মাসকাওয়াথ আহসান॥
আগে মহল্লায় মহল্লায় নিজেরা চাঁদা দিয়ে বাৎসরিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হতো। এলাকার আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা সেখানে আগ্রহ নিয়ে বসে উতসাহিত করতো। এলাকার শিশু-কিশোর-তরুণরা গান গাইতো-কবিতা আবৃত্তি করতো; ছোট খাটো নাটিকাও থাকতো; রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী হোতো। পাড়ার ছেলে-মেয়েরা গল্পের বই আদান-প্রদান করতো; বাড়িতে বাড়িতে নাচ-গান শেখার চল ছিলো। টেলিভিশনের সংখ্যা কম থাকায় মানুষ পরিচিতদের বাসায় দলবেধে বিটিভি’র ধ্রুপদী নাটকগুলো দেখতো; আর এখন গভীর আত্মপরিচয়ের সংকটে নিপতিত সমাজ।
ক্লাসের বইয়ের বাইরে বই-পুস্তক না পড়া থাকায় বেশীর ভাগ সফল বেনিয়াকেই বিভিন্ন জায়গায় আড্ডায় গিয়ে হাঁক করে থাকতে হয়। এই হীনমন্যতাই শিক্ষাগুরুকে চাবুক মারতে চাওয়া বয়স্ক- শিশু- সমাজ; এর কোন দল নেই-আদর্শ নেই; আছে এক হিংস্র প্রবণতা।
সার্টিফিকেট অর্জন করেও শিক্ষিত হতে না পারা, বিস্তর টাকা-পয়সা বানিয়েও ঠিক সামাজিক সম্ভ্রমটা হাসিল না হওয়ায়; অতঃপর এই শিক্ষা-শিল্প-সংস্কৃতিই হয়ে পড়ে এই স্থূল-মানবদের প্রধান-শত্রু। তখন কিছু হাদিস-টাদিস পড়ে এই ইনসিকিওরড সমাজটি লিখে ফেলে ‘বেহেশতে’র মেওয়া ধরণের গ্রন্থ; একটা কাউন্টার ইন্টেলেকচুয়াল অথোরিটি তৈরীর অভিপ্রায়ে। এদের স্ত্রীরা হিন্দী সিরিয়াল দেখা-শপিং করা-এরি মাঝে বসে খেয়ে মেদার্জনবশতঃ হিজাবের পক্ষের শক্তি হয়ে পড়ে।
কারণ অন্য ভাবীরা সাম্প্রতিক সমাজ-রাজনীতি-শিল্প সাহিত্য নিয়ে আলাপ করলে সিরিয়াল দেখা ভাবীর অসহায় লাগে। সেও তাই সমমনাদের নিয়ে কাউন্টার ইন্টেলেকচুয়াল অথোরিটি হিসেবে ধর্মের ঢাল নিয়ে আসে।
এরপর একদিন তারা খবর পায় ৩০২ জন তরুণ-তরুণী আই এস জঙ্গীদের সঙ্গে যোগ দিতে যাচ্ছে; যাদের মধ্যে তাদের নিজের ছেলেটিও আছে। নিজের দুর্বলতা লুকাতে ‘চাবুক’ ভাই-ভাবী যে আত্মপ্রবঞ্চনা করেছে; তার শাস্তি হাতে নাতে পেয়ে যায় তারা। কারণ ভুল জিহাদের আফিম নেশায় বুঁদ ছেলেটিকে আর ফেরানোর পথ নেই।
(মাসকাওয়াথ আহসানের ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে নেওয়া। বাংলাদেশ থেকে ৩০২ জন তরুণ-তরুণীর ইসলামি জঙ্গি সংগঠন আইএসে যোগদানের প্রস্তুতির সংবাদের সূত্র ধরে সম্ভবত তিনি এই স্ট্যাটাসটি দিয়েছেন ২৬ মে)



Leave a Reply