মঙ্গলবার ৩ নভেম্বর ২০২৬

শবে বরাতের রাতে যা না করাই ভালো

shab-e-baratশব-ই-বরাত হচ্ছে ইসলামের বিশেষ রাতসমূহের মধ্যে একটি রাত, যা শাবানের চৌদ্দ তারিখ দিবাগত রাতে হয়ে থাকে। শব-ই-বরাতের অর্থ হচ্ছে মুক্তির রাত বা নাজাতের রাত। ‘শব’ ফার্সী শব্দ। যার অর্থ হচ্ছে রাত। আর বরাত আরবী শব্দ, যা উর্দু, ফার্সী, বাংলা ইত্যাদি সব ভাষাতেই ব্যবহার হয়ে থাকে। যার অর্থ ‘মুক্তি’ ও ‘নাজাত’ ইত্যাদি। শব-ই-বরাতকে হাদিসের ভাষায় ‘লাইলাতুন মিন নিসফি শাবান’ বলা হয়।

শব-ই-বরাত মুসলমানদের জন্য খুবই তাৎপর্যপূর্ণ একটি রাত। মুসলিম মিল্লাত শাবান মাসের পনেরো তারিখ রাতটিকে নফল ইবাদত করা, কোরান তেলাওয়াত করা, যিকির-আজকার করা, দোয়া-দরুদ, মিলাদ পাঠ, কবর জিয়ারত ও দান-সাদকা ইত্যাদির মধ্য দিয়ে কাটায়। মোট কথা, এই রাতে জাগ্রত থেকে তারা ইবাদত করে। সব মিলিয়ে এই রাতটিতে যেন এক আধ্যাত্মিক পরিবেশ বিরাজ করে। কোরান-সুন্নায় শব-ই-বরাতের দালিলিক ভিত্তি রয়েছে এবং শব-ই-বরাতে ইবাদত-বন্দেগি আর দিনের বেলায় রোজা রাখার ফজিলত সম্পর্কে বহু হাদিসও বর্ণিত হয়েছে।

তবে এই রাতে অনেকেই বিশেষ করে বাঙালি সমাজে নানা ধরনের বাহুল্য পরিলক্ষিত হয়।

এই রাতে নফল নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদে জমকালো আনুষ্ঠানিকতা করা ঠিক নয়। তবে কোনো ধরনের আয়োজন ও আনুষ্ঠানিকতা ব্যতীত মসজিদ নামাজের স্থান হিসেবে এতে সমবেত হয়ে গেলে কোনো আপত্তির কারণ নেই।

অনুরূপভাবে হালুয়া, রুটি, মিষ্টি বিতরণ এবং বাসাবাড়ি মসজিদ, দোকান, অফিস ইত্যাদিতে আলোকসজ্জা করা, পটকাবাজি, আতশবাজি, কবরস্থানে পুষ্প অর্পণ, আলোকসজ্জা করা ইত্যাদির কোনো ভিত্তি নেই। সাহাবায়ে কেরাম ও নির্ভরযোগ্য আলেমদের অনুসৃত আমলে এর কোনো ভিত্তি বা প্রমাণ মিলেনি। তাই সব কুসংস্কার পরিপূর্ণরূপে পরিহার করা অত্যন্ত জরুরি।

তবে কবরস্থানে যাওয়ার ব্যপারে হজরত আয়শা (রা.) থেকে যে হাদিস বর্ণিত আছে, সেটা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়- রাসূল (সা.) জান্নাতুল বাকীতে একাকী গিয়েছিলেন, দলবদ্ধভাবে নয়। তাই কবর জিয়ারতের নামে দলবদ্ধ হওয়া, সংঘবদ্ধ হওয়ার জন্য আহ্বান করা, জশনে জুলুসের জমকালো অনুষ্ঠানে পরিণত করা, কবরে আলোকসজ্জা করা, বিনোদন ও নারী পুরুষের মিলনমেলায় পরিণত করা ইত্যাদি শবে বরাতের নামে বাড়াবাড়ি ও ধর্ম বিকৃতির নামান্তর। এসবই ইসলামী আদর্শ বিবর্জিত রাসূল (সা.) ও সাহাবাদের আমল থেকে অনেক দূরে।

তাই শরিয়তের যাবতীয় ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি ও চরমপন্থা পরিহার করে শরিয়তকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা একান্ত কর্তব্য। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের সকলকে বোঝার ও সেই অনুযায়ী আমল করার তৌফিক দান করুন।

ধর্ম ডেস্ক
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *