মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের স্বর্ণ চুরির ঘটনার কথা জানাজানি হওয়ায় বিদেশিদের সম্মাননা জানানোর ক্রেস্ট তৈরির দায়িত্ব এবার তাদের দেওয়া হয়নি। ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীকে দিতে যাওয়া সম্মাননা তাই তৈরির দায়িত্ব পেয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর আগে ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জিকে জানানো সম্মাননার আদলে অটল বিহারি বাজপেয়ীকে ‘বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা’ দেয়া হবে। এরই মধ্যে সম্মাননা জানানোর সব প্রস্তুতি শেষ করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। ৭ জুন সকালের দিকে বাজপেয়ীকে সম্মাননা জানানোর অনুষ্ঠানটি হবে বঙ্গভবনে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই ক্রেস্ট গ্রহণ করবেন।
এর আগে গত বছরের ১৮ই সেপ্টেম্বর ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গঠিত যৌথ পরামর্শক কমিশনের তৃতীয় বৈঠকের সময় বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করতে অটল বিহারি বাজপেয়ীকে সম্মাননা দেয়ার কথা ছিল।
সম্মাননা অনুষ্ঠানের আগে প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সাক্ষাতে মিলিত হবেন। প্রধানমন্ত্রীসহ রাষ্ট্রের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।
‘বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা’ প্রদান অনুষ্ঠানের শুরুতেই মুক্তিযুদ্ধের প্রামাণ্যচিত্র দেখানো হবে। চিত্র দেখানোর পাশাপাশি সাইটেশন পড়ে শোনাবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূঁঞা। এরপর প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দেবেন। তারা তাদের বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধে অটল বিহারি বাজপেয়ীর অবদানের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবেন।
নরেন্দ্র মোদির সংক্ষিপ্ত বক্ততাপর্বও রাখা হয়েছে এ অনুষ্ঠানে। তাদের বক্তব্যপর্ব শেষে সম্মাননাটি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাতে তুলে দেয়া হবে। বাজপেয়ীর পক্ষে তিনি সম্মাননাটি গ্রহণ করবেন। এর আগে বাজপেয়ীকে সম্মাননা দেয়ার সিদ্ধান্ত হলেও অসুস্থতার কারণে তিনি আসতে পারেননি।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে বাজপেয়ী সম্পর্কে বলা হবে, ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং ভারতীয় জনতা পার্টির সাবেক সভাপতি অটল বিহারি বাজপেয়ী মুক্তিযুদ্ধের প্রথম থেকেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে জোরালো অবস্থান নেন। ওই সময় ভারতীয় জনসংঘের সভাপতি এবং লোকসভার সদস্য হিসেবে তিনি বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন এবং মুজিবনগর সরকারকে সমর্থন দেয়ার জন্য তৎকালীন ভারত সরকারের কাছে দাবি জানান। তার নেতৃত্বে ভারতীয় জনসংঘ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সত্যাগ্রহ আন্দোলন ও প্রতিবাদ র্যালির আয়োজন করে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের মানুষের স্বাধিকার আন্দোলনের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেন তিনি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অটল বিহারি বাজপেয়ীকে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের দেয়া নমুনা অনুসারে ৩০ ভরি জার্মান সিলভারের (রৌপ্য) তৈরি জাতীয় স্মৃতিসৌধের নকশার ওপর ২২ ক্যারেট মানসম্পন্ন ১৪ গ্রাম স্বর্ণের কোট এবং লোগো, লক ও কবজায় ৮ দশমিক ৫ গ্রাম স্বর্ণের কোটসহ ২২ দশমিক ৫ গ্রাম স্বর্ণের ক্রেস্ট ও সাইটেশন থাকবে।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখার জন্য বিদেশী বন্ধু ও সংগঠনকে বিদেশীদের মধ্যে সাত পর্বে ৩৩৮টি ক্রেস্ট দেয়া হয়েছে। এসব ক্রেস্টে স্বর্ণ চুরিসহ নানা প্রশ্ন রয়েছে। সরকারের বিভিন্ন সংস্থা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


