জাতীয় প্রেসক্লাবের বিগত দিনের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সংঘটিকে স্বাধীনতাবিরোধীদের আখড়ায় পরিণত করার অভিযোগ এনে এখান থেকে ‘স্বাধীনতাবিরোধীদের’ উচ্ছেদ করার ঘোষণা দিয়েছে নতুন নেতৃত্ব।
গত বৃহস্পতিবার ক্ষমতাসীন দলের সমর্থক ও বিএনপিপন্থী সমর্থক সাংবাদিকদের একাংশের সমঝোতার ভিত্তিতে সংঘটির নতুন নেতৃত্ব গঠন করা হয়। নতুন কমিটিতে ১০ জন আওয়ামী লীগ সমর্থিত এবং বাকী সাতজনের অধিকাংশই উদারপন্থি বিএনপি সমর্থক বলে পরিচিত। প্রায় দুই যুগ পর আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাংবাদিকরা প্রেসক্লাবের সভাপতিসহ ব্যবস্থাপনা কমিটির সিংহভাগ পদে দায়িত্ব পায়। রোববার নতুন ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়।
নতুন কমিটি প্রেসক্লাব ‘দখল’ করেছে-বিএনপি-জামায়াতপন্থিদের এমন অভিযোগের জবাবে নতুন সভাপতি বলেন, তা ঠিক নয়। আগের কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় সদস্যরাই নতুন কমিটি নির্বাচিত করেছে বলে জানান তিনি। শফিকুর রহমান ১৯৮৩ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের দ্বায়িত্বে ছিলেন।
নতুন সভাপতি শফিকুর রহমান বলেন, এরা এমনভাবে ক্লাবকে কুক্ষিগত করে রেখেছিল যে, জামায়াত-শিবির আর শিবিরের অর্থে প্রতিপালিত কিছু বিএনপি নেতা, বিএনপিপন্থী সাংবাদিক; যারা চাকরি করে না তারা রাজকীয় জীবন-যাপন করে। কীভাবে করে? ওই জামায়াতের টাকা। এই ক্লাবেরই একজন সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি, এখন তিনি আরও উপরে গেছেন, তার পাঁচ জন বডিগার্ড আছে এবং তিনি যখন ক্লাবে ঢোকেন ওই বডিগার্ডদের খাওয়া দাওয়াও এই ক্লাব থেকে দেওয়া হয়।
পাঁচ দশক সাংবাদিকতার সঙ্গে জড়িত শফিকুর রহমান বলেন, লুট-পাট, চুরি-চামারি এত করেছে! আর এই ক্লাবটাকে বানানো হয়েছে জামায়াত-শিবির এবং বিএনপির আখড়া। এটার বিরুদ্ধেই আমরা আওয়াজ তুলি। তিনি বলেন, প্রেসক্লাবের দেনার পরিমাণ প্রায় অর্ধ কোটি টাকা এবং কর্মচারীদের প্রভিডেন্ট ফান্ড থেকেও টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। রোববারের সভায় বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নির্মাণের বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান নতুন সভাপতি। আরো একটি সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে। জাতিরজনকের ম্যুরাল আমরা এখানে স্থাপন করব। আশা করি অচিরেই এটা আমরা করর। শফিকুর রহমান বলেন, “বঙ্গবন্ধু হত্যার পর থেকেই গোটা বাংলাদেশকে পাকিস্তানপন্থি রাজনীতির দিকে নিয়ে যাওয়ার চক্রান্ত শুরু হয়। জিয়াউর রহমান পাকিস্তানিকরণের যে প্রক্রিয়া শুরু করেছিল সেটা সবচেয়ে বেশি হয়েছে (প্রেসক্লাবে)। জামায়াত-শিবিরের টার্গেট হল প্রেস ক্লাব দখল করতে হবে। এবং তারা যেটা করল- অঢেল টাকা ঢালতে শুরু করল।
প্রেসক্লাবের সিংগভাগ সদস্যই বিএনপি-জামায়াতের হওয়ায় আওয়ামী লীগপন্থি সাংবাদিকরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করলেও সদস্যপদ দেওয়ার সময় বিএনপি-জামায়াতপন্থিদেরই এতদিন অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। যুদ্ধাপরাধে মৃত্যুদণ্ড হওয়া আব্দুল কাদের মোল্লা ও মোহাম্মদ কামারুজ্জামান দুজনই প্রেসক্লাবের সদস্য ছিলেন। আর কোন ‘যুদ্ধাপরাধী’ এখনও প্রেসক্লাবের সদস্য আছে কি না খুঁজে দেখা হবে বলে জানান নতুন সভাপতি। জামায়াত-শিবির যারা করে তাদের আর মেম্বারশিপ হবে না। প্রেস ক্লাব দেশের মর্যাদাবান গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি, রাজাকার আল-বদর, জামায়াত-শিবির এই ক্লাবের সদস্য হতে পারে না।
‘যারা বিশৃঙ্খলা করতে চাচ্ছে’ তাদেরকে সতর্ক করে দিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, “ওদের হাত থেকে আখড়াটা চলে গেছে। রাত্রে বেলা যে এখানে শুধু মিটিং হত তা না, এখানে অনেক অপকর্মও হত। ওরা ভুলে যাচ্ছে যে, আমরা খুব শক্তিশালী। আমরা হয়ত এখনো কোন অ্যাকশনে যাচ্ছি না। কিন্তু একটা সময় আসবে যখন অ্যাকশনে যেতে বাধ্য হতে পারি। বাধ্য আমাদের হতে হবে।”
নিজস্ব প্রতিবেদক
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।



Leave a Reply