বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

ভারতের সঙ্গে ব্রিটিশ রেলওয়ের ৮ রুট আবার চালু করছে বাংলাদেশ

transit 1ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা আটটি রুটে আবারো রেল যোগাযোগ স্থাপন হচ্ছে। চালু হচ্ছে নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এ বিষয়ে সিধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের রেলপথমন্ত্রী মুজিবুল হক। এছাড়া দুই দেশের মধ্যে চলাচলের জন্য আরো একটি মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনসহ রেল সংযোগের বিষয়ে আলোচনার জন্য শিগগিরই ভারত যাচ্ছেন বাংলাদেশের রেল মন্ত্রী।

ঢাকা থেকে দর্শনা হয়ে ভারতের গেদে দিয়ে চলছে মৈত্রী এক্সপ্রেস। যাত্রী বাড়ার কারণে ট্রেনটির চলাচল সপ্তাহে দুই দিন থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে তিনদিন। দুই দেশের ভাতৃত্বের প্রতীক এই ট্রেন। আরো একটি রুটে মৈত্রী ট্রেন চালুসহ ভারতের সঙ্গে রেল যোগাযোগ বাড়াতে শিগগিরই রেলপথমন্ত্রী মুজিবুল হক ভারত যাবেন।

ব্রিটিশ আমলে বর্তমান ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের আটটি রেল সংযোগ ছিল। পরে সেগুলো বন্ধ হয়ে যায়। এখন সিঙ্গাবাদ-রোহনপুর, গেদে-দর্শনা, পেট্রোপোল-বেনাপোল মধ্যে দিয়ে ট্রেন চলাচল করে। রাধিকাপুর-বিরল ও শাহবাজপুর-মাইশাষানের রেলরুট চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে দুই দেশ। এছাড়া, আখাউড়া ও আগরতলার মধ্যে নতুন করে একটি রেলপথ তৈরি করা হচ্ছে।

লালগোলা-গোদাগাড়ি, হলদিবারি-চিলাহাটি, গীতলদহ-মোঘলহাট রুট বন্ধ হয়ে গেছে বাংলাদেশের স্বাধীনতার আগেই। বাংলাদেশে রেলপথমন্ত্রী জানিয়েছেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সবকটি রেল সংযোগ পর্যায়ক্রমে চালু করা হবে।

ভারত চায় রেল যোগাযোগের মাধ্যমে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়াতে। বাংলাদেশও নিজেদের স্বার্থ অক্ষুন্ন রেখে এ সম্পর্ক বাড়াতে আন্তরিক। বাংলাদেশের সঙ্গে কানেকটিভিটি বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের সময় দু’দেশের রেলের ১২টি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

বাংলাদেশ রেলওয়ে ও কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, রেল কানেকটিভিটির যে কয়েকটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর তাতে মোট আটটি রুটে রেল চলাচল নতুন করে শুরু হচ্ছে। এর মধ্যে পাঁচটি রুটে গিশগিরই যাত্রীবাহী পণ্যবাহী ট্রেন চলবে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আমজাদ হোসেন বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সফরে দু’দেশের মধ্যে বন্ধ হয়ে যাওয়া পুরানো রেল রুটগুলো চালুর বিষয়ে সিধান্ত হয়েছে। দু’দেশের মধ্যে হওয়া চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী আমারা খুব শিগগিরই পুরানো ৫টি রুটে ট্রেন চালু করবো। বাকি ৩টি রুটে পর্যায়ক্রমে ট্রেন চালু হবে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে হওয়া চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকের মধ্যে রয়েছে, সৈয়দপুর রেলওয়ে ওয়ার্কশপের সংস্কার কাজের জন্য ভারতকে বাংলাদেশের অনুরোধ, মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনের মধ্যেই কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন সুবিধা চালু, দ্বিতীয় মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেন চালু, বিরল-রাধিকাপুর রেল সংযোগ স্থাপন, রহনপুর-সিঙ্গাবাদ ও শাহজাদপুর-মহিশ্মশান রেল সংযোগ, চিলাহাটি-চেংড়াবান্ধা রেল সংযোগ, আখাউড়া-আগরতলা রেল সংযোগ, ফেনী-বিলোনিয়া রেল যোগাযোগ স্থাপন, খুলনা-মংলা রেললাইন সংস্কার এবং বাংলাদেশ-ভারত কনটেইনার সার্ভিস।

বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানান, খুলনা ও বরিশাল অঞ্চল থেকে ট্রেনে কলকাতায় যেতে হলে ঢাকায় আসার প্রয়োজন হয়। বরিশাল ও খুলনা থেকে ঢাকায় এসে ট্রেনে উঠতে হলে যাত্রীদের যেমন অর্থ ব্যয় হয়, একই সঙ্গে সময়েরও অপচয় হয়। এছাড়া খুলনা ও বরিশাল বিভাগের অনেক মানুষই ভারতে তাদের আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাত, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন ইত্যাদির কারণে খুব বেশিমাত্রায় ভারতে যাতায়াত করে থাকেন। এসব বিবেচনায় নিয়ে দুই দেশ খুলনা থেকে কলকাতা ট্রেন সার্ভিস চালুর সিদ্ধান্ত নেয়।

ভারতীয় ঋণে খুলনা থেকে মংলা পর্যন্ত নতুন রেললাইন নির্মাণ ও মৌলভীবাজারের কুলাউড়া থেকে শাহবাজপুর পর্যন্ত বিদ্যমান রেললাইন সংস্কারে দুটি সংশোধিত প্রকল্পে অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।

খুলনা থেকে মংলা পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের সংশোধিত ব্যয় ধরা হয়েছে তিন হাজার ৮০১ কোটি টাকা। ২০১০ সালে প্রথম দফায় অনুমোদিত ব্যয়ের তুলনায় এটি ১২০ শতাংশ বেশি। নতুন ব্যয়ের মধ্যে ভারত সরকার ঋণ সহায়তা হিসেবে ২ হাজার ৩৭১ কোটি টাকা দেবে। বাকি ১ হাজার ৪৩০ কোটি টাকার ব্যয় বহন করবে সরকার। বাংলাদেশ রেলওয়ে প্রকল্পটি ২০১৮ সালের জুন নাগাদ শেষ করবে। এছাড়া ৬৭৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ভারতীয় ঋণে কুলাউড়া থেকে শাহবাজপুর পর্যন্ত বিদ্যমান রেললাইনের সংস্কার করা হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন