নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম স্পেশাল॥
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ট্রানশিপমেন্টের পণ্য পরিবহন করা শুরু করেছে ভারত। এরইমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করে মিয়ানমার থেকে জাহাজে আনা ৯২টি কনটেইনার চট্টগ্রাম থেকে ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এছাড়া ৭৩টি কনটেইনার নিয়ে আরও ‘তউঙগি স্টার’ নামের আরও একটি জাহাজ এসে চট্টগ্রাম বন্দরের আউটার নোঙ্গরে অবস্থান নিয়েছে বলেও জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এ তথ্য জানায়।
মিয়ানমার থেকে ডাল ও কাঠজাতীয় পণ্য নিয়ে ‘ওশান প্রোব’ নামে একটি জাহাজ ১৩ জুন চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ছেড়ে যায় ভারতের নভোসেবা ও কোচিন বন্দরের উদ্দেশে। এই জাহাজে তোলার জন্য ইরাবতী স্টার নামের একটি মিয়ানমারের পতাকাবাহী জাহাজ বন্দরে ভেড়ে ২ জুন। তবে চুক্তি না থাকায় মালামাল এক জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে তোলার জন্য চট্টগ্রাম বন্দর কোনো ধরনের চার্জ বা মাশুল পায়নি।
একইভাবে ৭৩ একক কনটেইনার পণ্য নিয়ে ‘তউঙগি স্টার’ নামে আরও একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে বলে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরেই চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ট্রান্সশিপমেন্ট ও ট্রানজিট সুবিধায় পণ্য নিয়ে যেতে আগ্রহী ভারত। প্রাথমিকভাবে মিয়ানমার থেকে আমদানি পণ্য নিয়ে যেতে চায় তারা। ৬ জুন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের সময় এ সংক্রান্ত দুটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়। এ চুক্তি সই হওয়ার আগেই ২ জুন মিয়ানমার থেকে ট্রান্সশিপমেন্টের আওতায় ৯২ একক কনটেইনার পণ্য নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে আসে ইরাবতি স্টার নামে একটি জাহাজ।
সূত্র জানায়, ভারতের ট্রান্সশিপমেন্টের পণ্য চট্টগ্রাম বন্দরে প্রবেশ করার পর চট্টগ্রাম কাস্টমস এ পণ্য থেকে টনপ্রতি ১ হাজার টাকা মাশুল আদায়ের কথা বলে। এ নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হলে পরে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জরুরি বৈঠক করে। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, যেহেতু ট্রান্সশিপমেন্টের পণ্য চট্টগ্রামে খোলা হচ্ছে না বা চট্টগ্রামের বাজারে প্রবেশ করছে না, তাই এই পণ্য থেকে মাশুল আদায়ের সুযোগ নেই। এনবিআরের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ১১ জুন ট্রান্সশিপমেন্টের ওই পণ্য মাশুল আদায় ছাড়াই ছাড় করার সিদ্ধান্ত নেয়।
কাস্টমসের এক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, যেহেতু ট্রান্সশিপমেন্টের পণ্য চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আরেক বন্দরে যাবে, দেশের কোনো রেলপথ, স্থলপথ ব্যবহার করবে না বা দেশের বাজারে এ পণ্য প্রবেশ করবে না, তাই এ পণ্য থেকে মাশুল আদায় প্রযোজ্য নয়। তবে বন্দরের অন্যান্য চার্জ যদি থাকে তা বন্দর দেখবে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রত্যক্ষভাবে বন্দর কোনো চার্জ না পেলেও পরোক্ষভাবে সরকার রাজস্ব পেয়েছে। ভারতের জন্য পণ্য নিয়ে যে জাহাজটি মিয়ানমার থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে সেজন্য একটি চার্জ শিপিং লাইনের মাধ্যমে সরকার পেয়েছে। একইভাবে ভারতে পণ্য নিয়ে যাওয়ার জন্য যে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করেছে সেই জাহাজ থেকেও পরোক্ষভাবে রাজস্ব এসেছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) জাফর আলম বলেন, ট্রান্সশিপমেন্ট নিয়ে আলাপ-আলোচনা হচ্ছে। বিষয়টি এখনও একেবারে প্রাইমারি স্টেজে। ভারত কী পরিমাণ পণ্য বাংলাদেশ তথা চট্টগ্রামের বন্দর ব্যবহার করে ট্রান্সশিপমেন্টের আওতায় নিয়ে যাবে, ট্রান্সশিপমেন্টের পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে বন্দরে কতদিন ফ্রি টাইম দেবে, ফ্রি টাইমের বাইরে কী পরিমাণ মাশুল নেয়া হবে, এসব বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কিছুই হয়নি। সরকার সুনির্দিষ্ট নীতিমালা করলে সেই নীতিমালার আলোকেই বন্দর ব্যবহারের জন্য মাশুল আদায় করা হবে।
বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক (বন্দর ও কাস্টমস) খায়রুল আলম সুজন বলেন, ট্রান্সশিপমেন্টের আওতায় সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আলোকে ভারতকে পণ্য পরিবহনের সুযোগ দিলে সে ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম বন্দর আর্থিকভাবে লাভবান হবে। বাংলাদেশ যেসব পণ্য ইউরোপ-আমেরিকার বাজারে পাঠায় সেসব পণ্যও ট্রান্সশিপমেন্টের আওতায় সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, কলম্বো পোর্টকেলাংসহ বিভিন্ন বন্দর ব্যবহার করে যায়।
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


