীর প্রত্যাশা, কলেজে ফিরে তিনি আবারও ক্লাসে যোগ দিতে পারবেন। তার পাশে রাষ্ট্র দাঁড়ালে তবেই সেটা সম্ভব। তার দাবি, আইনের ফাঁকফোকর গলে যেন ধর্ষকরা পার পেয়ে না যায়। তিনি তাদের উপযুক্ত শাস্তি দাবি করেন। আর এ বিচার যেন মাইলফলক হয়ে থাকে।
আদিবাসী ফোরামের সংশ্লিষ্টরা জানান, আরও অন্তত তিন মাস কাউন্সিলিংয়ের মাধ্যমে পূর্ণ স্বাভাবিক হিসেবে তরুণীকে গড়ে তোলা দরকার। সে যাতে পুরনো সব ভুলে নতুন করে ভাবতে শিখে।
ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের সিনিয়র সহকারী কমিশনার লাকী আক্তার জানান, তরুণীকে স্বাভাবিক করে তুলতে তাকে আমাদের যত কৌশল ও প্রশিক্ষণ আছে তার প্রয়োগ করা হচ্ছে। তাকে সবকিছু বোঝানো হচ্ছে। কাউন্সেলর, চিকিৎসক, আইনজীবী ও মনোচিকিৎসক দল তার সেবায় কাজ করছে। আশা করছি সে দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে উঠবে।
বিশেষ প্রতিনিধি
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।



Leave a Reply