গ্যাসলাইন ও সিলিন্ডার বিস্ফোরণে বছরে ১ লাখ ২০ হাজার মানুষ আহত হয়। তাদের প্রায় ৫ শতাংশ মত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। সেই হিসাবে প্রতি বছর শুধু গ্যাসলাইন ও সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় ৬ হাজার মানুষ মারা যায়। সারা দেশে গ্যাসলাইন ও সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় আহতদের মধ্যে ১৫-১৬ শতাংশের ওপরে পুড়ে গেলেই ঢামেক বার্ন ইউনিটে নিয়ে আসা হচ্ছে। ১০০ শয্যার এ ইউনিটটিতে বর্তমানে প্রায় ৬০০ রোগী ভর্তি রয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছেন, জাতীয় বার্ন ইউনিট ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বার্ন ইউনিটের প্রধান সমন্বয়ক প্রফেসর ডা. সামন্ত লাল সেন। তিনি জানান, প্রতিদিন শুধু ঢামেক হাসপাতাল বার্ন ইউনিটে ৩-৪ জন রোগী আসছে গ্যাসলাইন ও সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায়। তিনি বলেন, জাতীয় বার্ন ইউনিটকর্তৃক সমীক্ষা থেকে জানা যায়, দেশে প্রতি বছর প্রায় পৌনে ৮ লাখ মানুষ অগ্নিদগ্ধ হচ্ছে। যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি হচ্ছে আগুন লাগার ঘটনা ও বৈদ্যুতিক শকে।
সরেজমিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বার্ন ইউনিট ঘুরে ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, ভর্তিকৃত বার্ন রোগীর অনেকেই গ্যাসলাইন ও সিলিন্ডার বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হয়ে ভর্তি রয়েছেন। শনিবার ভোরে রাজধানীর কলাবাগান এলাকায় গ্যাসলাইন বিস্ফোরণে গুরুতর আহত ৭ জনের মধ্যে ২ জনকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের অবস্থা সংকটাপন্ন। আইসিইউতে ভর্তি মমতাজ বেগমের শরীরের ৪৭ শতাংশ ও তার মেয়ে রোজি আক্তারের ৫৯ শতাংশ পুড়ে গেছে। অন্যদিকে আইসিইউতে ভর্তির জন্য পার্শ্ববর্তী এইচডিইউ ইউনিটে রাখা হয়েছে সোনারগাঁও থেকে আসা গ্যাসলাইন বিস্ফোরণে আহত খোরশেদা বেগমকে (৫৪)। খোরশেদা বেগম শুক্রবার রাতে ৬১ শতাংশ পোড়া শরীর নিয়ে ভর্তি হন।
এদিকে রাজধানীর কলাবাগানে গ্যাসলাইন বিস্ফোরণে আহত সাতজনের মধ্যে আইসিইউতে ভর্তি দুজন ছাড়াও বাকি পাঁচজন বার্ন ইউনিটের চতুর্থ তলায় ভর্তি রয়েছে। তারা হচ্ছে, শিশু অয়ন (১৬), বীথি (১২), রাব্বি (৯) সুমন (২৭) ও রেশমা। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক বলছেন, তাদের অবস্থাও আশংকামুক্ত নয়। তাদের প্রত্যেকেরই শ্বাসনালি পুড়ে গেছে। আহত সুমন ও রেশমা জানান, তারা রাজধানীর কলাবাগান এলাকায় একটি টিনশেড বাড়িতে ১০ হাজার টাকায় ভাড়া থাকতেন। এক মাস আগেও একবার হঠাৎ গ্যাসলাইনে আগুন ধরে যায়। ঘটনাটি বাড়ির মালিককে জানালেও তারা পাইপগুলো বদলায়নি। শনিবার ভোর ৫টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে গ্যাসলাইন বিস্ফোরণে সাতজনের শরীর পুড়ে যায়।
রাজধানীর বাসাবো এলাকায় ভাড়া থাকেন ব্যাংকার আজিজুল হক। তিনি জানান, বাড়ির মালিককে বারবার বলার পরও রান্না ঘরের গ্যাসলাইন কিংবা মেইন চুলা বদলাতে চান না। এ কারণেই উনিশ থেকে বিশ হলেই গ্যাসলাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
বার্ন ইউনিট সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি রাজধানীর শ্যামপুর এলাকার রানী স্টিল মিলে গ্যাসলাইন বিস্ফোরণে চারজন গুরুতর আহত অবস্থায় বার্ন ইউনিটে ভর্তি হন। যাদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জাহেদুল ও এনামুলের মৃত্যু হয়। ৭ মে মিরপুরের কাজীপাড়ায় পান্নু ইঞ্জিনিয়ারিং মিলে গ্যাসলাইন বিস্ফোরণে দুজন গুরুতর আহত হন। গত বছরের ১২ জুন গাজীপুরের একটি স্পিনিং মিলে গ্যাসলাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় ১৭ জন আহত হয়। চলতি বছরের ১৭ মার্চ রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় গ্যাস লাইন বিস্ফোরণে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। ৪ মে কাফরুল এলাকায় বাসা-বাড়িতে গ্যাসলাইন বিস্ফোরণে নাজমুল হোসেন নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। ২০ জানুয়ারি লক্ষ্মীপুর কমলনগর এলাকায় গ্যাসলাইন বিস্ফোরণে শিশু সজীবের মৃত্যু হয়। গত বছরের জুনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আল-আমিনের মৃত্যু হয় গ্যাসলাইন বিস্ফোরণের ঘটনায়।
নিজস্ব প্রতিনিধি
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।



Leave a Reply