বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছয় দিনের ব্যক্তিগত সফরে লন্ডনে পৌঁছেছেন। শুক্রবার ১২ জুন স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইট যোগে তিনি হিথ্রো বিমানবন্দরে পৌঁছান। যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম এ হান্নান এবং যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।
বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি চলে যান কেন্দ্রীয় লন্ডনের হোটেল হিল্টন অন পার্ক লেনে। সফরকালীন সময়ে এ হোটেলেই অবস্থান করবেন তিনি। বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার নাদিম কাদির জানান, এটি প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সফর। রোববার যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রীকে একটি সংবর্ধনা দেওয়া হবে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর অন্য কোনো কর্মসূচির কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যায়নি।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত কর্মকর্তাসহ প্রায় ৫০ জনের একটি দল রয়েছে। তার সঙ্গে রয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী ও প্রেস সচিব এ কে এম শামীম চৌধুরী। বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান ব্রিটেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান, ডেপুটি হাইকমিশনার খোন্দকার মোহাম্মদ তালহা, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ সভাপতি সুলতান শরীফ, সহ-সভাপতি জালাল উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ফারুক, যুগ্ম সম্পাদক নঈম উদ্দিন রিয়াজ ও মারুফ চৌধুরী প্রমুখ।
এদিকে হোটেলে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার নাদিম কাদির, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি শামসুদ্দিন মাস্টার, হরমুজ আলী, যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য তারিফ আহমেদ, যুক্তরাজ্য যুবলীগ সভাপতি ফখরুল ইসলাম মধু, সাধারণ সম্পাদক সেলিম খান, যুগ্ম সম্পাদক জামাল খান ও অ্যাডভোকেট হাফিজ প্রমুখ। এ সময় হোটেলের বাইরে শত শত দলীয় নেতাকর্মী স্লোগানে স্লোগানে প্রধানমন্ত্রীকে অভিবাদন জানান।
সফরকালীন সময়টি লন্ডনে বসবাসরত বোন শেখ রেহানার পরিবারের সঙ্গে একান্তে কাটাবেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজিব ওয়াজেদ জয়, কন্যা সায়মা হোসেন পুতুলসহ বঙ্গবন্ধু পরিবারের পুনর্মিলনী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
একান্ত পারিবারিক এ সফরে শেখ হাসিনা নিজের চোখের চিকিৎসা করাবেন। এছাড়া ভারতের সঙ্গে স্থল সীমানা চুক্তির বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন অর্জনের জন্য আগামী ১৪ জুন যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাঙালিরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এক সংবর্ধনা দেবেন।
যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ রোববারের সংবর্ধনা সম্পর্কে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছে, দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বাংলাদেশকে উন্নতি ও সমৃদ্ধির দিকে নিয়ে যাওয়া এবং ভারতের সঙ্গে সীমান্ত চুক্তির সফল কার্যকরের জন্য যুক্তরাজ্যপ্রবাসীদের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে থেকে এই সংবর্ধনা দেওয়া হবে। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের বেশ কয়েকজন এমপি, বাংলাদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতা-কর্মীরা এতে উপস্থিত থাকবেন। লন্ডনের পিকাডেলির শেরাটন পার্ক লেইন হোটেল বলরুমে ওই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি হবে।
আগামী মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা ব্রিটিশ পার্লামেন্টে যেতে পারেন। ওই দিন হাউস অব কমন্সে টিউলিপ সিদ্দিকের আনুষ্ঠানিক বক্তৃতা দেওয়ার কথা রয়েছে। ঐতিহ্যগতভাবে নতুন এমপিরা পার্লামেন্টে একটি আনুষ্ঠানিক বক্তৃতা দেন। একে ‘মেইডেন স্পিচ’ বলা হয়।
এ ছাড়া গত বুধবার বাংলাদেশিদের এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিতে গিয়ে ব্রিটিশ এমপি স্টিফেন টিমস বলেন, ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ভাগনি টিউলিপ সিদ্দিকের অভিষেক বক্তৃতা দেখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লন্ডন আসছেন।
এর আগে শুক্রবার সকালে ঢাকার হযরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, চিফ হুইফ আ স ম ফিরোজ, মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞাসহ তিন বাহিনীর প্রধানগণ।
আগামী ১৭ জুন প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাজ্য থেকে সরাসরি সিলেট বিমানবন্দরে নামবেন, ওইদিন তিনি সিলেট অবস্থান করবেন। ১৮ জুন প্রধানমন্ত্রীর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।
সংবাদদাতা, লন্ডন
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।



Leave a Reply