শনিবার ১৩ জুন দিনটা শুরু হয়েছিল দারুণভাবেই। আবহাওয়ায় ছিল রোদেলা পরশ। বৃষ্টির চোখ-রাঙানি ছাপিয়ে একটি ক্রিকেটময় দিনেরই প্রত্যাশা ছিল সকলের। মাঠেও গড়িয়েছিল খেলা। কিন্তু ৩০.১ ওভার পরেই পাততারি গোটাতে হল খেলার। ফতুল্লার আকাশ কালো মেঘ ছেয়ে আর একটি দিন খরচ হয়ে গেল বৃষ্টির খাতায়।
আগের দিনের ৪৬২ রানেই ইনিংস ঘোষণা করেছিল ভারত। বাংলাদেশ ব্যাট করতে নেমে বৃষ্টির আগ পর্যন্ত তুলতে পেরেছে ১১১ রান। ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলা টাইগাররা এখনো পিছিয়ে ৩৫১ রানে। তবে চতুর্থ দিন পরিত্যক্ত হয়ে যাওয়ার পর রানের এই ঘাটতি খুব একটা প্রভাব তৈরি করছে না। ফতুল্লায় বৃষ্টির যে দাপট, তাতে এই টেস্ট নিশ্চিতভাবেই অমীমাংসার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
বৃষ্টির আগে ইমরুল লড়েছেন একাই। তিনি তাঁর তৃতীয় টেস্ট ফিফটিটি তুলে নিয়েছেন দারুণ ঢংয়েই। ৫৯ করতে ইমরুল বল খেলেছেন ৯৮ টি। ১০টি চারে সাজানো এই ইনিংসটিই আজ অসম্পূর্ণ চতুর্থ দিনের মূল আকর্ষণ হয়ে থাকছে।
ভারতের পক্ষে আজ বাংলাদেশকে চোখ রাঙিয়েছেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। উইকেটে তিনি পাচ্ছিলেন দারুণ বাঁক। সেট হয়ে উঠতে না উঠতেই তামিম ইকবালকে তিনি ফেরান উইকটরক্ষক ঋদ্ধিমান সাহার সহায়তায়, স্টাম্পড করে। ১৯ রান করে সাজঘরে ফেরার আগে তামিম আজ নিজেকে নিয়ে গেছেন অন্য উচ্চতায়। টেস্টের রানের মালিক হিসেবে তিনি ছাপিয়ে গেছেন আর সবাইকেই। অশ্বিনের বলে ফিরেছেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম।
তামিমের বিদায়ের পর মুমিনুল দারুণ সঙ্গ দিয়েছিলেন ইমরুলকে। তিনি ৩০ রান করে আউট হয়েছেন খুব বাজেভাবে। ক্রিকেটীয় পরিভাষায় উইকেট থ্রো যাকে বলে মুমিনুল আজ সেটাই করেছেন। ৮৮টি আন্তর্জাতিক ম্যাচের পর ভারতীয় দলে সুযোগ পাওয়া হরভজন সিং তাঁর ওপর খুশি হতেই পারেন। আউটের ধরনটি যে হরভজনের প্রতি তাঁর দেওয়া ‘উপহার’ই মনে হয়েছে।


