বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

গাজীপুরের সেই রিসোর্টে এবার লাশ

Rangamati-Resort-Gazipurগাজীপুরের রিসোর্টগুলোতে কী হচ্ছে?- শিরোনামে নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কমের প্রকাশের দুই দিন পরই খবর পাওয়া গেল সেই রিসোর্টটিতে একজনের মৃত্যুই হয়েছে। গাজীপুরের কালিয়াকৈরে রাঙামাটি ওয়াটার ফ্রন্ট নামের একটি রিসর্টে বেড়াতে গিয়ে লাশ হয়ে বাড়ি ফিরলেন সাবানুর আলম ওরফে শান্ত। এ ঘটনায় শনিবার রাতে রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলার অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করেন তাঁর পিতা মো. ইকবাল আলম। মামলায় রিসোর্টের মালিকসহ ১৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

মৃত সাবানুর আলম (২৭) প্রথম আলো ডিজিটালে কাজ করতেন। গত বৃহস্পতিবার একই ঘটনায় ডুবে যান সাবানুরের সহকর্মী মো. আরেফিন। সাবানুর তাঁর পিতার সঙ্গে ঢাকার সবুজবাগ থানার বাসাবো এলাকায় বাস করতেন। কালিয়াকৈর থানার ওসি জানান, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের ​চেষ্টা চলছে।

মামলার এজাহার ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সাবানুর আলম গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার সময় তাঁর সহকর্মীদের সঙ্গে কালিয়াকৈর উপজেলার বাগাম্বর গ্রামের রাঙামাটি ওয়াটার ফ্রন্ট রিসর্টে আনন্দ ভ্রমণে যান। আনুমানিক রাত ৯টার দিকে সাবানুর ও তাঁর অফিস সহকর্মী আরেফিন রিসর্টের সুইমিং পুলে সাঁতার কাটতে নামেন। একই সময়ে পাশের আরেকটি ছোট সুইমিং পুলে সাবানুরের সহকর্মী মেহেদি রেজা তাঁর ছেলেকে নিয়ে সাঁতার কাটতে নামেন । সাবানুর ও তাঁর সহকর্মী দুজনে সাঁতার কাটা অবস্থায় পানিতে ডুব দিয়ে পানি হতে উঠতে না দেখে সুইমিং পুলের পাশে দাঁড়ানো তাঁর সহকর্মী আমিনুর রহমান চিৎকার করে সবাইকে ডাকাডাকি করতে থাকে। অজ্ঞান অবস্থায় প্রথমে আরেফিন ও পরে সাবানুরকে উদ্ধার করা হয়।

এ সময় রিসর্টের তত্ত্বাবধানে থাকা লোকজনকে খোঁজাখুঁজি করে পাওয়া গেলেও তারা কোনো সাহায্য করেননি। অনেক চেষ্টার পরে তাঁদের সফিপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। ওই হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক সাবানুরকে মৃত ঘোষণা করেন। আরেফিনকে আইসিইউতে চিকিৎ​সার পর আজ শনিবার হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

Shantoসাবানুরের বাবার অভিযোগ, আজ তিনি লোকজন নিয়ে ওই রিসর্টে গিয়ে দেখতে পান, সুইমিং পুলের পানি দীর্ঘদিন পরিবর্তন না করায় সুইমিং পুলের পাড়সহ তলদেশ শেওলা পড়ে পিচ্ছিল ছিল। এ ছাড়া সুইমিং পুল এলাকায় সম্পূর্ণ অন্ধকারাচ্ছন্ন এবং ফ্লাড লাইট সব অকেজো অবস্থায় ছিল। সুইমিং পুলের নিয়মানুযায়ী গভীরতা কত তার কোনো নির্দেশনা ছিল না। রিসর্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলার কারণে তাঁর ছেলের মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

মামলার আসামিরা হলেন রাঙামাটি ওয়াটার ফ্রন্টের চেয়ারম্যান একেএম রফিকুল ইসলাম, তাঁর স্ত্রী ও রিসর্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক লুৎফা ইসলাম, জিএম মুসা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ১৭ জন।

নিহতের পিতা ইকবাল আলম বলেন, ‘রিসর্টের কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণেই তাঁর ছেলের মৃত্যু হয়েছে। মামলা করলে আমার ছেলেকে ফেরত পাব না, কিন্তু কর্তৃপক্ষ সতর্ক হলে আর কোনো পিতার সন্তান হারাতে হবে না।’

রাঙামাটি রিসোর্টের ব্যবস্থাপক মো. ফারুক হোসেন জানান, তাঁরা গোসল করতে সুইমিং পুলের গভীরে চলে গলে সেখানে ডুবে যান। পরে তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

সংবাদদাতা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

গাজীপুরের রিসোর্ট নিয়ে আগের নিউজ:   গাজীপুরের রিসোর্টগুলোতে হচ্ছেটা কী?

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *