বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

চীনে এমবিবিএস কোর্সের নামে যাচ্ছেতাই: প্রতারিত বাংলাদেশিরা

ncuভবিষ্যতে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্নে বিভোর হয়ে সুদূর চীনে এমবিবিএস পড়তে গিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন বাংলাদেশের প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থী। এসব শিক্ষার্থী তিন বছর আগে চীনের নান চ্যাং ইউনিভার্সিটি নামের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে মেডিকেল ফ্যাকাল্টিতে ভর্তি হয়েছিলেন। সম্প্রতি দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয় (চিকিৎসা শিক্ষা নিয়ন্ত্রনকারী সংস্থা) বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়টির অনুমোদন বাতিল করায় অর্ধশত বাংলাদেশির ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

বিপাক থেকে উদ্ধার পেতে শিক্ষার্থীরা এখন চীনের শিক্ষা মন্ত্রণালয়, চীনে বাংলাদেশের দূতাবাস ও দেশের স্বাস্থ্য অধিদফতর এবং বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে দৌড়ঝাঁপ শুরু করছেন। কিন্তু বিষয়টির সুরাহা না হওয়ায় সকলেই মানসিকভাবে মুষড়ে পড়েছেন।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, চীনে বাংলাদেশ দূতাবাসের সেকেন্ড সেক্রেটারি মো. আজগর হোসেন গত ২১ মার্চ বিএমডিসির রেজিস্ট্রারের কাছে এই শিক্ষার্থীরা পড়াশুনা শেষে ফিরে এলে তাদের রেজিস্ট্রেশন সনদ দেয়ার বিষয়টি ভেবে দেখার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন। দূতাবাস কর্মকর্তা ওই চিঠির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়টির আগে অনুমোদন ছিল এই মর্মে বিশ্ববিদ্যালয়ের দাখিলকৃত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বিএমডিসিতে পাঠিয়েছে।

বিএমডিসির রেজিস্ট্রার ডা. জাহেদুল হক বসুনিয়া বলেন, শুধু দূতাবাস কর্মকর্তার চিঠি নয়, বিপাকে পড়া শিক্ষার্থীদের অনেকে তার সঙ্গে দেখা করে কান্নাকাটি করেছেন। তাদেরকে সহমর্মিতা দেখানো ছাড়া আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে তার পক্ষে কোনো কিছু করা সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।

সবশেষ তথ্যানুসারে চীনে সরকারিভাবে অনুমোদনপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে মেডিকেল ফ্যাকাল্টির সংখ্যা মোট ৫১টি। এ সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি ভাষায় পড়াশুনা করার সুযোগ রয়েছে। অনুমোদন থাকলেও সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান এক নয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চীনের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আইন অনুসারে অনিয়ম বা অন্য কোনো অভিযোগে প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন বাতিল হলেও শিক্ষার্থীরা যাতে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রেডিট ট্রান্সফার করে বাকি শিক্ষাকার্যক্রম অব্যাহত রাখতে পারে সে বিধান রাখা হয়েছে।

বিপাকে পড়া মোট ৪১ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী গত কয়েকমাস যাবত সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত অন্য মেডিকেলে ক্রেডিট ট্রান্সফার করতে চেষ্টা চালাচ্ছেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নানা টালবাহানায় তাদের এনওসি (নো অবজেকশন সার্টিফিকেট) দিচ্ছে না। ফলে তারা অন্য কোথাও ভর্তিও হতে পারছেন না।

জানা গেছে, ২০১২ সালের আগে বাংলাদেশ থেকে যেসব শিক্ষার্থী চীনসহ বিভিন্ন দেশে ডাক্তারি পড়তে গেছেন তাদের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা বিএমডিসি থেকে ন্যুনতম শিক্ষাগত যোগ্যতার মাপকাঠি নির্ধারিত ছিল না। ফলে দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিভাগে এইচএসসি পাস করেই বহু শিক্ষার্থী চীনে ডাক্তারি পড়তে গেছেন। মোট কত সংখ্যক শিক্ষার্থী বর্তমানে চীনের মেডিকেল ফ্যাকাল্টিতে পড়াশুনা করছেন এর কোনো পরিসংখ্যান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদফতর কিংবা বিএমডিসিতে নেই।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, অধিদফতর ও বিএমডিসির একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, চীনের বিভিন্ন তালিকাভুক্ত নিম্নমানের বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল ফ্যাকাল্টিতে শিক্ষার্থী সংগ্রহের জন্য বাংলাদেশে এজেন্ট নিয়োগ দিয়েছে। বাংলাদেশি এজেন্টরা শিক্ষার্থীকে ভর্তি করালে তাদের জন্য জনপ্রতি ১৫০০ ডলার কমিশনের অফার রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *