রাজধানীর বনানীর একটি সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাকে অপহরণের এক মাস হলেও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ ও র্যাব। অপহৃত কর্মকর্তার নাম এএসএম ফারহান। অপহরণকারীরা মুক্তিপণ হিসেবে তার বাবা ও ভাইয়ের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে টাকা নিলেও ছেড়ে দেয়নি তাকে। স্বামীর প্রতীক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন নববধূ; যার বিয়ে হলেও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে শ্বশুড় বাড়িতে ওঠা হয়নি। ফারহানের মা শয্যাশায়ী। ছেলের জন্য বাবাও দিশাহারা। থানায় মামলা, জিডি, র্যাব, ডিবি পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সব দফতরে অভিযোগ করে সন্ধান মেলেনি ফারহানের।
ফারহানের বাবা সাহাদাত হোসেন জানান, তিনি পেট্রোবাংলার ডিজিএম পদ থেকে অবসর নিয়েছেন। দুই ছেলের মধ্যে ফারহান ছোট। তাদের বাসা রূপনগর আবাসিক এলাকার ১৩ নম্বর সড়কের ৩২ নম্বরে। ফারহান এমবিএ শেষ করে বনানী থানাধীন ৫, মহাখালীর ডিএনএস সফটওয়্যার লিমিটেডের রিলেশনশিপ ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মাত্র তিন মাস আগে উত্তরার বাসিন্দা ফারজানা আক্তার ববিকে বিয়ে করেন। এখন ছেলের বউকে ঘরে তুলে নেননি তার মা-বাবা। আগামী অক্টোবরে বৌভাতের দিন-তারিখ নির্ধারিত হয়েছে। ফারহান ১১ মে বিকাল ৪টা ৪০ মিনিটে অফিস থেকে বের হন। তার নানি শাশুড়িকে দেখার জন্য বারডেম হাসপাতালে যাওয়ার কথা ছিল। সর্বশেষ বিকাল সোয়া ৫টায় তার বন্ধু মোহাম্মদপুরের ইয়াহিয়া রনির সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেছিলেন ফারহান। এরপর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন তিনি। বনানী থানা পুলিশ মোবাইল ফোন ট্র্যাংকি করে ফারহানের সর্বশেষ অবস্থান পেয়েছেন শাহআলী থানার চটবাড়ি এলাকায়।
সাহাদাত হোসেন জানান, ১৪ মে সকাল ৬টার দিকে তার মোবাইল ফোনে ০১৮১১৫৪২৩১৬ নম্বর থেকে একটি কল আসে। নম্বরটি ফারহানের বাবার নিশ্চিত হয়েই অপর প্রান্ত থেকে ফোন লাইনটি কেটে দেয়া হয়। পরদিন দুপুর থেকে ফোন করে ফারহানকে রাখার খরচ বাবদ ২৫ হাজার টাকা চায়। কিছু সময় পর ফারহানের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন ০১৯২৬২১৫১১৩ থেকে আবার তার (ফারহানের বাবা) কাছে ২৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়। কিছু সময় পর ফারহানের খালু তৌহিদুল ইসলামের মোবাইল ফোনে ফারহানের নম্বর থেকে আবার ফোন করা হয়। ওই সময় ফারহানের ৫ দিনের থাকা-খাওয়ার খরচ বাবদ ২০ হাজার টাকা চেয়ে একটি পারসোনাল বিকাশ নম্বর (০১৭৯৫৯৭৮৫০০) দেয়া হয়।
তাদের কথামতো বনানীর একটি দোকান থেকে বিকাশ করে টাকা পাঠানোর পর থেকেই সবগুলো ফোন বন্ধ রয়েছে। এ বিষয়ে রূপনগর থানায় জিডি ও বনানী থানায় মামলা হয়েছে।
ফারহানের মা গুলশান আরা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে বলেই বলছি না। তার মতো ছেলে হয় না। কারও সঙ্গে কখনও বিরোধ নেই। কখনও ঝগড়াও করেনি। কর্মস্থলেও তার সঙ্গে কারও শত্রুতা বা বিরোধ ছিল না। এ রকম একটি ছেলেকে অপহরণের পর ২৯ দিন হয়ে গেল কেউ তাকে খুঁজে বের করতে পারেনি।’ তিনি আরও জানান, ছেলের নতুন স্ত্রী, শ্বশুরবাড়ি লোকজনসহ সবাই এ বিষয়ে অস্থিরভাবে খোঁজখবর নিচ্ছেন কিন্তু কোনো সন্ধান মেলেনি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বনানী থানার এসআই খালেদ সাইফুল্লাহ বলেন, মোবাইল ট্র্যাকিংসহ প্রযুক্তিগত তদন্তের মাধ্যমে ফারহানকে খোঁজা হচ্ছে। কিন্তু এখনও তার সন্ধান মেলেনি। এ বিষয়ে র্যাব ও ডিবি পুলিশও মামলার ছায়া তদন্ত করছে বলে জানান তিনি।
নিজস্ব প্রতিবেদক
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।



Leave a Reply