সভাপতি পদে নির্বাচনে জিতে পঞ্চমবারের মতো ফিফার মসনদে বসার প্রস্তুতিই নিচ্ছিলেন সেপ ব্ল্যাটার। কিন্তু মঙ্গলবার তাঁর হঠাৎ পদত্যাগে বদলে গেছে সব দৃশ্যপট। সব কেলেঙ্কারির বোঝা মাথায় নিয়ে ১৭ বছর পর ফিফার সর্বোচ্চ পদ থেকে ব্ল্যাটারের এই বিদায়কে অনেকেই বলছেন ফুটবল ইতিহাসের এক মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া অধ্যায়। এই মুহূর্তে ফুটবল দুনিয়ায় ঘুরে ফিরছে একটি প্রশ্নই, ব্ল্যাটারের পরে কে? কে হবেন ব্ল্যাটারের পর ফুটবল দুনিয়ার সর্বোচ্চ কর্তা! ব্ল্যাটারের উত্তরসূরি হিসেবে এই মুহূর্তে সবচেয়ে আলোচিত নাম মিশেল প্লাতিনি।
ফিফার ১১১ বছরের ইতিহাসে ব্ল্যাটার হচ্ছেন সংস্থাটির অষ্টম সভাপতি। তাঁর আগে আরও সাতজন এই পদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে এই আটজনের মধ্যে মাত্র তিনজন গত ৫৪ বছরে ছড়ি ঘুরিয়েছেন ফুটবল বিশ্বে। ব্ল্যাটারের ১৭ বছরের রাজত্বকালের চেয়েও দীর্ঘ ছিল ব্রাজিলীয় সভাপতি জোয়াও হ্যাভালাঞ্জের দায়িত্বকাল। হ্যাভালাঞ্জ ১৯৭৪ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ইংল্যান্ডের স্ট্যানলি রাউস ফিফার সভাপতি ছিলেন ১৯৬১ থেকে ১৯৭৪ পর্যন্ত। হ্যাভালাঞ্জের পর ১৯৯৮ সালে ফিফার অষ্টম সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব হাতে নেন সুইস নাগরিক ব্ল্যাটার। তবে এখনো পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করা সব ফিফা সভাপতির মধ্যে তাঁর বিদায়টাই হল সবচেয়ে বেশি বিতর্কিত, সারা দুনিয়ায় আলোড়ন তুলেই।
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ফিফায় যে সব সংস্কারের দাবি উঠেছে, তারমধ্যে ফিফা সভাপতি পদের মেয়াদ নির্দিষ্ট করে দেওয়ার ব্যাপারটিও আছে। হ্যাভালাঞ্জ আর ব্ল্যাটারের ৪১ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে কেবল মেয়াদই নয়, বয়সসীমাও নির্দিষ্ট করে দেওয়ার ভাবনাটা আছে। মোটকথা, এখন থেকে কোনো সভাপতিই যেন দীর্ঘ সময় ধরে ফিফার সর্বোচ্চ পদে থাকতে না পারেন, সেই ব্যবস্থা রেখে হয়তো খুব দ্রুতই সংস্কার প্রস্তাবটা আনা হবে।
ব্ল্যাটারের উত্তরসূরি হিসেবে এই মুহূর্তে সবচেয়ে আলোচিত নাম মিশেল প্লাতিনি। ফ্রান্সের কিংবদন্তি এই ফুটবলার উয়েফার সভাপতি পদে বেশ অনেক দিন ধরেই সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। ব্ল্যাটার-বিরোধী আন্দোলনের সবচেয়ে উচ্চকিত কণ্ঠ হিসেবে পরিচিত ৫৯ বছর বয়সী প্লাতিনি বিশ্ব ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম ‘গ্রেট’ হিসেবেও চিহ্নিত করা হয়। ফ্রান্সের জার্সি গায়ে ৭২টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা প্লাতিনির হাত ধরেই ১৯৮৪ সালে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা ঘরে তুলেছিল ফ্রান্স। সংগঠক হিসেবেও কিন্তু তাঁর অভিজ্ঞতা যথেষ্ট সমৃদ্ধ। ফিফার সভাপতি পদে প্লাতিনি খেলাটার শোভা-বর্ধক হিসেবেও কাজ করবে বলে অনেকে মনে করেন।
প্লাতিনির সঙ্গে আলোচনায় আছে ব্রাজিলীয় ফুটবল গ্রেট জিকোর নামও। তিনিও ব্ল্যাটারের পদত্যাগের পরপরই ফিফার সভাপতি পদে লড়াই করার ইচ্ছাটা জানিয়ে দিয়েছেন। তিনিও প্লাতিনির মতোই গ্রেট, তিনটি বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ। ক্রীড়ামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন নিজ দেশ ব্রাজিলেও। জাপান, তুরস্ক, রাশিয়া, গ্রিস আর ইরাকে কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে নিজের অভিজ্ঞতাকে নিয়ে গেছেন অন্যমাত্রায়। ফুটবলময় জীবনের অধিকারী জিকোও ফিফার সভাপতি পদে প্লাতিনির মতোই ফুটবলের শোভা-বর্ধক হিসেবে কাজ করবেন—এটা বলে দেওয়াই যায়।
প্লাতিনি আর জিকোর পাশাপাশি আরও বেশ কয়েকটি নাম ঘুরে ফিরছে ফিফার সভাপতি পদে। এই দলে আছেন এবারের ফিফা সভাপতি নির্বাচনে ব্ল্যাটারের প্রতিদ্বন্দ্বী জর্ডানের প্রিন্স, ৩৯ বছর বয়সী আলী বিন আল হুসেইনের নামও। আছে দুই ফরাসি জেরোমে শ্যাম্পেইন ও জেরোমে ভালকের নামও। এঁরা দুজন দীর্ঘ দিন ফিফায় বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এঁদের পাশাপাশি জার্মানির উলফগ্যাং নিয়েরশব্যাচ ও ইতালির ডোমেনিকো স্কালাও লড়াই করতে পারেন ফিফার নতুন সভাপতি পদে।
স্পোর্টস ডেস্ক
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।



Leave a Reply