স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি ও দেশটির জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক ১৬ জুন ব্রিটিশ পার্লামেন্টে অভিষেক ভাষণ দিলেন। গত ৭ মে এমপি হওয়ার পর এদিন তিনি আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেন। ছোট বোন শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপের বক্তব্য শুনতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাউজ অব কমন্সের দর্শক গ্যালারিতে উপস্থিত থাকেন।
হাউস অব কমন্সের গ্যালারিতে শেখ হাসিনা ছাড়াও ছিলেন টিউলিপের মা শেখ রেহানা, ভাই রেদওয়ান মুজিব সিদ্দিক, স্বামী ক্রিস পার্সি, প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজিব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল।
যুক্তরাজ্যের সংসদীয় গণতন্ত্রের ঐতিহ্য অনুযায়ী নতুন নির্বাচিত এমপিরা পার্লামেন্টে একটি আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেন। এটিকে বলা হয় ‘মেইডেন স্পিস’।
বিতর্ক ছড়াবে এমন কোনো বিষয় এই বক্তব্যে থাকে না। সাধারণত সংসদীয় গণতন্ত্র ও নিজের সংসদীয় এলাকার ঐতিহ্য ও পূর্বসূরি এমপির অবদান নিয়ে এ বক্তব্য দেওয়া হয়।
এদিনের অধিবেশনের সঞ্চালক হাউস অব কমন্সের ডেপুটি স্পিকার লিন্ডসে হোলি স্থানীয় সময় বেলা ১টা ৬ মিনিটে টিউলিপ সিদ্দিককে তাঁর ‘মেইডেন স্পিস’ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানান।
ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকা-না-থাকা নিয়ে আনীত বিলের ওপর ১৬ জুন পার্লামেন্টে আলোচনা হচ্ছিল। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনের দিনে ‘মেইডেন স্পিসে’র সুযোগ করে দেওয়ার জন্য টিউলিপ বক্তব্যের শুরুতে স্পিকারকে ধন্যবাদ জানান।
প্রায় ১০ মিনিটের বক্তব্যে টিউলিপ তাঁর নির্বাচনী আসন হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড কিলবার্নের নানান ঐতিহ্য ও ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করেন। উল্লেখ করেন, তাঁর নির্বাচনী এলাকার রাজনীতিক বেন ইউকেনহ্যামের কথা। যিনি স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।
নিজের নির্বাচনী এলাকার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কথা বলতে গিয়ে টিউলিপ বলেন, ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানসহ তাঁর পরিবারের ১৯ জন সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এরপর ওই পরিবারের দুই মেয়ে তাঁর মা শেখ রেহানা ও খালা শেখ হাসিনা যুক্তরাজ্যে আশ্রয় নিয়ে হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড কিলবার্নে থাকেন। তাঁর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য শুনতে স্বজনেরা যে হাউস অব কমন্সের গ্যালারিতে আছেন, সে কথাও উল্লেখ করেন টিউলিপ।
টিউলিপ বলেন, যুক্তরাজ্যে তাঁর মায়ের আশ্রয় নেওয়ার গল্প থেকে এটা পরিষ্কার যে, শুধু অর্থনৈতিক কারণে অভিবাসীরা যুক্তরাজ্যে আসছেন, সেটা ঠিক নয়।
যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি ও সংস্কৃতিতে অভিবাসীদের (অবদানের) কথা উল্লেখ করে টিউলিপ বলেন, অভিবাসন বিষয়ে যুক্তরাজ্যের আরও মানবিক হওয়া উচিত। যুক্তরাজ্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন না ছাড়ার পক্ষে টিউলিপ যুক্তি তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছয় দিনের ব্যক্তিগত সফরে যুক্তরাজ্যে আছেন। বুধবার ১৭ জুন তিনি ঢাকার উদ্দেশে লন্ডন ছেড়ে যাবেন।
সংবাদদাতা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।



Leave a Reply