বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

কলকাতার এই সেই বাড়ি, যেখানে চলত নিষিদ্ধ যৌনতা

Skeleton-mystry-Newsworldbd৩ নম্বর রবিনসন স্ট্রিটে দাঁড়িয়ে থাকা ভূতুড়ে লালবাড়ির অন্দরমহলই আপাতত গোটা বাংলার কৌতূহলের নিউক্লিয়াস। কী চলছিল ওই বাড়িতে ? সমাজ থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নেওয়া ব্যক্তিরা কী করতেন ওখানে ? ২টি কুকুর এবং এক মানুষের দেহ পচে গেলেও কেন গন্ধ বাইরে গেল না ? নাকি দুর্গন্ধ লুকোতে অন্য কোনও পথ অবলম্বন করেন দে পরিবারের ২ সদস্য ? গতকাল পর্যন্ত মোটের উপর এই প্রশ্নগুলি ঘুরপাক খেয়েছে মানুষের মনে। আজ তার মধ্যে নতুন সংযোজন যৌনতা !

৩ কঙ্কালের সঙ্গে ৬ মাস এক ছাদের তলায় কাটিয়ে আপাতত পাভলভে ঠাঁই পাওয়া পার্থ দে-র বাড়ি থেকে তাঁর লেখা কয়েকটি ডায়েরি উদ্ধার করে পুলিশ। সেগুলির পাতা থেকে উঁকি মারছে পারস্পরিক অবাধ যৌনতার সম্ভাবনা। পুলিশ সূত্রে খবর, দে পরিবারের সকলেরই নিয়মিত ডায়েরি লেখার অভ্যাস ছিল। এর মধ্যে তদন্তকারীদের ডিপ ফোকাস এখন পার্থ দে-র হাতে লেখা ডায়েরির পাতায়। সেখানে পরতে পরতে মিলেছে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে অবাধ যৌনাচারের সম্ভাবনা। ডায়েরির এক পাতায় পার্থ দে লিখছেন, “বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দিদি যৌনতা জাহিরের চেষ্টা করে। মা দিদিকে ঈর্ষা করতে শুরু করে। দিঘা বেড়াতে গিয়ে মা দিদিকে জোর করে নগ্ন করেন।” অন্য এক পাতায় লেখা, “দিদি যখন বাবার পাশে শুয়েছিলেন, তখন দিদির শরীরে বাবা হাত দেন।” পার্থ দে-র বাবা অরবিন্দ দে তাঁর যৌনাঙ্গ স্পর্শ করেছিলেন বলে ডায়েরিতে লিখেছেন তিনি। বছর ৪৪-এর পার্থ দে আরও লিখছেন, “মা আমায় অক্ষম বলে মনে করে। যৌনতার উদ্রেকের জন্য এক পরিচারিকা এনেছিলেন মা। আমার তাঁকে ভালো লাগত না। পরে এক সুন্দরী পরিচারিকা আনেন মা। সে আমাকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেও সফলতা পায়নি। কারণ, কোনও মেয়ে আমায় আকৃষ্ট করতে পারবে না।”

তবে কি দিদি দেবযানীর শরীরেই নিজেকে সঁপে দিয়েছিলেন পার্থ ? তেমন সম্ভাবনাকেও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ক্রমশ ঘনীভূত হতে থাকা রবিনসন স্ট্রিটের ওই বাড়ির কঙ্কাল রহস্যের জাল ছাড়াতে পুলিশ যখন কার্যত অন্ধকারে হাতড়াচ্ছে, তখন এমন ডায়েরি কার্যত হাতে চাঁদ পাওয়া। কিন্তু, মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তির লেখা ডায়েরির উপরও পুরো ভরসা করতে পারছেন না তদন্তকারীরা। বারবার ডায়েরির পাতা পড়ে মিসিং লিঙ্ক খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করছেন তাঁরা।

পুলিশ সূত্রে খবর, বাড়ির অন্দরমহলে একাধিক হাতে লেখা চিরকুট মিলেছে। মিলেছে নামহীন চিঠিও। কোনও চিঠিতে রয়েছে জীবন নিয়ে তীব্র হতাশার ছাপ। পালটা চিঠিতে কেউ দে পরিবারের ওই হতাশাগ্রস্ত ব্যক্তিকে সব ঠিক হয়ে যাওয়ার দাওয়াই দিয়েছেন। ৩ নম্বর রবিনসন স্ট্রিট থেকে লেখা চিঠির উত্তর আসত কোথা থেকে ? তদন্তকারীরা মনে করছেন, চিঠি চালাচালির রহস্য লুকিয়ে থাকতে পারে ওই ভূতুড়ে বাড়ির অন্দরেই। সমাজ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্যূত দে পরিবারের সদস্যরা হয়তো এক ছাদের তলায় থেকেই একে অপরের সঙ্গে চিঠির মাধ্যমে আলাপ সারতেন। ফলে, পার্থ দে-র ডায়েরির পাশাপাশি ওই চিঠি ও চিরকুটগুলিও তদন্তকারীদের কাছে এখন রহস্যের জট খোলার একটি সূত্র।

তবে, সত্যিটা লুকিয়ে রয়েছে পাভলভ হাসপাতালের ঘরে একা শুয়ে ক্রমাগত বিড়বিড় করে চলা পার্থ দে-র মনেই। যিনি এখন চিকিৎসকদেরও কাছে ঘেঁষতে দিচ্ছেন না। জানা গেছে, সকালে এক মহিলা মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হয়েছিলেন অ্যামেরিকা ফেরত পার্থ। শুরুতেই ওই মহিলাকে নগ্ন হওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। মধ্যবয়স্ক এক ব্যক্তির এমন কাণ্ড দেখে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনও নিজের জগতেই বিরাজ করছেন পার্থ। কী সেই জগৎ। খেই খোঁজার চেষ্টা চলছে।

কলকাতা ব্যুরো
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।
কলকাতার এই ঘটনা সম্পর্কে আরও পড়ুন:

০ আপন দিদি’র মরদেহ, গন্ধ পাবো কেন: পার্থ

০ মৃত্যুর পরও ৬ মাস যৌনসঙ্গী বোনের মরদেহ রেখেছিল ভাই

০ কঙ্কালকাণ্ডে গোলকধাঁধা: বোন-ভাই যৌন সম্পর্কে ঈর্ষা

০ কলকাতার ওই বাড়িতে ভাই-বোনে চলত অবাধ যৌনতা

 

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *