বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ৬ জুন ঢাকা সফরের প্রথমদিনের দ্বিতীয় কর্মসূচি হিসেবে শনিবার দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে এ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন তিনি। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে তিনি বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর ও ঘুরে দেখেন।
পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের নির্মমতার চিহ্ন দেখে কিছুক্ষণের জন্য থমকে যান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ৩০ মিনিটেরও কিছু বেশি সময় ধরে বঙ্গবন্ধু জাদুঘর পরিদর্শনের সময় দৃশ্যত তার মুখে ফুটে উঠে বেদনার চিহ্ন। এ সময় তিনি আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন।
তাকে ৩২ নম্বরের সেই ঐতিহাসিক বাড়ি এবং জাদুঘরের বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখান বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র এবং শেখ রেহানার ছেলে রেজওয়ান মুজিব সিদ্দিকী এবং তার স্ত্রী। পরে পরিদর্শন বইতেও স্বাক্ষর করেন মোদি।
শনিবার ঢাকার আসার পর বেশ কয়েক দফায় বঙ্গবন্ধুর প্রতি গভীর শদ্ধা প্রদর্শন করেন নরেন্দ্র মোদি। ৩২ নম্বরের বাড়ি থেকে বের হওয়ার পরও বারবার পেছনে ফিরে তাকান তিনি। বঙ্গবন্ধুকে গণতন্ত্রের মূর্তপ্রতীক হিসেবে অভিহিত করে টুইট করেন। আবার ভাষণেও বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করেন গভীর শ্রদ্ধায়।
বাংলাদেশ সফররত ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন গণতন্ত্রের এক মূর্ত প্রতীক ও ভারতের মহান বন্ধু। শনিবার বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানিয়ে হোটেল সোনারগাঁওয়ে ফিরে এক টুইটার বার্তায় তিনি এ কথা বলেন। তিনি লিখেছেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান, গণতন্ত্রের প্রতিমূর্তি, এক বিশাল ব্যক্তিত্ব এবং ভারতের এক মহান বন্ধুকে শ্রদ্ধা।’
বাংলাদেশের উদ্দেশে ভারত ছাড়ার সময় টুইট করেই বিমানে উঠেছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই ধারা তিনি অব্যাহত রেখেছেন। ঢাকা পৌঁছে এ পর্যন্ত তিনটি টুইট করেছেন। ঢাকায় পৌঁছানোর পরপরই দুটি টুইট করেন নরেন্দ্র মোদি। এসব টুইটে বাংলার পাশাপাশি ইংরেজি অনুবাদও দিয়েছেন।
প্রথম টুইটার বার্তায় তিনি লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ, আমি আমার সাথে ভারতের মানুষের ভালবাসা এবং শুভেচ্ছা নিয়ে আসছি।’ এর পরপরই দেয়া আরেকটি টুইটার বার্তায় উষ্ণ অভ্যর্থনার জন্য শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান নরেন্দ্র মোদি, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, উষ্ণ অভ্যর্থনার জন্য ধন্যবাদ। আমি একটি সুন্দর সফর আশা করছি, যা ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ককে সুদৃঢ় করবে।’
এর আগে শনিবার সকাল ১০ টা ১২ মিনিটে নরেন্দ্র মোদীকে বহনকারী ভারতের বিমান বাহিনীর বিশেষ উড়োজাহাজটি হজরত শাহজালাল বিমান বন্দরে অবতরণ করে। টারমাকে ভেড়ার ১৫ মিনিট পর উড়োজাহাজ থেকে নেমে আসেন সাদা পাজামা-পাঞ্জাবি ও ছাই রঙের ওয়েস্ট কোট পরা মোদি। সিঁড়িতেই সবাইকে নমস্কার জানান তিনি।
এ সময় লাল গালিচায় অপেক্ষা করছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মোদি নেমে এলে তাকে অভ্যর্থনা জানান তিনি। একটি শিশু ভারতের প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন শুভেচ্ছার ফুল। লাল গালিচা সংবর্ধনার পর মোদিকে দেয়া হয় গার্ড অব অনার। দুই প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর সালাম নেন, এ সময় বাজানো হয় দুই দেশের জাতীয় সঙ্গীত।
এরপর যান সাভার স্মৃতিশোধে শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। সেখান থেকে ফেরার পথে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান নরেন্দ্র মোদি। এরপর সোনারগাঁও হোটেলে ওঠেন তিনি।
বিশেষ প্রতিনিধি
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।



Leave a Reply