বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত হাটে কেনাবেচা শুরু

Border-hat-Kasba-ভারত-বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসাট ঘটলো। বৃহস্পতিবার ১১ জুন দুপুরে প্রদীপ প্রজ্জলনের মাধ্যমে যাত্রা শুরু হলো ত্রিপুরার সিপাহীজলা ও বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কমলাসাগর-তারাপুরের কসবা সীমান্ত হাট। এখন থেকে প্রতি বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে সময় সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দু`দেশের সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারা এ হাটে পণ্য কেনা-বেচা করতে পারবেন। এ উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার কসবা সীমান্ত হাটে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়।

সভায় বক্তারা বলেন, এ হাটের মাধ্যমে দু`দেশের সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক আরো বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি দু`দেশের মধ্যকার সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক আরো জোরদার হবে। পরে আলোচনা সভা শেষে দু`দেশের শিল্পীদের অংশগ্রহণে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব এম নাগারাজুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, ত্রিপুরার সিপাহীজলা জেলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট প্রদীপ কুমার চক্রবর্তী, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শ্রী ডি কে চাকমা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক ড. মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নাজমা বেগম প্রমুখ।

উল্লেখ্য, গত ২০১৪ সালের ২১ মে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার তাঁরাপুর সীমান্তের ২০৩৯ নং পিলার সংলগ্ন বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে দু`দেশের যৌথ মালিকানায় সীমান্ত হাটের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেন ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সিপাহীজলা জেলার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শ্রী ডি কে চাকমা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নাজমা বেগম। বাংলাদেশের ৬৯ দশমিক ৬৬ শতাংশ ও ভারতের ৬৯ দশমিক ৬৬ শতাংশ ভূমিতে ভারত সরকারের ২ কোটি ৪৪ লাখ রুপি ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে কসবা সীমান্তহাট।

প্রাথমিকভাবে হাটের ৫ কিলোমিটার এলাকায় বসবাসরত প্রতিটি পরিবারের একজন সদস্যকে পণ্য সামগ্রী ক্রয় করার জন্য পরিচয়পত্র দেওয়া হবে। তবে হাটে যাওয়ার আগে ক্রেতা-বিক্রেতাকে অবশ্যই সীমান্ত হাট ব্যবস্থাপনা কমিটির কাছ থেকে পরিচয়পত্র সংগ্রহ করতে হবে। এছাড়া হাটের সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা। হাটে ভারত ও বাংলাদেশের মোট ৫০ জন ব্যবসায়ী স্থানীয় কৃষি পণ্য ছাড়াও দু`দেশের সরকার নির্ধারিত ১৬টি করে পণ্য সামগ্রী ক্রয়-বিক্রয় করতে পারবে।

কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম বলেন, ২০১৪ সালের ২১ মে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার তাঁরাপুর সীমান্তে ২০৩৯ নং পিলারসংলগ্ন বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে দুদেশের যৌথ মালিকানায় সীমান্ত হাটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।

বাংলাদেশের ৬৯ দশমিক ৬৬ শতাংশ ও ভারতের ৬৯ দশমিক ৬৬ শতাংশ ভূমিতে ভারত সরকারের দুই কোটি ৪৪ লাখ রুপি ব্যয়ে ৫০টি দোকানের নির্মাণ করা হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশের ২৫টি এবং ভারতের ২৫টি দোকান রয়েছে।

হাটের আশ-পাশের পাঁচ কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে রাখা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে হাটে নির্ধারিত ক্রেতারা পণ্য সামগ্রী ক্রয় করতে পারবেন। পর্যায়ক্রমে এর সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।

তবে হাটে যাওয়ার আগে ক্রেতা-বিক্রেতাকে অবশ্যই সীমান্ত হাট ব্যবস্থাপনা কমিটির পক্ষ থেকে কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছ থেকে পরিচয়পত্র সংগ্রহ করতে হবে। পাঁচ কিলোমিটার এলাকার বাইরের ক্রেতারা শুধু একদিনের অনুমতি পত্র নিয়ে পণ্য ক্রয় করতে পারবেন।

৬-৭ জুন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরের সময় এই হাট উদ্বোধন করার হয়।

সংবাদদাতা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *