দীর্ঘ পাঁচ বছর পর সম্মেলনের মাধ্যমে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ ছাত্রলীগে নতুন নেতৃত্ব আসছে। ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ এ শাখা দুটিতে নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা করা হবে। বৃহস্পতিবার মহানগর উত্তরের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার মহানগর দক্ষিণের সম্মেলন শেষে একত্রে শাখা দুটির পরবর্তী নেতৃত্ব ঘোষণা হতে পারে। সর্বোচ্চ বয়সসীমা ২৯ বছর ধরে সিলেকশন পদ্ধতিতে দলের জন্য ত্যাগ ও পরিশ্রমের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী নেতৃত্ব আসতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী মেয়াদোত্তীর্ণের প্রায় চার বছর পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে শাখা দুটির সম্মেলন।
দুটি শাখার প্রার্থীদের বড় একটি অংশ আশংকা প্রকাশ করছে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে সিলেকশন বা বাছাই পদ্ধতি অনুসরণ করা হতে পারে। যার ফলে সংগঠনের দুঃসময়ে ত্যাগী নেতাকর্মীরা উপেক্ষিত হতে পারেন। সুযোগ নিতে পারেন সুবিধাভোগী তেলবাজ ও লবিংবাজ নেতাকর্মীরা।
ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রে সম্মেলনের দিন নতুন নেতৃত্ব ঘোষণার বিষয়ে কোনো বাধ্যবাধকতা না থাকায় অর্পিত ক্ষমতাবলে কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সুবিধাজনক সময়ে নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা করে থাকেন। এ বিষয়ে ছাত্রলীগ সভাপতি এইচএম বদিউজ্জামান সোহাগ জানান, সিনিয়র নেতাদের পরামর্শ অনুযায়ী এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তবে মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের নতুন নেতৃত্ব একত্রে ঘোষণা হতে পারে।
সাধারণ সম্মেলনের দিন মহানগর শাখার নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা হয় না- এমন রেওয়াজ চালু আছে। সর্বশেষ ২০১০ সালের ২৭ জুলাই ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ এ শাখা দুটির সম্মেলন হলেও ২৯ তারিখ সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা দেয়া হয়।
উত্তর সভাপতি পদে ৪০টি এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ৪৩টি মনোনয়ন ফরম কেনা হয়েছে। ইউনিটটির ২৮টি থানা শাখার ২৫ জন করে সদস্য এবং ইউনিট বডির সদস্যরা নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন। ২২টি থানা শাখার সমন্বয়ে গঠিত ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখায় বুধবার বিকাল পর্যন্ত সভাপতি পদে ৩৩টি এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ৪৮টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়েছে।
ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম বলেন, এর আগে মহানগরে কখনোই ইলেকশন হয়নি। তবে নেতৃত্ব নির্বাচনে অবশ্যই দলের দুঃসময়ে ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা হবে।
মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সদ্য বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক রানা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাসম্পন্ন এবং দলের জন্য ত্যাগ- এ দুটি বিষয়কে সামনে রেখে পরবর্তী নেতৃত্ব নির্ধারণ করা হবে। মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শেখ আনিসুজ্জামান রানা বলেন, সুবিধাভোগীরা যাতে নেতৃত্বে না আসতে পারে সে দিকে আমাদের সতর্ক দৃষ্টি থাকবে।
নেতৃত্বে আসতে পারেন যারা : রাজধানীর ধানমণ্ডি, তেজগাঁও, গুলশান-বনানী, বৃহত্তর মিরপুর নিয়ে গঠিত ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগে পদপ্রাপ্তির দৌড়ে এগিয়ে আছেন আবদুল্লাহ রানা, আশিকুল্লাহ মিথুন, হান্নান হাওলাদার শাওন, রাকিব হোসেন, মো. ইবরাহীম খলিল, সোহাগউদ্দীন, আরিফুল ইসলাম হৃদয়, মাহমুদুন্নবী মামুন, আসাদুজ্জামান সোহেল, সৈয়দ মিজানুর রহমান, সুজাউদ্দীন তুহিন, মো. রাসেল, গোলাম সুমেরুল রানা, ফুয়াদ ফয়সাল, রহমতউল্লাহ সরকার লিখন, রিয়াজ মাহমুদ, সাইফুল ইসলাম মুন্না, আরজু মিয়া, আবদুস সালাম, রাকিবুল ইসলাম মিনা, ইব্রাহিম হোসেন, মুজিবুর রহমান অনিক, ইসামাইল হোসেন তপু প্রমুখ।
মহানগর দক্ষিণে রয়েছেন– বায়েজিদ আহমেদ খান, সোহেল হাসান, আরিফুর রহমান আরিফ, আলিম উদ্দিন শিশির, ফারেজ সামি, শফিকুল ইসলাম শফিক, খাদিমুল ইসলাম মাসুম, কামরুজ্জামান কামরুল, জাহাঙ্গীর আলম হীরা, মহিউদ্দিন চৌধুরী বাবু, সাজ্জাদ হোসেন সজীব, মহসিন আহমেদ, সোহেল চৌধুরী, আবু হাসান তাপস, হাজী রাকিব আহমেদ, ফাহাদ হোসেন তপু, মো. আসাদুজ্জামান, মিজানুর রহমান মিজান, আমিনুর রহমান বাবু, লতিফুল বারী রাকিব প্রমুখ।
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম



Leave a Reply