বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

হলিক্রসের পর ন্যাশনাল আইডিয়ালে নারী অবমাননার শিক্ষা

National Ideal‘ফারিযা আইডিয়াল স্কুলের ৭ম শ্রেণির ছাত্রী। সে পোশাক পরিচ্ছদ ও চলাফেরায় অতি আধুনিকতার ছাপ ফুটিয়ে তুলতে চেষ্টা করে। স্কুলে ও কোচিং এ যাওয়ার সময় এলাকার বখাটে ছেলেরা তার পিছু নেয়। বাধ্য হয়ে তার মা নিজে বা অন্য কারও সঙ্গে কোচিংয়ে পাঠান। ধর্মীয় শিক্ষক শারমিন আপা বললেন, নারী-পুরুষ শালীনতার সঙ্গে চললে এবং শালীন পোশাক পড়লে অনেক অঘটন থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।’

রাজধানীর খিলগাঁওয়ে ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষায় (সৃজনশীল) অর্ধবার্ষিক পরীক্ষায় মঙ্গলবার ৯ জুন এই প্রশ্নপত্র দিয়েই ছাত্র ছাত্রীরা (ছেলে মেয়ে আলাদা সেকশন) পরীক্ষা দিয়েছে। ফারিযা কীভাবে চললে বখাটে ছেলেদের হাত থেকে বাঁচতে পারবে? ‍-শিক্ষার্থীদের এ ধরনের প্রশ্নের উত্তরও দিতে হয়েছে।

বুধবার দুপুরে এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, ‘স্কুলের সব প্রশ্ন দেখা সম্ভব হয় না। তবে আমার কাছে মনে হয়, যিনি এ প্রশ্ন করেছেন তিনি শিক্ষক হিসেবে অযোগ্য। সেই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্তের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।’

তবে সপ্তম শ্রেণির ইসলাম ধর্মের ওই শিক্ষক নূর উদ্দীন বলেন, ‘আমি কাউকে কটাক্ষ করার জন্য এ ধরনের প্রশ্ন করিনি। ইসলামিক দৃষ্টি অনুযায়ী, মেয়েরা শালীন পোশাকে থাকলে কুদৃষ্টি থেকে দূরে থাকবে। শয়তানের হাত থেকেও বাঁচতে পারবে। মেয়েদের পাশাপাশি ছেলেদেরও শালীন পোশাক পরতে হবে। বর্তমানে যৌন হয়রানির ঘটনা বেশি ঘটছে। তাই এ প্রশ্ন দিয়েছিলাম। তবে সপ্তম শ্রেণির জন্য এ প্রশ্নপত্র না করে নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য করা হলে ভালো হতো।’

এর আগে রাজধানীতে হলিক্রস উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ইসলাম ধর্ম (সৃজনশীল) পরীক্ষাতেও যৌন নিপীড়নের জন্য মেয়েদের পোশাককে দায়ী করে প্রশ্ন করা হয়। পরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ হলে ওই স্কুল কর্তৃপক্ষ ক্ষমা চায়।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *