বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

ভারতের এলআইসি বাংলাদেশে: প্রতিযোগিতায় লাভ গ্রাহকদের

images (17)ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত্ব শীর্ষ জীবন বীমা কোম্পানি ‘লাইফ ইনস্যুরেন্স করপোরেশন অব ইন্ডিয়া ( এলআইসি)-কে বাংলাদেশে ব্যবসা করার অনুমতি দিয়েছে শেখ হাসিনা সরকার। ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত এ কোম্পানি বাংলাদেশে ব্যবসা করবে ‘এলআইসি বাংলাদেশ লিমিটেড’ নামে।

এর আগে ২০১৩ সালে এলআইসি ৩০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধন নিয়ে ব্যবসা করার প্রস্তাব দিলেও আইডিআরএ তা নাকচ করে দিয়েছিল। এবার পরিশোধিত মূলধন হবে ১০০ কোটি টাকা, যার ৫০ শতাংশ ধারণ করবে এলআইসি। আর বাকি ৫০ শতাংশের মালিকানা থাকবে বাংলাদেশিদের হাতে। এর মধ্যে ১০ শতাংশ স্থানীয় উদ্যোক্তা এবং ৪০ শতাংশ পুঁজিবাজারের মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য রাখা হবে। তবে স্থানীয় বিনিয়োগকারী হিসেবে কে বা কোন প্রতিষ্ঠান এলআইসির সঙ্গে থাকছে তা এখনও চুড়ান্ত হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে সরকারের ঘনিষ্ঠ দুইজন ব্যবসায়ী এই শেয়ার পেতে যাচ্ছেন।

হাসিনা সরকারের এই সিদ্ধান্তের ব্যাপারে বীমা ব্যবসায়ীরা বলছেন, এলআইসি বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করলে প্রতিযোগিতা অনেক বেড়ে যাবে, তবে গ্রাহক লাভবান হবে। বাংলাদেশের বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান এম শেফাক আহমেদ বলেছেন,“কিছু শর্তে এলআইসিকে আমরা লেটার অব কনসেন্ট (সম্মতিপত্র) দিয়েছি। শর্তগুলো পূরণ করলে তাদেরকে ব্যবসা করার অনুমোদন দেওয়া হবে।”

এর আগের প্রস্তাব নাকচ হওয়ার পর এলআইসি তাদের পরিশোধিত মূলধন বাড়িয়ে ন্যুনতম ১০০ কোটি টাকা করার প্রস্তাব দেয়। সে অনুযায়ী গত ৩১ মে সম্মতিপত্র পায় এলআইসি।

প্রায় ছয় দশক ধরে জীবন বীমার ব্যবসা চালিয়ে আসা এলআইসির সম্পদের পরিমাণ বর্তমানে ১৫ লাখ কোটি রুপির বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের মেটলাইফ-আলিকো বাংলাদেশে ব্যবসা করলেও তারা কার্যক্রম চালায় মূল কোম্পানির শাখা হিসেবে, নিবন্ধিত কোম্পানি হিসাবে নয়। সেহিসাবে এলআইসি মূল নিবন্ধিত কোম্পানি হিসেবে কার্যক্রম চালাবে বাংলাদেশে।

শর্ত অনুযায়ী এলআইসিকে কার্যক্রম শুরুর আগে স্থানীয় কোনো বিনিয়োগকারীর সঙ্গে চুক্তি করে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধন পেতে হবে। এরপর উদ্যোক্তা অংশের ৫০ শতাংশ, অর্থাৎ ৫০ কোটি টাকার সমপরিমাণ অর্থ এলআইসিকে বৈদেশিক মুদ্রায় আনতে হবে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফরের সময় এলআইসির চেয়ারম্যান এস কে রায়ের হাতে সম্মতিপত্র তুলে দিতে চায় আইডিআরএ। এজন্য সরকারের অনুমোদন চেয়ে অর্থমন্ত্রীকে একটি চিঠিও লিখেছে এই নিয়ন্ত্রক সংস্থা। চিঠিতে বলা হয়েছে, “আইডিআরএর সম্মতিপত্রটি ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরের সময় ৬ জুন সন্ধ্যা ৬টায় তাহার উপস্থিতিতে ভারতীয় জীবন বীমা করপোরেশনের চেয়ারম্যানের নিকট হস্তান্তর করা যেতে পারে। আমরা মনে করি, এর ফলে দুই দেশের মধ্যে বীমা ক্ষেত্রে সহযোগিতার নতুন যুগের সূচনা হবে।”

বাংলাদেশ ইন্সুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস চেয়ারম্যান আহসানুল ইসলাম টিটো বলেন, এলআইসি কার্যক্রম শুরু করলে বাংলাদেশের বীমা কোম্পানিগুলো বড় ধরনের প্রতিযোগিতার মধ্যে পড়বে। ভারতের এলআইসি পুরনো কোম্পানি, তাদের অভিজ্ঞ জনবল আছে। তারা বাজারে নতুন প্রোডাক্ট আনবে। সবমিলিয়ে বলব, এলআইসির বাজারে আসা ইতিবাচক-নেতিবাচক দুটোই হবে। তবে আমাদের গ্রাহকদের জন্য ভালো হবে।”

বাংলাদেশে এখন ৭৭টি বীমা কোম্পানি কাজ করছে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন জীবন বীমা কর্পোরেশন ও বিদেশি মেটলাইফ আলিকোও রয়েছে এর মধ্যে। তবে বেশিরভাগ বীমা কোম্পানির প্রতিই মানুষের আস্থা কম; নানা ধরনের ফাঁকফোকর দিয়ে তারা মানুষকে হয়রানি করে এমন অভিযোগ করেও আর কোনো লাভ এখন হয়না। তাই এলআইসি এলে দেশীয় বীমা কোম্পানিগুলোর কী হবে তা সহজেই অনুমেয়।

বিশেষ প্রতিনিধি
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।
১৫০৫ ঘণ্টা, জুন ৩, ২০১৫

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *