কলকাতার শেক্সপিয়র সরনি থানার রবিনসন স্ট্রিটের সেই কঙ্কাল-কাণ্ডের রহস্যের কোনো কূলকিনারা পাচ্ছে না পুলিশ। তারা পড়েছে গোলক ধাঁধায়। বেশ কয়েকটি বিষয়কে সামনে রেখে ঘটনার তদন্ত করলেও জবাব মিলছে না। ক্রমশই ঘনীভূত হচ্ছে রহস্যের জাল। তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তারা নিশ্চিত‚ এই পরিবারের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বহু প্রশ্ন। তার মধ্যে ভাই-বোনের মধ্যে যৌন সম্পর্ক থাকার বিষয়টিও উঠে আসছে। এই দুই জনের অবাধ যৌন সম্পর্ক পরিবারটির মধ্যে একটি অসম প্রতিযোগিতাও তৈরি করে। যা পার্থ’র মাকেও জড়িয়ে ফেলে। এমনকি বাড়িতে থাকা ‘মাসি’ও এর বাইরে যেতে পারেনি।
সাদা চোখে রবিনসন স্ট্রিটের ওই ঘটনা বিশ্লেষণ করলে অনেকের কাছেই তা ভৌতিক বলে মনে হবে। বুধবার রাতে ওই বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় ৭৭ বছর বয়সী অরবিন্দ দে-এর অগ্নিদগ্ধ দেহ। পরের দিন সকালে উদ্ধার করা হয় অরবিন্দের মেয়ে এবং পার্থ’র দিদি দেবযানীর কঙ্কাল। সেই সঙ্গে পোষ্য দুই কুকুর ল্যাব্রাডারের কঙ্কালও। মৃত্যুর পরে কোনও সৎকার না করে কঙ্কাল তিনটিকে রেখে দেওয়া হয়েছিল বাড়িতে।
এ ঘটনায় পুলিশ পার্থকে আটক করে পাভলভ হাসপাতালে পাঠিয়েছে। তার চিকিৎসায় গঠিত গঠন করা হয়েছে তিন মনোবিদসহ পাঁচ সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড। তবে পার্থ দাবি করেছেন‚ তাকে মাদার হাউজে যেতে দিতে হবে। মনোরোগীদের সঙ্গে তিনি থাকবেন না।
শুক্রবার ওই বাড়িতে তল্লাশিতে যান শেক্সপিয়ার থানার ওসি এবং ডিসি সাউথ। বেশ কিছু নথি‚ ডায়েরি এবং চিঠি উদ্ধার করা হয় এ সময়। জানা গেছে, এসব চিঠিতে অবারিত যৌন সম্পর্ক এবং সেই সঙ্গে পারিবারিক হতাশার কথাও ফুটে উঠেছে। আবার হতাশা কাটাতে নানা আশ্বাসবাণীও আছে। পুলিশের ধারণা‚ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে একে অপরের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক ছিল। পার্থ দে-এর লেখা চিঠি দেখে পুলিশ এমন ধারণা করছে।
চিঠি বা ডায়েরিতে কী লেখা আছে‚ পুলিশ তার পুরোপুরি বলছে না। তবে কিছু কিছু অংশ বিক্ষিপ্তভাবে ওঠে এসেছে। যেমন‚ ৪৭ বছর বয়সী পার্থ দে ডায়েরিতে লিখেছেন‚ ‘… দিদি ক্রমশ আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।’ একটিতে লেখা ‘… মা আমাকে তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনে অক্ষম বলেই ভাবে। তাই পরিচারিকাকে আমার ঘরে পাঠায়, যাতে আমি তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করি….’। এক চিঠিতে লেখা মা দিদিকে হিংসে করে ‘… মা দিদিকে বাথরুমে নগ্ন করায়।’
পুলিশ নিশ্চিত‚ পার্থ দে মানসিকভাবে অসুস্থ। তাদের নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন পরিবারের অন্য সদস্যরা। চিঠির হাতের লেখা এবং উদ্ধার হওয়া মোবাইলের কল লিস্ট পরীক্ষা করছে পুলিশ। দেবযানীর মৃত্যুর কারণ জানতে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পার্থর দাবি করেছেন‚ পোষা কুকুরের মৃত্যুশোক সহ্য করতে না পেরে দেবযানী উপোষে প্রাণ ত্যাগ করেন।
তবে ময়না তদন্তে বেরিয়ে এসেছে দেবযানীর মৃত্যু উপবাসে হয়নি। খুনের সম্ভাবনাও প্রাথমিকভাবে উড়িয়ে দিয়েছে পুলিশ। রহস্য উন্মোচনে তিন কঙ্কালের রেডিওলজি এবং ডি এন এ পরীক্ষা হবে। এছাড়া, পুলিশ আরো কয়েকটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে সামনে এগেুচ্ছে।
উদ্ধার হওয়া চিঠিগুলোতে একাধিক ব্যক্তির হাতের লেখা রয়েছে। কোনও চিঠিতে লেখা আছে, “আমি কী এই জীবনই চেয়েছিলাম। এভাবে আর বাঁচা যায় না।…” অন্য একটি চিঠিতে অন্য একজনের হাতের লেখায় লেখা রয়েছে, “ঈশ্বরে ভরসা রাভো, সব ঠিক হয়ে যাবে। চিঠিগুলো কাদের লেখা তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। তবে কী একই বাড়িতে থাকা সত্ত্বেও বাবা অরবিন্দ দে, মেয়ে দেবযানী দে, এবং ছেলে পার্থ দে একে অপরের সঙ্গে সঙ্গে চিঠিতে কথা বলতেন? যদি তাই হয় তাহলে তার কারণই বা কী?
প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, ১৫ বছর বসবাস করলেও কখনও দেবযানীকে তারা দেখেননি। পরিবারের কেউই পাড়াতে একেবারেই মিশতেন না। কারোর সঙ্গে কথা বলাও পছন্দ করতেন না। তবুও পার্থ ও অরবিন্দকে মাঝেমধ্যে দেখা যেতো। কিন্তু দেবযানীকে একেবারে না দেখাতে রহস্য দানা বেঁধেছে।
অরবিন্দের ভাই অরুণ দে এই ঘটনায় কিছু বলছেন না। আত্মীয় সূত্রে জানা গেছে, অরুণের সঙ্গে অরবিন্দের সম্পর্ক ভাল ছিল না। পুলিশের জেরায় অরুণ ও পার্থ’র কথায় অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। পার্থ বলছেন, একমাস আগে তার জন্মদিনের অনুষ্ঠানে কাকা অরুণ দে কে নিমন্ত্রণ করলেও তাকে দরজা থেকে তাড়িয়ে দেন তিনি। অরুণ বলছেন, সেদিন স্ত্রীকে নিয়ে তিনি পার্থ’র জন্মদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তার সামনেই কেক কাটা হয়েছে।
আরেকটি বিষয় পুলিশকে বেশ ভাবিয়ে তুলছে। দেবযানীর এতোদিন ধরে কোনও খোঁজ নেই। অথচ কোনও আত্মীয়স্বজন তার বিষয়ে জানতেও চাননি। আত্মীয়দের একাংশের কথায়, পার্থ কারোর সঙ্গে না মিশলেও অরবিন্দ আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে মিশতেন। দেবযানীর বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলতেন ও যেখানেই আছে ভাল আছে। তা হলে কী অরবিন্দও পার্থ’র মতো মানসিক বিকারগ্রস্ত ছিলেন?
খবরে বলা হয়েছে, পুলিশ বাড়ি থেকে ২টি ল্যাপটপ উদ্ধার করেছে। এই ল্যাপটপ পরীক্ষা করে দেখবেন তদন্তকারীরা। তদন্ত কর্মর্তারা আশা করছেন, এই ল্যাপটপ থেকে গুরুত্বপূর্ণ কোনও ক্লু পাওয়া যেতে পারে।
বুধবার রাতে রবিনসন স্ট্রিটের একটি ফ্ল্যাটের জানালা থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। দমকলকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে পুলিশ ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে শৌচাগারের বাথটব থেকে অরবিন্দ দে (৭৭) নামে এক বৃদ্ধের মৃতদেহ উদ্ধার করে। অরবিন্দ পেশায় প্রকৌশলী ছিলেন। সন্দেহ হওয়ায় অরবিন্দর ছেলেকে পার্থকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী ওই ফ্ল্যাট থেকেই কাপড় জড়ানো অবস্থায় তিনটি কঙ্কাল উদ্ধার করে পুলিশ।
পার্থ জানায়, কঙ্কাল তিনটি তার বড় বোন দেবযানী দে (৪৭) এবং বাড়ির দুই পোষ্য কুকুরের। কুকুরগুলো গত বছরের অগাস্টে মারা যায়। তারপর থেকেই খাওয়াদাওয়া ছেড়ে দিয়েছিলেন পেশায় গানের শিক্ষিকা দেবযানী। ৬ মাস আগে অপুষ্টিজনিত কারণে মারা যান দেবযানী। তার কঙ্কালটি শোয়ানো ছিল খাটের উপরে।
তবে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া না করে মেয়ের মৃতদেহের সঙ্গে ওই ফ্ল্যাটেই বসবাস করছিলেন বাবা অরবিন্দ ও ভাই পার্থ। রোজ রাতে বোনের মৃতদেহকে ‘খাওয়াতেন’ পার্থ। এমনকি বোনের আত্মা তাদের সঙ্গেই রয়েছে এমন আবহ সৃষ্টি করার জন্য বাড়িজুড়ে লাগানো হয়েছে সাউন্ড সিস্টেম। সেখান থেকেই নানা ধরনের ‘ভৌতিক’ আওয়াজ শোনা যেতো।
পুলিশ আরো জানায়, খাটে দেবযানীর কঙ্কালের পাশেই শুয়ে থাকতেন পার্থও। তিনি কাজ করতেন একটি তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায়। বেশ কিছু দিন ধরে তিনি আর অফিসে যেতেন না। বাড়িতেই থাকতেন।
জিজ্ঞাসাবাদে পার্থ জানিয়েছেন, বোন যে মারা গেছে সে বিষয়টি তিনি মানেন না। সেই কারণেই বোনের মৃত্যুর পর দেহটি কাপড় দিয়ে জড়িয়ে খাটে শুইয়ে রেখেছিলেন। তাকে রোজ খাবারও দিতেন।আসলে পার্থ যৌনতার চক্রে আষ্টেপৃষ্টে বাধা পড়েছিল।
পুলিশ সূত্রের খবর, বুধবার রাতে রবিনসন স্ট্রিটের একটি ফ্ল্যাটের জানলা থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে স্থানীয়েরা পুলিশে খবর দেন। দমকলকর্ম়ীদের সঙ্গে নিয়ে পুলিশ ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে শৌচাগারের বাথটব থেকে অরবিন্দ দে (৭৭) নামে এক বৃদ্ধের মৃতদেহ উদ্ধার করে। অরবিন্দবাবু পেশায় বি টেক ইঞ্জিনিয়ার। তাঁর ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পরে ওই ফ্ল্যাট থেকেই কাপড় জড়ানো অবস্থায় তিনটি কঙ্কাল উদ্ধার করে পুলিশ। সন্দেহ হওয়ায় অরবিন্দবাবুর ছেলে পার্থকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, কঙ্কাল তিনটি তাঁর দিদি দেবযানী দে এবং বাড়ির দুই পোষ্য কুকুরের। কুকুরগুলি গত বছরের অগাস্টে মারা যায়। তার পর থেকেই খাওয়াদাওয়া ত্যাগ করেছিলেন পেশায় গানের শিক্ষিকা তাঁর দিদি।
৬ মাস আগে অপুষ্টিজনিত কারণে মারা যান বছর সাতচল্লিশের দেবযানী। এর পরেও শেষকৃত্য না করে দেবযানীর মৃতদেহের সঙ্গে ওই ফ্ল্যাটেই বসবাস করছিলেন অরবিন্দবাবু ও তাঁর ছেলে পার্থ। রোজ রাতে দিদির মৃতদেহকে ‘খাওয়াতেন’ পার্থ। এমনকী, দিদির আত্মা তাঁদের সঙ্গেই রয়েছে এমন আবহ সৃষ্টি করার জন্য গোটা বাড়ি জুড়ে লাগানো হয়েছে সাউন্ড সিস্টেম। সেখান দিয়েই নানা ধরনের ‘ভৌতিক’ আওয়াজ শোনা যেত বলে পুলিশ জানাচ্ছে।
বৃদ্ধের দেহটি উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার পরে ওই বাড়ির সামনে দু’জন পুলিশকর্মীকে প্রহরায় রাখা হয়েছিল। তার পরেই ঘটনা অন্য দিকে মোড় নেয়। দুই পুলিশকর্মীকে বাইরে বসে থাকতে দেখে পার্থ কিছুটা অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করেন। পুলিশ জানিয়েছে, ওই যুবক দেওয়ালে ঘুষি মেরে, চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করলে দুই কনস্টেবল ফের থানায় খবর দেন। পুলিশ ওই যুবককে থানায় নিয়ে যায়। তার পরেই জিজ্ঞাসাবাদের সময় পুলিশকে ওই যুবক জানায়, বাড়িতে তিনটি কঙ্কাল রয়েছে। সেগুলির একটি তাঁর দিদির, বাকি দুটি বাড়ির পোষ্যের। দেবযানীর কঙ্কালটি শোয়ানো ছিল খাটের উপরে। সেখানে শুয়ে থাকতেন পার্থও। এই যুবক কাজ করতেন একটি তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায়। পুলিশ জানিয়েছে, বেশ কিছু দিন ধরে তিনি আর অফিসে যেতেন না। বাড়িতেই থাকতেন।
পুলিশ সূত্রে খবর, জেরায় পার্থ জানিয়েছেন, তাঁর দিদি যে মারা গিয়েছেন তা তিনি মানেন না। সেই কারণেই তিনি তাঁর দিদির মৃত্যুর পরে দেহটি কাপড় দিয়ে জড়িয়ে খাটে শুইয়ে রেখেছিলেন। তাঁকে রোজ খাবার দিতেন। এমনকী, বাড়ির পোষ্য দু’টি কুকুরের কঙ্কালও বাড়িতে রেখে দিয়েছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ২০১৪-র অগস্টে কিছু দিনের ব্যবধানে বাড়ির দু’টি কুকুরের মৃত্যু হয়। এই ঘটনার মাস কয়েক পরেই মৃত্যু হয় দেবযানীর। তিনি অপুষ্টিতে ভুগছিলেন। উপবাসেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে পুলিশকে পার্থ জানান। শুধুমাত্র, মৃতা দিদিকে তিনি খাওয়াতেনই না, বাড়িতে তাঁর উপস্থিতি যাতে উপলব্ধি করা যায় সেই কারণে পেন ড্রাইভের মাধ্যমে পার্থবাবু বিভিন্ন কন্ঠস্বর স্টোর করে রেখেছিলেন। সেগুলি বাড়ির বিভিন্ন জায়গায় থাকা ‘সাউন্ড সিস্টেম’- এর মাধ্যমে শুনতেন যাতে তিনি অনুভব করতে পারেন যে বাড়িতে তাঁর দিদি রয়েছেন।
কলকাতা ব্যুরো
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।
কলকাতার কঙ্কালকাণ্ডের আরো খবর: দিদি-ভাইতে চলতো অবাধ যৌনতা


