চারদিকে শুধু এ-প্লাস আর এ-প্লাস! দিনদিন আমাদের দেশে বেড়েই চলছে এ-প্লাস প্রাপ্তির সংখ্যা। কখনও দ্বিগুণ, কখনও তিনগুণ, আবার কখনও আটগুণ হারে বাড়ছে এ সংখ্যা! গত কয়েক বছরের পরিসংখ্যান সেটাই জানান দিচ্ছে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, প্রতিবছর এ-প্লাস প্রাপ্তির সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
২০০১ সাল ৭৬ ২০০২ সাল ৩২৭
২০০৩ সাল ১ হাজার ৩৮৯২০০৪ সাল ৮ হাজার ৫৯৭
২০০৫ সাল ১৫ হাজার ৬৩১ ২০০৬ সাল ২৪ হাজার ৩৮৪
২০০৭ সাল ২৫ হাজার ৭৩২২০০৮ সাল ৪১ হাজার ৯১৭
২০০৯ সাল ৪৫ হাজার ৯৩৪২০১০ সাল ৫২ হাজার ১৩৪
২০১১ সাল ৬২ হাজার ২৮৮২০১২ সাল ৮২ হাজার ২১২
২০১৩ সাল ৯১ হাজার ২২৬ ২০১৪ সাল ১ লাখ ৪২ হাজার ২৭৬
২০১৫ সাল ১ লাখ ১১ হাজার ৯০১
গত ১৫ বছরের পরিসংখানে দেখা যাচ্ছে, প্রতিবছর বিপুল হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে এ-প্লাস প্রাপ্তির সংখ্যা! এ পরিসংখ্যান এটাই প্রমাণ করে, দেশে দিনদিন মেধাবী শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, কিন্তু রাষ্ট্র কি এসব মেধাবীকে আদৌ উচ্চশিক্ষার সোপানে পৌঁছাতে সক্ষম হচ্ছে?
এ বছর লক্ষাধিক এ-প্লাস আমরা উপহার দিতে পেরেছি, শিক্ষার হার বৃদ্ধি করতে সক্ষম হচ্ছি, কিন্তু এই মেধাবীদের কি আমরা উচ্চশিক্ষার নিশ্চয়তা দিতে পেরেছি? একজন কোমলমতী শিক্ষার্থী যখন এ-প্লাস পায়, তখন সে আনন্দে উড়তে থাকে। সেও হতে চায় ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার কিংবা আরও বড় কিছু। তার এ চাওয়া কি ভুল? এ স্বপ্ন কি সে দেখতে পারে না? কিন্তু দুর্ভাগ্য হলেও সত্য, আমাদের রাষ্ট্রযন্ত্র তথা শিক্ষাব্যবস্থা আশার বেলুনকে যেমন দ্রুত ফুলিয়ে দিতে পারে, তেমনি নিমিষেই আশার বেলুনকে ফুটোও করে দিতে পারে।
এসএসসিতে এ-প্লাস প্রাপ্তরা হয়তো এইচএসসিতেও পাবে এ-প্লাস। তখনও তারা আশায় বুক বাঁধবে জীবনের চূড়ান্ত গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য, কিন্তু সে যাত্রায় অনেকেই জীবনের হিসাব-নিকাশের কোনো কূল-কিনারা খুঁজে পাবে না। দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় আছে মাত্র হাজার বিশেক শিক্ষার্থীর জন্য উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠান। তাহলে প্রশ্ন- বাকি এ-প্লাস, এ, এবং এ-মাইনাস গ্রেড প্রাপ্তদের ঠাঁই কোথায়? সে যাত্রায় কি তারা আর মেধাবী নয়? নাকি ধরে নেব- শিক্ষাব্যবস্থা, তুমি সন্তান জন্ম দিতে জানো, কিন্তু লালন করতে জানো না।
দেশে প্রতিবছরই বাড়ছে মেধাবী শিক্ষার্থীর সংখ্যা। কিন্তু দেশের শিক্ষাব্যবস্থা মেধাবীদের সঠিক পরিচর্যা করতে বারবার ব্যর্থ হচ্ছে। শুধু তাই নয়, লটারির মতো কঠিন ভাগ্য যাচাইয়ে জয়লাভ করে যারা উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোয় ভর্তি হচ্ছে, তারাও ভেবে পাচ্ছে না তাদের ভবিষ্যৎ কী, কত বছর একটা চাকরির জন্য তাদের হাহাকার করতে হবে। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা সাময়িকভাবে শিক্ষার্থীদের বিরাট মেধাবী বানিয়ে দিচ্ছে, কিন্তু কিছুদিন পর আবার মেধাবীদের ক্রমশ দূরে ঠেলে দিচ্ছে। তাই প্রশ্ন- কখন আমাদের দেশ প্রকৃত মেধাবীদের মূল্যায়ন করবে? নাকি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এ-প্লাস নামক শব্দ উচ্চারণ করে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা রাষ্ট্রীয়ভাবে ভেলকিবাজি করেই যাবে!
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


