ভারত বিশ্বশান্তির জন্য এতো কিছু করছে, কিন্তু জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পদ এখনো দেওয়া হচ্ছে না। আরে, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারত যে ৯০ হাজার পাকিস্তানি সেনাকে আটক করে ছেড়ে দিয়েছিল তার বিনিময়েও তো নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্য করা যেতে পারে। কথাগুলো বাংলায় হলেও তা হিন্দিতে বলছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দুই দিনের ঢাকা সফরের শেষ কর্মসূচিতে দেওয়া পাবলিক বক্তৃতায় তিনি এই কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তিনি জাতিসংঘ (রাষ্ট্র সঙ্ঘ)-এরও কড়া সমালোচনা করেন।
সফর শেষে রবিবার রাতেই তিনি ঢাকা ছেড়ে নয়াদিল্লির উড়ানে ওঠেন।
রোববার সন্ধ্যায় ঢাকার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে জনবক্তৃতায় এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন মোদি। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। বক্তৃতার শুরুতে মোদি পরিষ্কার বাংলায় বলেন, ‘কেমন আছ? আমরা তোমার সাথে আছি। আমরা তোমাদের সাথে নিয়ে চলব।’ এ কথা বলার পর তিনি অতিথিদের কাছে জানতে চান ‘আমার বাংলা কেমন? ’
জনবক্তৃতা বাংলায় শুরু করলেও হিন্দিতে বক্তব্য দেন মোদি।
জাতিসংঘের সমালোচনা করে মোদি বলেন, ৭০ বছর হতে চললেও জাতিসংঘ চলে পুরনো নিয়মে। এটা পাল্টাতে হবে। ভারত এতো বড় দেশ, এতো মানুষ, বিশ্বশান্তির জন্য এতো প্রাণ দিয়েছে ভারতীয়রা তবুও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পদ পাচ্ছে না।
মোদি বলেন, প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ৭৫ হাজার ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ৯০ হাজার ভারতীয় বিশ্বের অন্য দেশে শান্তি আনতে প্রাণ দিয়েছে। কিন্তু তবুও নাকি ভারত বিশ্বশান্তির জন্য কিছু করেনি। এছাড়া বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের যে ৯০ হাজার সৈন্যকে আমরা আটক করেছিলাম, তাদের তো কিছু করা হয়নি। বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের প্রতি সম্মান দেখিয়ে তাদের ছেড়ে দিয়েছি। তাদের তো জিম্মি করে কিছু করিনি। এখন তো একটি প্লেন হাইজ্যাক করে কয়েকজনের জন্য কত কিছু আদায় করা হয়। কিন্তু সেই সময় ভারত তো কিছু করেনি; বিশ্বশান্তির জন্য এই পদক্ষেপের কারণেই তো ভারতকে নিরাপত্তা পরিষদে সদস্য করা যায়।


