ভারত, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে তৃতীয় লিঙ্গ তথা হিজড়াদের প্রধানতম পেশা হচ্ছে দোকান ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে টাকা তোলা। নিয়মিতভাবে সপ্তাহে দুই বা তিনদিন তারা টাকা তুলতে যায়। তবে এর বাইরে শহরগুলোর ট্রাফিক সিগনালে গাড়ি থেকে টাকা তোলাও এদের একটি পুরনো অভ্যাস। এই ধরনের হিজড়াদের ‘অত্যাচারে’ বিরক্ত হয়ে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার পান্থপথ এলাকায় হিজড়াদের সঙ্গে রীতিমতো যুদ্ধ হয়েছে। ওই এলাকার দোকানী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা হিজড়াদের ধাওয়া দিয়ে আটক করে পুলিশে দেয়। তবে এর আগে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে পান্থপথ এলাকাটি ‘রণক্ষেত্র’র আকার নেয়।
মূলত, উদ্ধত আচরণ করে চাঁদাবাজির সময় জনতার তোপের মুখে পড়েন ছয় হিজড়া। উত্তেজিত জনতা তাদের গণধোলাই দিতে উদ্যত হলে একজন পুলিশ কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে তারা মুক্তি পান। এ সময় তারা সকলের কাছে প্রতিজ্ঞা করে যান- আর জীবনেও এখানে এভাবে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ তুলতে আসবেন না।
১২ জুন শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে রাজধানী ঢাকার পান্থপথে স্কয়ার হাসপাতালের সামনে ওই ঘটনার সূত্রপাত।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার সন্ধ্যার পর ধানমন্ডি ৩২ টু কাওরান বাজার সড়কে প্রচণ্ড যানজটের সময় ছয় হিজড়া স্কয়ার হাসপাতাল সম্মুখে কিছু প্রাইভেট কার থেকে উদ্ধত আচরণের পাশাপাশি অশালীন বাক্য প্রয়োগ করে টাকা তোলা শুরু করে। এসময় একটি প্রাইভেট কার থেকে জানানো হয়- কিছুতেই টাকা দেয়া হবে না। ক্ষিপ্ত হয়ে একজন হিজড়া গাড়ির লুকিং গ্লাস ভেঙে ফেলে এবং পায়ের জুতো খুলে গাড়িতে আঘাত করতে থাকেন। এসময় স্থানীয় একজন ব্যক্তি এগিয়ে এলে হিজড়ারা দলবদ্ধভাবে তার ওপর চড়াও হন। একপর্যায়ে ২০-৩০ জন সাধারণ মানুষ একত্রে হিজড়াদের গণধোলাই দিতে উদ্যত হয়। হিজরারাও তখন যত্রযত্র দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িতে হাত দিয়ে ভাঙার চেষ্টা করতে থাকে। তখন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ধানমন্ডি থানার এসআই আবুল কালাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন। কিন্তু চারজন হিজড়া হঠাৎ লাপাত্তা হয়ে যান।
উর্মি ও জুলি আটকা পড়েন পুলিশ ও জনতার কাছে। উর্মি বলতে থাকেন- আমরা হিজড়া, ভিক্ষা কইরা খাই। কেউ কিছু না দিলে কিছু কই না। উত্তেজিত জনতার অনেকেই উর্মিকে বলতে থাকে- সে সময় গাড়ির গ্লাস ভাংসস্ কেন, ভদ্র লোকটাকে অশালীন কথা বলেছিলি কেনো? চাপে পড়ে তারা পুলিশ জনতার সামনে ক্ষমা প্রার্থনা করে প্রতিজ্ঞা করে বলেন, আর জীবনেও এই রাস্তায় টাকা তুলতে তারা আসবেন না। আসলে যা খুশি তা করতে!
এসআই আবুল কালাম বলেন, আসলে তাদের বলার কিছু নেই। কারও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে আইনি কিছু করা যেতে পারত। পরে তিনি এ দুই হিজড়াকে ধানমন্ডি ৩২ নং সড়কের সামনে নিয়ে ছেড়ে দেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।



Leave a Reply