গুজরাতের সোমনাথ মন্দির দর্শন করতে এবার থেকে বিশেষ অনুমতি নিতে হবে অ-হিন্দুদের। আগান অনুমতি ছাড়া তারা মন্দিরে ঢুকতে পারবেন না। মন্দিরের অছি পরিষদ এমনই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সূত্রের খবর, ভিন ধর্মের লোকজনকে সোমনাথ মন্দিরে পা রাখতে হলে পুর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আগাম অনুমতি নিতে হবে। কেন তাঁরা মন্দিরে ঢুকতে চান, সেই কারণ ব্যাখ্যা করেও পুর কর্তৃপক্ষকে বোঝাতে হবে অ-হিন্দু দর্শনার্থীদের।
সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের খবরে অবশ্য বলা হয়েছে যে, মন্দিরের মূল প্রবেশদ্বারে একটি নোটিস টাঙানো রয়েছে। নোটিসে লেখা রয়েছে, শ্রী সোমনাথ জ্যোতির্লিঙ্গ মন্দির হিন্দুদের অতি পবিত্র তীর্থস্থান। সেখানে ঢুকতে হলে মন্দিরের জেনারেল ম্যানেজারের কার্যালয় থেকে অনুমতি নিতে হবে অ-হিন্দুদের। নিরাপত্তার কারণ, ধর্মস্থানের ‘শুদ্ধতা’ রক্ষার কারণ দেখিয়ে এমন বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে মন্দির কর্তৃপক্ষের তরফে।
প্রসঙ্গত দক্ষিণ ভারতের বেশ কিছু মন্দিরেও এমন নিয়ম চালু রয়েছে। কিন্তু সোমনাথ মন্দিরের ক্ষেত্রে এমন বিধিনিষেধে বিতর্ক তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মন্দিরের অছি পরিষদের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, লালকৃষ্ণ আডবাণী, কেশুভাই পটেলের মতো তাবড় বিজেপি নেতারা।
এ ব্যাপারে সোমনাথ ট্রাস্টের ডেপুটি ম্যানেজার বিজয়সিং চাভদা বলেছেন, দু-তিনদিন আগে সিদ্ধান্তটি নিয়েছেন সোমনাথ ট্রাস্টের সচিব পি কে লাহিড়ি। নিরাপত্তার কারণেই এমন সিদ্ধান্ত বলে দাবি করেছেন চাভদা। প্রাক্তন আমলা লাহিড়ি বলেছেন, মন্দিরে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের দাবি তুলেছেন কিছু লোক। তারপরই নোটিস দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের নজরে এসেছে যে, অ-হিন্দুরা মন্দিরে ঢোকার চেষ্টা করছে। নিরাপত্তারক্ষীরাও প্রশ্ন তুলেছেন, অ-হিন্দুদের ঢুকতে দেওয়া উচিত হবে কিনা। আমরা আমাদের প্রথামাফিক প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তিনি এও বলেছেন, নিরাপত্তার শঙ্কাটা সবসময়ই আছে।
সম্প্রতি বোরখা-পরা এক মহিলাকে ঢুকতে দেওয়া হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে এই সুযোগে কেউ ঢুকে পড়ে যদি নাশকতা ঘটায়? তাহলে কি ভিনধর্মীদের প্রবেশে নিয়ন্ত্রণ আনা উচিত? অন্যান্য ধর্মেও নিজ নিজ ধর্মবিশ্বাসের বাইরের লোকজনকে তাদের পবিত্র ধর্মস্থানে ঢুকতে দেওয়া হয় না বলে দাবি করেন লাহিড়ি। তিনি বলেন, পার্সি-আগিয়ারিতে যান, সেখানেও নোটিস বোর্ডে লেখা রয়েছে, অ-পার্সিদের ভিতরে ঢোকার অনুমতি নেই। চাইলেই কি মক্কা শহরে ঢোকা যায়? প্রতিটি ধর্মেরই নিজ নিজ পবিত্র তীর্থক্ষেত্রে প্রবেশে নিয়ন্ত্রণ জারির অধিকার আছে।
ইতিহাসের পাতায় বিশেষ স্থান রয়েছে সোমনাথ মন্দিরের। অতীতে বারবার ভিন ধর্মের আক্রমণকারীদের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছে এই মন্দির। প্রতিবারই মন্দির পুনর্নির্মাণের পর মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে।
কলকাতা ব্যুরো
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।



Leave a Reply