কক্সবাজার জেলার টেকনাফ সীমান্তে মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল এম এম আনিসুর রহমান। তবে ‘ভুল বোঝাবুঝির’ কারণে উত্তেজনা থেকে কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে বিজিবি সদস্যদের ওপর মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষীরা গুলি চালিয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।
বুধবার ১৭ জুন ভোরে নাফ নদীতে টহল দেবার সময় এ ঘটনা ঘটেছে। একজন বিজিবি সদস্য আহত হয়েছে, আরেকজন বিজিবি সদস্যকে মিয়ানমারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন রহমান।
গুলিবিদ্ধ সিপাহী বিপ্লবকে (২১) কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে চট্টগ্রামের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আর ধরে নিয়ে যাওয়া বিজিবির নায়েক রাজ্জাককে নাফ নদীর মিয়ানমার অংশে বিজিপির একটি ক্যাম্পে রাখা হয়েছে।
কর্ণেল এম এম রহমান জানিয়েছেন, বুধবার ভোরে নাফ নদীতে নিয়মিত টহলের সময় হঠাৎ করেই বিজিবির ওপর ওপাশ থেকে গুলি ছোড়ে মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী। এরপর বিজিবিও গুলি ছোড়ে ফলে পাল্টাপাল্টি গোলাগুলি হয়– জানান রহমান।
এ ঘটনায় একজন বিজিবি সদস্য আহত হয়েছে, আরেকজন বিজিবি সদস্যকে মিয়ানমারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্ণেল এম এম রহমান।
মিয়ানমার দাবি করেছে বিজিবির টহল দল তাদের সীমান্তে ঢুকে পড়েছিল। কিন্তু বিজিবি’র মন্তব্য মিয়ানমার তাদের সীমানায় ঢুকেছিল।
উত্তেজনারকর ওই ঘটনা নিয়ে দুপুরে ঢাকায় স্বারষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, “নাফ নদীতে দায়িত্ব পালনকালে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হলে এক পর্যায়ে মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) গুলি চালায়।”
ওই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ সিপাহী বিপ্লবকে (২১) কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে চট্টগ্রামের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
আর বিজিবির নায়েক রাজ্জাককে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর মিয়ানমার সীমান্তে একটি ক্যাম্পে রেখেছে বিজিপি।
আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, “পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে শিগগিরই তাকে ফিরিয়ে আনা হবে। এ ধরনের ভুল যাতে না হয় সে বিষয়ে দুই দেশ আরও সতর্ক হবে।”
টেকনাফে কি ঘটেছিল জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নাফ নদীর মাঝ বরাবর ভাগ করে দুই দেশের সীমান্তরক্ষীরা টহল দেয়। বিজিবির একটি জলযান টহল দেওয়ার সময় মাছ ধরার জালে বাধাগ্রস্ত হলে ‘সমস্যার সৃষ্টি’ হয়।
তবে টেকনাফ বিজিবি ঘটনার যে বিবরণ দিয়েছে, তার সঙ্গে কামালের এই বক্তব্যের মিল নেই।
বিজিবি টেকনাফ ৪২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেনেন্ট কর্নেল আবুজার আল জাহিদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে বিজিবির একটি দল ভোরে নাফ নদীর জাদিমুরা পয়েন্টে টহল দিচ্ছিল। একটি মাছ ধরার ট্রলার থামিয়ে তল্লাশি করছিলেন তারা।
“এ সময় পূর্ব দিক থেকে আরেকটি ট্রলারে করে মিয়ানমারের বিজিপি বাহিনীর সদস্যরা এসে বিজিবির নৌকায় গুলি চালায়। ওরা গুলি করার পর বিজিবি সদস্যরাও গুলি ছুড়ে জবাব দেয়। মানবপাচারকারী বা চোরাচালানী মনে করে বিজিপি গুলি করায় ভুল বোঝাবুঝিতে অনাকাঙ্ক্ষিত এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।”
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


