জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নের মাদারেরচর গ্রামের নানা বদিউজ্জামানের বাড়ি থেকে ১৫ মে নিখোঁজ হন রাবেয়া আক্তার অনিতা (১৫)। মাদারেরচর নানা বাড়িতে থেকে ওই গ্রামের আব্দুল গনি ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসায় পড়াশুনা করতো। সে দশম শ্রেণীর ছাত্রী ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তাকে নির্মম মৃত্যুর শিকার হতে হবে পরিবার, এলাকাবাসী কেউই চিন্তা করতে পারেনি।
আসলে কি হয়েছিল? এই হত্যার রহস্যের মূলে কী আছে তা মানুষ জানতে চায়। এই হত্যার পেছনে কী রহস্য তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। কী ঘটেছিল সেই রাতে? অনিতা আত্মহত্যা করবে- কেন এই খবর দেওয়া হলো অনিতার মামাকে। তবে অনেকেই এটিকে প্রেমের ফাঁদ পেতে নির্মম প্রতিশোধ নেয়া হয়েছে বলেও জানান।
মাদারেরচর এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গ্রামের আহমদ আলীর ছেলে আবদুল আজিজ মাঝে মধ্যে অনিতাকে বিরক্ত করতো। অনিতাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে ব্যর্থ হয়ে তারই বন্ধু সুজাকে দিয়ে অসম প্রেমের নাটক সাজায় বখাটে আজিজ। পরে সুজার সঙ্গে অনিতার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করতে না পেরে জীবন দিতে হয়েছে নিষ্পাপ এক কিশোরীকে।
ঘটনার দিন রাতে অনিতা যখন নিখোঁজ দুশ্চিন্তাগ্রস্ত মামা বাদল, চাচাতো মামা আনিছ ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা খুঁজতে লাগলেন। রাতে যখন অনিতাকে খুঁজতে থাকে তখন অনিতার মামা বাদলের সঙ্গে রাস্তায় দেখা হয় শাহজামালের ছেলে রফিকুল ইসলাম সুজার। বাদলের সঙ্গে দেখা হওয়ার পর সুজা তাকে জানায়, আপনার বাড়িতে সমস্যা হয়েছে নাকি।
ওই সময় অস্বাভাবিক অবস্থায় হাটু পর্যন্ত প্যান্ট মোড়ানো সুজা জানান, অনিতা আত্মহত্যা করতে পারে। এই খবরের পরদিনই সব খোলাশা হয়ে যায় যখন ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে অনিতার হাত-পা বাঁধা লাশ পাওয়া যায়।
১৬ মে হত্যার নায়ক সুজা, আজিজ, ফরিদ, দুলাল ও সাগরসহ ৬ জনকে আসামি করে অনিতার বাবা আবদুল লতিফ বাদী হয়ে দেওয়ানগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এ ব্যাপারে দেওয়ানগঞ্জ থানার ওসি আসলাম হোসেন জানান, খোঁজ-খবর নিচ্ছি। এই চাঞ্চল্যকর হত্যার তদন্ত চলছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলেছে।
এ জঘন্যতম হত্যার ১৮ দিন পার হলেও পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। অবিলম্বে অনিতা হত্যার খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে স্থানীয় এলাকাবাসী।
‘মিষ্টি হাসি দিয়ে ঘরটাকে উজ্জ্বল করে রাখতো। রাগ কী জিনিস দেখিনি। সবার সাথে হেসে হেসে কথা বলতো। বাবা-মার একমাত্র আদরের কন্যা সন্তান সে। স্বপ্ন ছিল সে অনেক বড় হবে কিন্তু ঘাতকরা তার বাবা-মার সব স্বপ্ন কেড়ে নিয়েছে। যা কল্পনা করতে পারিনি তাই হয়েছে। তবে তাকে নির্মমভাবে খুন করা হবে এটা কখোনই ভাবতেই পারিনি।’
নাতনি রাবেয়া আক্তার অনিতার হত্যার পর রোববার এভাবেই আহাজারি করছিলেন ৭৫ বছর বয়সি রহিমা বেগম। পাশে অনিতার মা লিপি বেগমের নির্বাক চাহনি দেখে উপস্থিত সকলের চোখে পানি এসে যায়। একমাত্র কন্যার ছবি নিয়ে কেঁদে বুক ভাসিয়ে নির্বাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন। কারও সঙ্গে কোনো কথা বলেন না। সারাদিন শুধু অনিতার সেই স্মৃতিময় ছবিগুলো দেখে দিন কেটে যায় তার।
বাবা আবদুল লতিফ মেয়ে হারানোর যন্ত্রণা নিয়ে পাগলপ্রায়। সুনসান বাড়িতে মেয়ের কবরের পাশে বসে সময় কাটায় সে। এ যেন একটি পরিবারকে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে। একদিকে মেয়ে হারানোর বেদনা অন্যদিকে হত্যার নায়করা গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভের আগুনে জ্বলছে ওই পরিবারটি।
সংবাদদাতা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


