বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

চা-বিক্রেতা মোদি লজ্জা দিলেন ডিজিটাল বাংলাদেশকে

Modi-tweets-photoভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্পর্কে নানাভাবে নানা কথা বলা হয়। তিনি নাকি একসময় চা বিক্রি করতেন বলেও গল্প চালু আছে। যাই হোক, মোদি রাজনীতির পথের বাঁক পেরিয়ে এখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। ঢাকা সফর বাংলাদেশের জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রেই মাইলফলক হয়ে থাকলো। কিন্তু একটি ব্যাপারে তিনি বাংলাদেশের নেতৃত্বকে লজ্জা দিয়ে গেলেন! আর তা হলো ইন্টারনেটের সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম দিয়ে।

হ্যাঁ, এটা টুইটার ও ফেসবুকের কথা হচ্ছে। বিশেষ করে মোদি টুইটারের সর্বোচ্চ ব্যবহার করছেন। তার এই সফরের আগে থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত চল্লিশের বেশি টুইট করেছেন। দিল্লিতে প্লেনে ওঠার আগে থেকে শুরু করে ফিরে যাওয়া অবধি সবকিছু তিনি টুইটারে জানিয়েছেন।

বাংলাদেশের সঙ্গে যে চুক্তিগুলো সই হলো তাও মোদি নিজে সবচেয়ে আগে টুইটারে জানান। তিনি টুইটারে ওই চুক্তির কপির ছবি তুলে বিশ্বের মানুষকে জানিয়ে দেন। চুক্তি শেষ হওয়ার আধঘণ্টার মধ্যেই। শুধু তাই নয়, মমতার সঙ্গে তার ঢাকায় বৈঠকের ছবিও তিনি টুইটারে দিয়েছেন।

নরেন্দ্র মোদির টুইটের মাধ্যেম বাংলাদেশ সহ বিশ্বের গণমাধ্যমগুলো সর্বশেষ ‘সঠিক’ সংবাদ পেয়েছে। মোদি যা অকপটে টুইটে জানান, তা একজন সংবাদকর্মীকে বাংলাদেশের মন্ত্রী বা কর্মকর্তাদের থেকে পেতে ঘাম ছুটে যায়- যেকোনো সাংবাদিকই এটা মানবেন।

মোদি একের পর এক টুইট করছেন কিভাবে? কেউ কেউ বলেন এ জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রয়েছেন। তা যদি থেকেও থাকে তবে সেটিও তো একটি বড় দৃষ্টান্ত।

মোদির মতো একজন মানুষ- যাকে সাম্প্রদায়িক বলেও অভিযোগ করা হয়, সেই মানুষটি প্রধানমন্ত্রী হওয়া সত্বেও মুক্ত তথ্য প্রবাহে যেভাবে বিশ্বাস করেন এবং তথ্যের অবাধ প্রবাহ সঠিক রাখতে সহযোগিতা করেন তা নিঃসন্দেহে প্রশংসাযোগ্য।

মোদির মতো টুইট না হলে এই সফরে সর্বশেষ গুরুত্বপূর্ণ অনেক তথ্যই সময়মতো সংবাদমাধ্যমগুলো পেত না; যা প্রকারান্তরে দর্শক বা পাঠকেরই ক্ষতি।

বাংলাদেশ ২০০৯ সাল থেকে ‘ডিজিটাল’ হয়েছে। দেশের সবকিছুই ডিজিটাল হিসেবে হচ্ছে বলে সরকার দাবি করছে। বাংলাদেশের মতো ভারতে হয়তো ডিজিটালের এতো বাগাড়ম্বর নেই। কিন্তু এদেশের মন্ত্রণাল্রয়গুলো এখনো ভারতের মতো তথ্য প্রদানে সাহসী হতে পারেনি।

মোদি যেভাবে টুইট করছেন, বা তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েব সাইট ও ফেসবুক পেজে নিয়মিত ছবি ও তথ্য প্রকাশ হচ্ছে- তার কোনোটিই কী হয় বাংলাদেশে? একজন প্রধানমন্ত্রী হয়ে মোদি যা পারেন তা এই ডিজিটাল বাংলাদেশের কেউই কেন পারেন না। এদেশের মন্ত্রীদের মধ্যে তথ্য প্রযু্ক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম অবশ্য ফেসবুকে নিয়মিত আপডেট দেন; কিন্তু তাও সপ্তাহে দু’একদিন। এছাড়া এদেশের আরো কয়েকজনের ফেসবুক পেজ ‘অফিসিয়াল’ হিসেবে ফেসবুক থেকে সার্টিফিকেট পেলেও তা আসলে নিয়মিত তথ্য প্রদানে সক্ষম নয়।

মোদির গত দুইদিনের টুইট নিয়ে সফর সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি অনেক কর্মকর্তা ও সাংবাদিকরা বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন, যা অনেককেই বিস্মিত করেছে।

অনেকেই এমন মন্তব্য করেছেন, মোদির থেকে এবার যদি এদেশের কেউ হলেও অন্তত প্রকৃত ‘ডিজিটাল’ হয়ে ওঠার চেষ্টা শুরু করেন।

মোদির মতো সামাজিক স্তর থেকে তো আমাদের দেশের নেতৃত্বের থাকা মানুষগুলো উঠে আসেননি, তবুও কেন তাহলে তারা পারবেন না।

-বিশেষ সম্পাদকীয়
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

ঢাকা সফরে নরেন্দ্র মোদির টুইটগুলো

 

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *