কক্সবাজারকে আধুনিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সৈকতের শৈবাল পয়েন্টে ১৩০ একর জমিতে হলিডে কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নে এরই মধ্যে নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, আগ্রহী বিনিয়োগকারীদের প্রকল্পে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে রিকোয়েস্ট ফর কোয়ালিফিকেশন (আরএফকিউ) আহ্বান করা হয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের প্রাথমিকভাবে নির্বাচনের পর দরপত্র আহ্বান করা হবে।
বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের কক্সবাজারের হোটেল শৈবালসংলগ্ন জমিতে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটির নাম ‘ডেভেলপমেন্ট অব ট্যুরিজম রিসোর্ট অ্যান্ড এন্টারটেইনমেন্ট ভিলেজ অ্যাট পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্স, কক্সবাজার’। প্রকল্পটিতে আগ্রহী দেশী-বিদেশী ৪০টি প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন করেছে। প্রস্তাবিত প্রকল্পে ২৬টি বিচ ভিলা, ১৬৮টি পুল ভিলা, ২৬টি ওয়াটার ভিলা, বিদ্যমান শৈবাল হোটেলের পুনর্নির্মাণ, আন্তর্জাতিক মানের ১৮ হোল গলফ কোর্স, ক্লাব হাউজ, পাঁচতারকা হোটেল টাওয়ার নির্মাণের কথা বলা হয়েছে। এ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা জরিপ সম্পন্ন করে সিসিআইই অনুমোদন ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নে খরচ হবে ৩৫০ কোটি টাকা। এটি পিপিপির আওতায় নির্মিত হবে। আগ্রহী বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে এরই মধ্যে রিকোয়েস্ট ফর কোয়ালিফিকেশন ইস্যু করা হয়েছে। শিগগিরই এটি চূড়ান্ত হবে। পরে দরপত্র আহ্বান করা হবে। আশা করা যাচ্ছে, আগামী জানুয়ারি থেকেই এর নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব হবে।
এর আগে পিপিপির আওতায় কক্সবাজারে হোটেল শৈবালসংলগ্ন ১৬০ একর জমিতে পাঁচতারকা হোটেল ও ১৮ হোলের গলফ কোর্স নির্মাণে প্রথমে ‘স্টাবলিশমেন্ট অব ফাইভ স্টার স্ট্যান্ডার্ড বিচ হোটেল অ্যালং উইথ এইটিন-হোল গলফ কোর্স অ্যাট কক্সবাজার’ শীর্ষক প্রকল্পের প্রস্তাব পায় মন্ত্রণালয়। ২০১২ সালের আগস্টে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভায় সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে প্রস্তাবটি পিপিপি অফিসে পাঠানো হয়। ওই প্রস্তাবে প্রকল্পটিতে একটি পাঁচতারকা হোটেল এবং ১৮ হোলবিশিষ্ট গলফ কোর্স নির্মাণ করার কথা বলা হয়। কিন্তু পরে ‘ডেভেলপমেন্ট অব ট্যুরিজম অ্যান্ড এন্টারটেইনমেন্ট ভিলেজ’ শীর্ষক প্রস্তাব দেয় সিঙ্গাপুরভিত্তিক ইন্টার এশিয়া গ্রুপ প্রাইভেট লিমিটেড। নতুন প্রস্তাবটি একটি সমন্বিত ও বহুমুখী সেবা প্রকল্প হওয়ায় পর্যটনমন্ত্রীর নির্দেশে তা গ্রহণ করা হয়। প্রকল্প প্রস্তাবটির শিরোনাম পরিবর্তন করে ‘ডেভেলপমেন্ট অব ট্যুরিজম রিসোর্ট অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট ভিলেজ অ্যাট পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্স, কক্সবাজার’ শীর্ষক প্রকল্প প্রস্তাবটি পিপিপি অফিসে পাঠানো হয়, যা পিপিপি অফিস, অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির কাছে উপস্থাপনের জন্য সুপারিশ করে। পরে ২০১৩ সালের ১১ আগস্ট বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব খোরশেদ আলম চৌধুরী স্বাক্ষরিত একটি চিঠি অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে পাঠানো হয়।
বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, ‘ডেভেলপমেন্ট অব ট্যুরিজম রিসোর্ট অ্যান্ড এন্টারটেইনমেন্ট ভিলেজ অ্যাট পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্স, কক্সবাজার’ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রিকোয়েস্ট ফর কোয়ালিফিকেশন আহ্বান করে প্রাপ্ত সম্ভাব্য আগ্রহী বিনিয়োগকারীদের এ বিষয়ে অবহিত করার উদ্দেশে গত ৩১ মে প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে প্রি-বিড সভার আয়োজন করা হয়। এতে প্রকল্পের বিভিন্ন দিক, প্রকল্প উন্নয়নের ধরন, পরিবেশ বান্ধবতা সম্পর্কে আগ্রহী সম্ভাব্য উদ্যোক্তাদের অবহিত করা হয়।
বিশেষ প্রতিনিধি
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।



Leave a Reply