বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশে মোবাইলে কথা বললেই টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে

Mobileমোবাইল ফোনে কথা বললেই নতুন করে ৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক দিতে হচ্ছে। ইন্টারনেট ডেটা সেবা নিতে গেলেও বাড়তি অর্থ গুনতে হচ্ছে। বাজেট পেশের দিন থেকেই মোবাইল সেবার ওপর প্রস্তাবিত এ সম্পূরক শুল্ক আদায় শুরু করেছে মোবাইল অপারেটররা। বাজেট পেশের দিন থেকে এ শুল্ক কার্যকর হয়ে গেছে। কিন্তু গ্রাহকদের মধ্যে এ নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে। অনেকেই বলছেন, বাজেটে শুধু এ ধরনের শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। তাহলে বাজেট হওয়ার আগেই কেন অর্থ কেটে রাখবে? বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সবশেষ হিসাব অনুযায়ী বর্তমানে দেশে মোবাইল ফোন গ্রাহকের সংখ্যা ১২ কোটি ৪৭ লাখ আর ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৪ কোটি ৪২ লাখ।

নতুন সম্পূরক শুল্ক কার্যকর হওয়ার পর একজন গ্রাহককে ১০০ টাকার কথা বলা, ইন্টারনেট সেবা ব্যবহার বা যেকোনো ধরনের মোবাইল সেবা নেওয়ার ক্ষেত্রে পাঁচ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করতে হবে। বর্তমানে গ্রাহককে ১০০ টাকার কথা বলার ক্ষেত্রে ১৫ টাকা মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) দিতে হয়। ১০০ টাকার রিচার্জে ৮৫ টাকার কথা বলতে পারেন গ্রাহক। নতুন শুল্ক আরোপের ফলে গ্রাহক ৮০ টাকার কথা বলতে পারবেন। এর বাইরেও মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপর এক শতাংশ সারচার্জ আরোপের বিধান রেখে গত ৩০ মার্চ আরেকটি আইনের খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রী সভা। এ এক শতাংশ যোগ হলে ১০০ টাকার ব্যবহারে গ্রাহকদের মোট ২১ টাকা বেশি খরচ করতে হবে।

আইনানুযায়ী, শুল্ক ও মূল্য সংযোজন কর (মূসক) সংক্রান্ত সব পরিবর্তনই প্রতিবছর যেদিন বাজেট ঘোষণা হয়, সেদিনই সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর করা হয়। তাই গত ৪ জুন বাজেট ঘোষণার অর্থমন্ত্রী শুল্ক, মূসক, সম্পূরক শুল্ক সংক্রান্ত যেসব পরিবর্তনের প্রস্তাব করেছেন, তা ইতিমধ্যে কার্যকর হয়ে গেছে। আমদানি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর (মূসক), নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্কসহ সব ধরনের করারোপের ক্ষেত্রে নতুন শুল্ক বা মূসক হার প্রযোজ্য হবে। প্রভিশনাল কালেকশন অব ট্যাক্সেস অ্যাক্ট, ১৯৩১ সালের ৩ নম্বর ধারা অনুযায়ী, বাজেটের প্রস্তাবসমুহ কার্যকর করা হয়েছে।

প্রতিবছর অর্থমন্ত্রীর তাঁর বাজেট বক্তৃতায় শুল্ক ও মূসক সংক্রান্ত যেসব প্রস্তাব করেন, তা এই আইনের মাধ্যমেই তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হয়। এটিই নিয়ম। প্রতিবারই অর্থবিলে প্রভিশনাল কালেকশন অব ট্যাক্সেস অ্যাক্টের কথা উল্লেখ করে তাৎক্ষণিকভাবে প্রস্তাবসমুহ কার্যকর করার ঘোষণা দেওয়া হয়। অর্থবিলের শেষাংশে এ কার্যকর করার ঘোষণাটি থাকে। তবে বাজেটের আয়কর সংক্রান্ত প্রস্তাবসমুহ জুলাই মাস থেকে কার্যকর করা হয়। কেননা আয়কর বর্ষ শুরু হয় জুলাই মাসে, আর শেষ হয় পরের বছর জুন মাসে।

শুল্ক সংক্রান্ত পরিবর্তনগুলো তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর না করা হলে কোন পণ্যের আমদানি শুল্ক কিংবা সম্পূরক শুল্ক বাড়ানো কিংবা কমানো হলে স্থানীয় বাজারে এর প্রভাব পড়তে পারে। মূসকের পরিবর্তনগুলোও একই কারণে তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হয়।

এদিকে সবগুলো মোবাইল অপারেটরই জানিয়েছে, আইনি বাধ্যবাধকতার কারণেই তাদের এটা বাস্তবায়ন করতে হচ্ছে। আইন অনুসারে শুল্ক আদায় করতে অপারেটররা বাধ্য। তবে বাজেট আলোচনায় পাঁচ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের বিষয়টি সাংসদরা বিবেচনা করবেন বলে তাঁদের প্রত্যাশা। তাঁরা মনে করেন, এ শুল্ক গ্রাহকের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে।

কয়েকটি মোবাইল ফোন কোম্পানি ইতিমধ্যেই এসএমএস পাঠিয়ে গ্রাহকদের এ বিষয়ে জানিয়ে দিয়েছে। আবার সবগুলো কোম্পানি এক সঙ্গে সংবাদমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়ে নতুন আরোপিত এ শুল্কের বিষয়ে গ্রাহকদের জানাচ্ছে। এর মাধ্যমে গ্রাহকদের জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে, ৪ জুন থেকেই আগের সব করের পাশাপাশি নতুন সম্পূরক শুল্ক আদায় করা হচ্ছে।

গ্রামীণফোন গ্রাহকদের এসএমএস করে বলেছে, ‘সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মোবাইল ফোন ব্যবহারে ৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, যা আপনাদের সকল ধরনের মোবাইল ব্যবহারের ওপর প্রযোজ্য হবে।’

রবির ভাইস প্রেসিডেন্ট (কমিউনিকেশনস ও করপোরেট রেসপন্সিবিলিটি) ইকরাম কবীর বলেন, তাঁরা শনিবার রাত থেকে নতুন হিসেবে শুল্ক আদায় শুরু করেছেন। ইতিমধ্যেই তাঁরা গ্রাহকদের বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছেন।

গত বৃহস্পতিবার ২০১৫-১৬ অর্থ বছরের বাজেট বক্তৃতায় মোবাইলের সিম বা রিম কার্ডের মাধ্যমে প্রদত্ত সেবার ওপর ৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী। অবশ্য মোবাইল ফোনের সিম কার্ড ইস্যুর ক্ষেত্রে শুল্ক কমানোর প্রস্তাব করেন তিনি। সিমকার্ড ইস্যুর ক্ষেত্রে ৩০০ টাকা এবং প্রতিস্থাপিত সিমকার্ডের ক্ষেত্রে ১০০ টাকার পরিবর্তে সিমকার্ড ইস্যু এবং প্রতিস্থাপিত সিমকার্ড উভয় ক্ষেত্রে ১০০ টাকা শুল্ক-কর ধার্য করার প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী।

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *