বাণিজ্যিকভাবে অপটিক্যাল ফাইবার ট্রান্সমিশন সেবা-সংক্রান্ত সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধে বাংলাফোন লিমিটেডকে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। একই সঙ্গে এ অনুমোদনের আওতায় প্রতিষ্ঠানটির অর্জিত আয়ের ভাগাভাগির অংশ থেকে সরকারের প্রাপ্য অর্থ ১৭ জুনের মধ্যে পরিশোধেরও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সম্প্রতি এসব নির্দেশনা দিয়ে বাংলাফোনকে চিঠি দিয়েছে কমিশন।
বিটিআরসি সূত্রে জানা গেছে, বাংলাফোনকে দেয়া টেলিযোগাযোগ ট্রান্সমিশন সেবার পারমিটের মেয়াদ আর নবায়ন না করার বিষয়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বাংলাফোনের এ সেবার আওতায় থাকা সব প্রতিষ্ঠানকে নেশনওয়াইড টেলিকমিউনিকেশন ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক (এনটিটিএন) লাইসেন্সধারী অপারেটরদের কাছ থেকে সেবাগ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
বাংলাফোন ২০০৪ সালের জুনে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ফিক্সড ফোন সেবাদানের (পিএসটিএন) লাইসেন্স পায়। মূলত ডাটা ট্রান্সফার সেবা ও পিএসটিএন হিসেবে নিজস্ব ব্যবহারের জন্য ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক তৈরির অনুমোদন দেয়া হলেও প্রতিষ্ঠানটি ব্যাপকভাবে বাণিজ্যিক সংযোগ প্রদান করেছে।
লাইসেন্স না থাকলেও নিয়ন্ত্রক সংস্থার দেয়া পারমিটের মাধ্যমে কয়েক বছর ধরেই ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক ব্যবসা চালিয়ে আসছে বাংলাফোন। প্রতিষ্ঠানটির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৯ সালের আগস্টে নেটওয়ার্কের অব্যবহূত ক্ষমতা অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে ভাড়া দেয়ার সাময়িক অনুমোদন দেয় বিটিআরসি। এ অনুমোদনের মেয়াদ ছিল বাংলাফোনের আইএসপি লাইসেন্সের মেয়াদকাল পর্যন্ত (২০১১ সালের অক্টোবর পর্যন্ত)। পরবর্তীতে গ্রাহকদের স্বার্থ বিবেচনায় প্রতিষ্ঠানটিকে ছয় দফা পারমিট দেয় কমিশন। বাংলাফোনের ফাইবার অপটিক ট্রান্সমিশন সেবার সর্বশেষ পারমিটের মেয়াদ শেষ হয় গত ২২ এপ্রিল। গত মাসে বাংলাফোনের পারমিটের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন না করার সিদ্ধান্ত জানিয়ে বিটিআরসিকে চিঠি দেয় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ।
এদিকে পারমিটের শর্ত অনুযায়ী অপটিক্যাল ফাইবার সেবা থেকে প্রতিষ্ঠানটির অর্জিত আয়ের ৫ দশমিক ৫ শতাংশ কমিশনের কাছে নিয়মিত জমা দেয়ার কথা বাংলাফোনের। আয় ভাগাভাগির অংশ হিসেবে সরকারের প্রাপ্য এ অর্থ আংশিক প্রদান করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এ বিষয়ে কমিশনে বিস্তারিত তথ্য দেয়ারও বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে একাধিকবার চিঠি দেয়া হলেও প্রতিষ্ঠানটি এ বিষয়ে কমিশনকে পূর্ণাঙ্গ তথ্য দেয়নি। এজন্য কারণ দর্শানোর নোটিস দেয়া হলেও তার জবাব দেয়নি বাংলাফোন। ৭ জুন প্রতিষ্ঠানটিকে দেয়া এক চিঠিতে ১০ দিনের মধ্যে অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।
বাংলাফোন ২০১১ সালের জুনে এনটিটিএন লাইসেন্সের জন্য আবেদন করে। তবে প্রতিষ্ঠানটিকে আপাতত এ লাইসেন্স না দেয়ার বিষয়ে গত বছরের আগস্টে নিজেদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।



Leave a Reply