বাংলাদেশে মুক্তচিন্তার লেখক তথা ব্লগারদের খুনের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট গিবসন বলেছেন, বাংলাদেশে যারা মুক্তমত প্রকাশের চর্চা করেন তাদের কুপিয়ে হত্যা করা হচ্ছে, যা খুবই দুঃখজনক। আমি এর নিন্দা জানাই। মত প্রকাশের স্বাধীনতা মানুষের মৌলিক অধিকার। সকল মতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া মুক্ত গণমাধ্যমের একটি অঙ্গ। ১১ জুন ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশে কূটনীতিক প্রতিবেদকদের সংগঠন ‘ডিক্যাব’ আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব মন্তব্য করেন গিবসন।
বাংলাদেশে ব্রিটিশ হাইকমিশনার আরো বলেন, ‘জাতিসংঘ ও কমনওয়েলথসহ অনেক বৈশ্বিক ফোরামের সদস্য বাংলাদেশ। এই ফোরামগুলোর লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, রাষ্ট্রের জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, ধৈর্য্য, শ্রদ্ধা এবং সহিষ্ণুতার সঙ্গে দ্বিমতকে মোকাবিলা ও জনগনের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা।’
‘জনসংখ্যার দিক দিয়ে বাংলাদেশ কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে একটি বৃহত্তম রাষ্ট্র। বাংলাদেশকে মানুষের অধিকারের এই মৌলিক বিষয়গুলো নিশ্চিক করতে কাজ করতে হবে এবং বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটাতে হবে,’ মন্তব্য করেন তিনি।
ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন, ‘বাংলাদেশকে ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হলে বৈদেশিক বাণিজ্য বাড়ানো এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। শতভাগ শ্রম অধিকার প্রতিষ্ঠার ওপরও জোর দেন তিনি। গিবসন বলেন, বাংলাদেশকে শিক্ষা এবং উন্নয়ন এই দুইটি খাতে জোর দিতে হবে। শিক্ষা এবং উন্নয়ন ছাড়া কোনো দেশ প্রগতি ও শান্তির পথে এগুতে পারে না। আশা করব বাংলাদেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।
সিটি করপোরেশন নির্বাচন সম্পর্কে গণমাধ্যম কর্মীদের এক প্রশ্নের জবাবে গিবসন বলেন, ‘সিটি করপোরেশন নির্বাচনের দিন সকালের পর্যবেক্ষণ নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেছিলাম। কিন্তু তারপর পরিস্থিতি অনেক পাল্টে যায়। অনিয়মের অভিযোগে বিএনপি নির্বাচন বয়কট করে। নির্বাচনের অনিয়মের সুষ্ঠু ও নিরপক্ষে তদন্ত না হলে এবং প্রকৃত দোষীদের বিচারের মুখোমুখি করা না হলে গণতন্ত্র বাধাগ্রস্থ হবে।’
বাংলাদেশের গণতন্ত্র কী অবস্থায় আছে, এমন প্রশ্নের জবাবে ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন, ‘গণতন্ত্র মানে শুধু ভোট অনুষ্ঠান নয়। বিভিন্ন দেশ তাদের মতো করে গণতন্ত্র চর্চা করে। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহিতা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গণতন্ত্রের পূর্বশর্ত। বাংলাদেশের জনগণকেই ঠিক করতে হবে যে তারা কেমন গণতন্ত্র দেখতে চান। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমেরও ভূমিকা রয়েছে। সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি। কিন্তু ওই নির্বাচন বয়কট করে রাজনৈতিক এই দলটির কী অর্জন হয়েছে তাও দেখার বিষয় রয়েছে।’
বিদেশি বিনিয়োগ প্রসঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন, ‘বাংলাদেশে বিনিয়োগের প্রচুর সুযোগ রয়েছে। কিন্তু বিদেশি বিনিয়োগের জন্য দীর্ঘ মেয়াদে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রয়োজন। ন্যায় বিচার, গণতন্ত্রের চর্চা এবং স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের অধিকার থাকতে হবে।’
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।



Leave a Reply