বাংলাদেশি ধর্মীয় কট্টরপন্থীদের থেকে বিগত কয়েক মাস ধরে ক্রমাগত হুমকির জেরে ভারত ছেড়ে মার্কিন মুলুকে পাড়ি দিলেন বিতর্কিত বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিন। এদিন, নিউইয়র্কের উপদেষ্টা সংগঠন সেন্টার ফর এনক্যোয়ারি-র তরফে এই কথা স্বীকার করে জানানো হয়েছে যে, জঙ্গিগোষ্ঠী আল-কায়দা ঘনিষ্ঠ ইসলাম-ধর্মাবলম্বী কট্টরপন্থীরা তসলিমাকে খতম করার হুমকি দিচ্ছিল। বস্তুত এই গোষ্ঠীই সাম্প্রতিককালে তিন বাংলাদেশি ব্লগার অভিজিৎ রায়, ওয়াশিকুর রহমান এবং অনন্ত বিজয় দাসকে হত্যার দায় স্বীকার করেছে। প্রাণনাশের আশঙ্কা থেকেই তসলিমা ভারত ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন বলেও জানিয়েছে ওই মার্কিন সংগঠন। এখন প্রাণ বাঁচাতে অনির্দিষ্টকালের জন্য তিনি মার্কিন মুলুকেই থাকতে চাইছেন।
মৌলবাদী হুমকিতে বাংলাদেশ থেকে নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিনকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গিয়ে নিরাপত্তাসহ সব ব্যবস্থা করবে বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক ভিত্তিক সংগঠন দা সেন্টার ফর ইনকোয়ারি (সিআইএফ)। বাংলাদেশে ব্লগার অভিজিৎ রায়, ওয়াশিকুর রহমান ও অনন্ত বিজয়কে হত্যার ঘটনায় সংস্থাটি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সিআইএফের প্রধান নির্বাহী ও প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড এ লিন্ডসে বলেন, ‘তসলিমা আন্তর্জাতিকভাবে একজন অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব। তাঁর সাহস ও কাজ যেকোনো বয়সের মানুষকে প্রথার বিরুদ্ধে প্রশ্ন করতে, মতবাদকে চ্যালেঞ্জ করতে এবং মানবাধিকারের জন্য লড়তে অনুপ্রাণিত করে।’
নিউইয়র্ক-ভিত্তিক অলাভজনক এই সংগঠনটি জানিয়েছে, তসলিমা নাসরিন যদি যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে থাকতে না চান তাহলে তাঁর এ নিরাপত্তা হবে স্বল্প সময়ের জন্য। সংগঠনটি তসলিমা নাসরিনের থাকা ও খাওয়ার জন্য একটি জরুরি সহায়তা তহবিলও গঠন করেছে। তহবিলের জন্য সাহায্য চেয়ে আজ মঙ্গলবার সদস্যদের কাছে আবেদন পাঠিয়েছে সংগঠনটি। যে সব দেশে জঙ্গি ইসলামি জঙ্গিগোষ্ঠী মুক্তচিন্তকদের হুমকি দিচ্ছে তাঁদেরও জরুরি তহবিল থেকে সহায়তা করবে সিএফআই।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ ছাড়ার পর বিভিন্ন দেশ ঘুরে এখন তিনি নয়াদিল্লীতে বসবাস করেন।
কলকাতা ব্যুরো
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।




Leave a Reply