মুক্তিযোদ্ধার পোষ্য হিসেবে সনদ দিয়ে বাংলাদেশে দুর্নীতি দমন কমিশন (এসিসি) চাকরি নিয়েছিলেন ওরা ১২ জন। এরা আসলেই সার্টফিকেটধারী মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কিনা তা যাচাই বাছাইয়ের জন্য এদের জমা দেওয়া সনদ পাঠানো হয় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে। এই মন্ত্রণালয় থেকে তথ্য না পাওয়ায় মুক্তিযোদ্ধার পোষ্য কোটায় দুর্নীতি দমন কমিশনে চাকরি নেওয়া ১২ কর্মকর্তাকে নিয়ে অনুসন্ধান কাজ অনেকটাই থমকে আছে। গত বছরের নভেম্বরে এ অনুসন্ধান শুরু হলেও অগ্রগতি তেমন নেই বলে এসিসি সূত্র জানিয়েছে।
২০১৪ সালের অক্টোবরে সংস্থার নয় কর্মকর্তার মুক্তিযোদ্ধা সনদ যাচাইয়ের কাজ শুরুর পর নভেম্বরে এ অনুসন্ধান শুরু হয়। সংস্থার উপপরিচালক জুলফিকার আলী এ বিষয়টি অনুসন্ধান করছেন।
সূত্র জানায়, ওই ১২ কর্মকর্তার রেকর্ডপত্র চেয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে তিনবার তাগাদা পত্রসহ মোট চারবার চিঠি পাঠালেও অনুসন্ধান কর্মকর্তা কোনো উত্তর পাননি। দুদক প্রধান কার্যালয়ের ৪৫৩৪ নম্বর স্মারকে (তারিখ ১১.০২.১৫) তথ্য চেয়ে প্রথম চিঠি পাঠানো হয়। পরে ফেব্রুয়ারি, এপ্রিল ও মে মাসে তিনটি তাগাদাপত্র পাঠালেও তথ্য পাওয়া যায়নি।
এই ব্যাপারে জানতে যোগাযোগ করা হলে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এম এ হান্নান বলেন, ‘দুদক থেকে নানা বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়। এ বিষয়টি আমার জানা নেই।’ অনুসন্ধান কর্মকর্তার নাম জানতে চেয়ে তিনি বলেন, ‘কর্মকর্তা নিজেই তো সরাসরি এ বিষয়ে যোগাযোগ করতে পারেন।’ এসব তথ্য জানতে চেয়ে সচিব বরাবর একটি চিঠি ও তিনবার তাগাদাপত্র পাঠানোর কথা তুলে ধরলে সচিব বলেন, ‘বিষয়টি আমি দেখব।’
দুদক সূত্র জানায়, গত কয়েক বছরে দুদকে ৭২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী বিভিন্ন পদে চাকরি পান। এর মধ্যে নিয়োগ বিধি অনুযায়ী ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা-পোষ্য কোটায় চাকরি পেয়েছেন। আর এ কোটায় নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তার সংখ্যা ১২ জন।
যাঁদের সনদ যাচাই করা হচ্ছে তাঁরা হলেন সহকারী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান, মো. ফারুক আহমেদ, মো. আতিকুল আলম, জুয়েল আহমেদ, মঈনুল হাসান, এহসানুল কামরান তানভীর, মো. আতিকুর রহমান, মো. শাওন মিয়া, মো. নাজমুল হাসান, উপসহকারী পরিচালক মাহফুজ ইকবাল, মো. নেয়ামুল আহসান গাজী ও মো. সাইদুজ্জামান।
এসব কর্মকর্তার মধ্যে ১১ জনের বাবা এবং একজনের নানা মুক্তিযুদ্ধ করেছেন মর্মে সত্যায়িত রেকর্ডপত্র দাখিল করেন। তাঁদের দাখিল করা সনদ সঠিক কি না কিংবা পরিবারের সদস্যরা প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা কি না সেটা নিশ্চিত হতে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের নথি চাওয়া হয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধান সূত্রে জানা যায়, মুক্তিযোদ্ধার পোষ্য কোটায় জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা হচ্ছে। চাকরি নেওয়া ১২ কর্মকর্তাকে পোষ্য হিসেবে শনাক্তকরণে সরকার নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে দুদকের রেকর্ডপত্র ইতিমধ্যেই সংগ্রহ করেছেন অনুসন্ধান কর্মকর্তা।
গত বছর পাঁচ সচিবের মুক্তিযোদ্ধা সনদ অনুসন্ধানের সময় দুদকের ভেতরেই ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন মর্মে অভিযোগ ওঠে। মুক্তিযোদ্ধা সনদ নিয়ে ওই বিতর্কের জের ধরে গত বছরের ২১ অক্টোবর নিজস্ব নয়জন কর্মকর্তার মুক্তিযোদ্ধা সনদ যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। উপপরিচালক জুলফিকার আলীর নেতৃত্বে একটি দল ওই অভিযোগ অনুসন্ধান করে। অনুসন্ধানে উপপরিচালক এস এম গোলাম মাওলা সিদ্দিকী, পরিচালক রঞ্জন কুমার মজুমদার, সহকারী পরিদর্শক আবদুস সোবহান, কোর্ট সহকারী নুরুল ইসলাম ও ইসহাক ফকিরের সনদ সঠিক বলে মতামত দেয় অনুসন্ধান দল। তবে অনুসন্ধান পরিচালক গোলাম ইয়াহিয়া ও উপপরিচালক ঢালী আবদুস সামাদের সনদ সঠিক নয় বলে অনুসন্ধান দল মত দেয়। পরে অবস্থা বেগতিক দেখ তারা নিজেরাই অবসরে চলে যান।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।



Leave a Reply