বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

মোদির যে ৩টি প্রশ্নে বিব্রত খালেদা

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে সাক্ষাৎ করতে গিয়ে তিনটি প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমানে পার্লামেন্টের বাইরে থাকা বিরোধী দল বিএনপি’র চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে। খোদ ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নিজে এই প্রশ্নগুলো করেন বলে খবর পাওয়া গেছে। নয়াদিল্লির একটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

মোদির সঙ্গে সাক্ষাতে খালেদা জিয়া বাংলাদেশে গণতন্ত্র নেই বলে নালিশ জানিয়েছিলেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে। গত ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি বিরোধীদের ছাড়াই ‘একতরফা’ভাবে নির্বাচনে তৎকালীন কংগ্রেস নেতৃত্বের ইউপিএ জোট শেখ হাসিনাকে সরসরি সহযোগিতা করেন বলেও খালেদার অভিযোগ।

খালেদার এই বক্তব্য শোনার পর ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন বিষয়ের মধ্যে তিনটি প্রশ্নে খালেদা বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে যান। বেগম জিয়া একটি প্রশ্নের জবাব দিতে পারলেও বাকি দুইটি প্রশ্নের ক্ষেত্রে নিরব থেকেছেন, জবাব দিতে পারেননি।

সূত্র জানায়, খালেদা জিয়াকে নরেন্দ্র মোদির প্রথম প্রশ্ন ছিল: ভারতের রাষ্ট্রপতির সাথে যেদিন পূর্ব নির্ধারিত সাক্ষাতের কর্মসূচি ছিলো সেদিন কারা ঢাকায় হরতাল (জেনারেল স্ট্রাইক) ডেকেছিলো। (জবাব: জামায়াতে ইসলামি বাংলাদেশ)।

দ্বিতীয় প্রশ্ন ছিলো ২০০৪ সালে চীন থেকে আসা দশ ট্রাক অস্ত্র চট্টগ্রাম বন্দরে অবৈধভাবে খালাস করে ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের কাছে পৌঁছে দেয়ার যে আয়োজন করা হয়েছিলো সেটা ঘটেছিলো আপনার প্রধানমন্ত্রীত্বের আমলে। আর সেই গোপন আমদানির সঙ্গে আপনার কেবিনেটের দুই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী (স্বরাষ্ট্র ও শিল্পমন্ত্রী) জড়িত ছিলেন। শোনা যাচ্ছে, আপনি এবং আপনার দল ওই ঘটনার তদন্তে খুব একটা সাহায্য করেননি, কেন?

খালেদাকে মোদির তৃতীয় প্রশ্নটি ছিল: পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানের খাগড়াগড় বিস্ফোরণকাণ্ডে আপনার দল বিএনপি ও জোট সঙ্গী জামায়াত নেতাদের সম্পৃক্ততার তথ্য ভারত-বাংলাদেশের যৌথ তদন্তে উঠে আসছে। বিএনপি ও তার জোটসঙ্গীদের ওইসব দোষীদের আড়াল না করে তদন্তে সহায়তা করা আপনার নৈতিক দায়িত্ব নয় কী?

মোদির প্রথম প্রশ্নটির ব্যাপারে খালেদা জিয়া জবাব দিলেও পরের দুইটি প্রশ্নের মুখে একেবারেই চুপসে যান বলে সূত্রের দাবি।

ঢাকা সফরে আসা নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে গত ৭ জুন বিকেলে খালেদা জিয়ার দেখা করেন। সপারিষদ বৈঠকের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী অবশ্য খালেদা জিয়ার সঙ্গে ১৫ মিনিট একান্তে কথা বলেন।

মোদির সঙ্গে খালেদার দেখা না হওয়ার জন্য অবশ্য বাংলাদেশের হাসিনা সরকার অনেক চেষ্টা তদবির করেছিল। কারণ, বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল হলেও গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় তারা এখন পার্লামেন্টেও নেই। স্বভাবতই খালেদা আর এমপি নন, তিনি সাংবিধানিক বিরোধী নেত্রীও নন, তাই তার কোনো প্রটোকলও নেই। এছাড়া আওয়ামী লীগের প্রধান বিরোধী হিসেবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে অবস্থান বিএনপি’র। তাই আওয়ামী লীগ চায়নি বিজেপি তথা মোদির সঙ্গে বিএনপির সখ্যতা গড়ে উঠুক। কিন্তু ভারতের প্রধানমন্ত্রী নিজের আগ্রহে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করার সূচি তৈরি হয়।

২০১৩ সালের মার্চে ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের ঢাকা সফরে জামায়াতের হরতালের দোহাই দিয়ে খালেদা জিয়া সাক্ষাৎ করতে যাননি। সে সময় কংগ্রেস জোট সরকারের প্রতি নাখোশ হয়ে বিষয়টি করা হলেও এখন সেই বিষয়টিই বিএনপিকে ভোগাচ্ছে বলে সূত্রের খবর। যদিও ওই সিদ্ধান্ত বিএনপির ভুল ছিল বলে এখন মোদিকে জানিয়েছে বিএনপি। কিন্তু তাতেও খুব কাজ হচ্ছে না বলেই খোদ বিএনপি সূত্রগুলোই বলছে। যদিও ২০১২ সালের নভেম্বরে খালেদা জিয়ার ভারত সফর অনেকটাই সফল হয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছিল। সেই সময় খালেদা জিয়া নয়াদিল্লীতে ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গেও দেখা করেন। শুধু কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়ার সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়নি।

এদিকে মোদির সঙ্গে খালেদা ও বিএনপির ৫ নেতার বৈঠক করার পর এখনও কিছুই জানতে পারেননি বিএনপি নেতৃত্বের কুড়ি দলীয় জোটের অনান্য দলের নেতারা। এমনকি ওই সব দলের প্রধানরাও কিছু জানেন না। মিটিং করার আগে ও পরে বিএনপির চেয়ারপারসন ও তার তরফ থেকে কোনো নেতা ২০ দলীয় জোটের অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে কথা এই বিষয়ে কি কি নিয়ে আলোচনা করবেন তা নিয়ে কথা বলেননি। বৈঠক করার পর কি কথা হয়েছে, খালেদা তার কাছে ঠিক কি বলেছেন এবং এর জবাবে মোদি কি বলেছেন, সেই ব্যাপারেও তারা কোন কিছু জানতে পারেননি। বিএনপির তরফ থেকেও তাদেরকে কিছুই বলা হচ্ছে না। তারা মোদি খালেদার বৈঠক নিয়ে হিসাব মিলানোর চেষ্টা করছেন। বিএনপি ও তার কুড়িদলীয় জোটের শরিকদের সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

কলকাতা ব্যুরো
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

 

আরও পড়ুন