বাঙালি মাত্রই পাতে চাই পদ্মার ইলিশ! কিন্তু বাংলাদেশ সরকার ইলিশ রফতানি বন্ধ রেখেছে। চোরাপথে যা যায়, তা দিয়ে ভারতের বাঙালিদের চাহিদা মেটে না। দীর্ঘদিন ধরেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী চাইছিলেন বাংলাদেশ থেকে ইলিশ ভারতে যাক। এ নিয়ে তিনি কয়েকদফা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথাও বলেছেন। কিন্তু কাজ হয়নি। তবে এবার তিনি বললেন, মালদহের আম বাংলাদেশে রফতানির জন্য চিঠি দিয়েছেন। বিনিময়ে চান পদ্মার ইলিশ। কারণ, গত চার বছর ধরে বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সীমান্তবর্তী মালদহের আম বাংলাদেশে রফতানি বন্ধ রয়েছে।
মালদহের আম বাংলাদেশে রফতানির জন্য বাংলাদেশ সরকারকে চিঠি লেখা হয়েছে বলে নিজেই জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার মালদহের দুর্গাকিঙ্কর ভবনে প্রশাসনিক বৈঠক শুরুর আগে সাংবাদিক বৈঠকে এ কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘আম রফতানি নিয়ে বাংলাদেশ সরকারকে চিঠি লেখা হয়েছে। এটা দুই দেশের আভ্যন্তরীণ বিষয়। এখানে আলোচনা করে লাভ হবে না। চাষিরা আম বিক্রি করতে পারলে আমরা খুশি হব।’’
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে যোগাযোগ করা হলে কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন সূত্র জানায়, মুখ্যমন্ত্রীর চিঠি পাওয়া গেছে। এতে তিনি পশ্চিমবঙ্গ থেকে আম বাংলাদেশে রফতানির অনুরোধ করেছেন। তবে এর সঙ্গে তিনি অবশ্য বাংলাদেশ থেকে ইলিশ ভারতে আমদানির অনুমোদন দেওয়ার প্রসঙ্গটিও এনেছেন। মমতার চিঠিটি কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরন করে ঢাকায় পাঠানো হবে।
এদিকে বাংলাদেশে মালদহের আম নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী চিঠি দেওয়ার খবরে অবশ্য খুশি মালদহ জেলার আম ব্যবসায়ী ও চাষিরা। মুখ্যমন্ত্রীর এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন জেলার ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ী সংগঠন সূত্রে জানা গিয়েছে, চার বছর ধরে বাংলাদেশে আম রফতানি বন্ধ। কারণ বাংলাদেশ সরকার আগের প্রতি কর দ্বিগুণ বাড়িয়েছে। আগে বাংলাদেশের মুদ্রায় কেজি প্রতি আমের জন্য কর লাগত সাত টাকা। চলতি বছর কেজি প্রতি আমের জন্য গুনতে হবে ৩৬ টাকা। তাই ওপার বাংলায় আম রফতানি বন্ধ রয়েছে। উদ্যান পালন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে এবার প্রায় দশ লক্ষ মেট্রিক টন আম উৎপাদন হয়েছে। তার মধ্যে মালদহে রয়েছে পাঁচ লক্ষ মেট্রিক টন। বিপুল পরিমানে আম উৎপাদন হওয়ায় মাথায় হাত পড়েছে জেলার আম চাষিদের।
বাগান থেকে চাষিদের লক্ষ ভোগ বিক্রি করতে হচ্ছে তিন থেকে চার টাকা দরে। হিমসাগার ৭ থেকে ৮ টাকা, ল্যাংড়া ৬ থেকে ৭ টাকা দরে। লোকসানের মুখ দেখতে হচ্ছে চাষিদের। তাই জেলার আম চাষি ও ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে আম রফতানির দিকে তাকিয়ে ছিল। জেলার ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক উজ্জ্বল সাহা বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী আম রফতানি নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা করায় আমরা খুব খুশি। কারণ, বাংলাদেশে আম রফতানি না হলে চাষি এবং ব্যবসায়ীদের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। ’’
কলকাতা ব্যুরো
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।



Leave a Reply