সরকারি চাকরিজীবীদের অষ্টম পে স্কেলে টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড নিয়ে জটিলতা অবসানের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর পর্যস্ত পৌঁছেছে। কমিশনের সুপারিশে অর্থ মন্ত্রণালয় টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাদ দিলেও চূড়ান্ত বিচারে এটিকে বাদ দেওয়ার সাহস পাচ্ছে না। এ কারণে বিষয়টি দ্বিতীয়দফা মন্ত্রিসভা পর্যন্ত গড়াচ্ছে। কিন্তু তবুও এর কোনো সমাধানের সম্ভাবনা না থাকায় বিষয়টিতে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মতামত নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। লন্ডনের ব্যক্তিগত সফর শেষে দেশে ফেরার পর অর্থ বিভাগ এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রস্তাব দেবে। এরপর প্রধানমন্ত্রী এটি চূড়ান্ত করবেন। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এই তথ্য জানায়।
নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী আগামী জুলাই থেকে বর্ধিত মূল বেতন পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা। তবে বাড়ি ভাড়ার জন্য ২০১৬ সালের জুলাই পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। আর টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেডের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
জানা গেছে, টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাদ দেয়ায় নতুন পে-স্কেল নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে এক ধরনের চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। কারণ টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাদ দেয়ায় অধিকাংশ সরকারি কর্মচারী আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন। এছাড়া একবারে বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন না হওয়ার বিষয়েও রয়েছে অসন্তোষ। তাছাড়া সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-বোনাসের ওপর কর বসানোর প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। বিদ্যমান আইনে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন ছাড়া অন্যান্য ভাতাদি করমুক্ত রয়েছে। এ বৈষম্য দূর করতে বাজেটে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন, বোনাস ও উৎসব ভাতার ওপর একই নিয়মে কর আরোপের প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।
নতুন পে-স্কেলে টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড না রাখার প্রস্তাব করেছে সচিব কমিটি। এ প্রসঙ্গে অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব ও পে-স্কেল পর্যালোচনা-সংক্রান্ত সচিব কমিটির সদস্য মাহবুব আহমেদ নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম-কে বলেন, ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নের কাজ চলছে। প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার পর মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদনের জন্য ওঠানো হবে। ওখানে সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এরই মধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী মাস থেকেই সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন হবে। তবে পুরোপুরি নয়, জুলাই থেকে শুধু মূল বেতনের অংশ এবং আগের স্কেলের ভাতা পাবেন প্রায় ১৪ লাখ সরকারি চাকরিজীবী।
জানা গেছে, নতুন অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন খাতে অতিরিক্ত ১৫ হাজার ১১৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হলেও কেবল মূল বেতন পরিশোধেই চলে যাবে তা। পাশাপাশি বেসরকারি স্কুল-কলেজের শিক্ষক ও কর্মচারীদের মূল বেতন পরিশোধে অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হবে ১১ হাজার ৫২৪ কোটি টাকা। সব মিলে ২৬ হাজার ৬৪৩ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করতে হবে মূল বেতন পরিশোধে। আর পে-স্কেল পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে গেলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আরো প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে।
বাজেট বক্তৃতায় তিনি বলেছেন, বিদ্যমান আইনে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মূল বেতন ছাড়া অন্যান্য ভাতা করমুক্ত রয়েছে; এটি বৈষম্যমূলক। এ বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন, বোনাস ও উৎসব ভাতার ওপর একই নিয়মে কর আরোপের প্রস্তাব করছি।
অর্থ বিভাগ সূত্র জানায়, ২০১৪-১৫ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন খাতে বরাদ্দ ছিল ৩ হাজার ১৮৮ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে তা ৬ হাজার ৫৫৪ কোটি টাকা রাখা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে কর্মচারীদের জন্য বরাদ্দ ছিল ১০ হাজার ৫২০ কোটি। আগামী অর্থ বছর তা দাঁড়াবে ২২ হাজার ২৭৩ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে সরকারি চাকরিজীবীদের ভাতা খাতে বরাদ্দ ছিল ১৫ হাজার ৬৪২ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে তা ১৬ হাজার ৩২৬ কোটি টাকা রাখা হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


