বাংলাদেশে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত জামায়াতে ইসলামীর নেতা আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদের আপিল নাকচ করেছেন আপিল বিভাগ। এর ফলে বিএনপি নেতৃত্বাধীন বিগত চারদলীয় জোট সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রী মুহাম্মদ মুজাহিদের মৃত্যুদন্ডের আদেশই বহাল থাকলো। ১৬ জুন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে চার সদস্যের বেঞ্চ সে রায়ই বহাল রাখার ঘোষণা দেন।
বুদ্ধিজীবী হত্যা, গণহত্যা ও ধর্ষণসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ৫টি ঘটনায় ২০১৩ সালের জুলাই মাসে তাকে মৃত্যুদন্ড দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
মুক্তিযুদ্ধের সময় আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ ছিলেন পাকিস্তানী সেনাবাহিনীকে সহায়তার জন্য গঠিত আল-বদর বাহিনীর প্রধান। তাকে সাতটি ঘটনার মধ্যে মোট পাঁচটিতে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
যে ৩টি অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মুজাহিদকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন তার মধ্যে বুদ্ধিজীবী হত্যায় সহযোগিতা ও পরিকল্পনার অপরাধে তার মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেন আপিল বিভাগ। তবে সাংবাদিক সিরাজুদ্দিন হোসেনকে অপহরণের হত্যার অপরাধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ড থেকে মুজাহিদকে অব্যহতি দেন আপিল বিভাগ। আর ফরিদপুরের বকচর গ্রামে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ওপর হামলা চালিয়ে হত্যা ও নির্যাতনের অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশের শীর্ষ আদালত। এছাড়া অন্য দুটি অপরাধে মুজাহিদকে দেওয়া ট্রাইব্যুনালের সাজা বহাল রাখেন আপিল বিভাগ।
রায়ের পর এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, মুজাহিদ আল বদর নেতা ছিলেন, তা প্রমাণিত হয়েছে। এ আল বদর নেতা মুজাহিদ বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডে উষ্কানি দিয়েছে, আদালত সঠিকভাবেই রায়ে দিয়েছেন। আল বদর ক্যাম্পে নিজামী, মুজাহিদ এবং গোলাম আযম গিয়েছিলেন তার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এটর্নি জেনারেল জানান, পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর দণ্ড বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হবে। এরমধ্যে আসামিপক্ষ রিভিউ ফাইল করলে সরকারের রায় বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যাবে। আসামিপক্ষের আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন জানান, আপিল বিভাগের রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি পাওয়ার পর রিভিউ আবেদন করবেন।
এখন পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে রিভিউ আবেদনের সুযোগ পাবেন একাত্তরের আলবদর প্রধান। ২০১৩ সালের ১৭ জুলাই বুদ্ধিজীবী হত্যায় সহযোগিতা ও পরিকল্পনা, সাংবাদিক সিরাজুদ্দিন হোসেনকে অপহরণ ও হত্যা এবং ফরিদপুরের বকচর গ্রামে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ওপর হামলা চালিয়ে হত্যা ও নির্যাতনের মতো অপরাধে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
২০১০ সালের ২ আগস্ট মানবতাবিরোধী অপরাধে মুজাহিদকে গ্রেফতার দেখানো হয়। ওই বছরের ২৯ জুন তাকে গ্রেফতার করা হয় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে। এ আলবদর নেতার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে তার বিচার শুরু হয় ২০১২ সালে ২১ জুন।
নিজস্ব প্রতিবেদক
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডটকম



Leave a Reply